মানিকগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচন এবং একটি
ব্যতিক্রমি আয়োজন
মানিকগঞ্জ পৌরসভা দেশের প্রথম শ্রেনীর পৌরসভাগুলোর একটি ৷ আগামী ৩১ মে ২০০৪,
মানিকগঞ্জ পৌরসভার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৷ মানিকগঞ্জ পৌর এলাকা তাই এখন
নির্বাচনী আমেজে ডুবে আছে ৷ পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর ৷ ক্ষনে ক্ষনে
মিছিল বেরুচ্ছে বিভিন্ন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থনে ৷ এরই মাঝে একটি অনুষ্ঠান
পৌরবাসীর মন জয় করেছে, স্থানীয় প্রগতিশীল মানুষদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত
হয়েছে এবং জনমতকে আন্দোলিত করেছে ৷ অনুষ্ঠানটি হচ্ছে চেয়ারম্যান প্রার্থী-ভোটার
মুখোমুখি ৷ গত ২৪ মে ২০০৪, 'সচেতন নাগরিক সমাজ' ও 'সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন'-এর
উদ্যোগে স্থানীয় কালিবাড়ি প্রাঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা
মুখোমুখি হয়েছিলেন কয়েক হাজার ভোটারের ৷ চেয়ারম্যান প্রার্থী-ভোটার মুখোমুখির এ মহতী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর
আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন
বিভাগের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ; সাবেক মন্ত্রী মোসলেম উদ্দিন হাবু মিয়া, খান
বাহাদূর আওলাদ হেসেন খান ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলী আহমেদ, দি হাঙ্গার
প্রজেক্টের বাবু স্বপন সাহা প্রমূখ ৷ সাবেক সংসদ সদস্য এবং গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা
মফিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মানিকগঞ্জ আদর্শ কলেজের
অধ্যক্ষ আজাহারুল ইসলাম ৷
অনুষ্ঠানে পাঁচজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর মধ্যে চারজন জনাব উজ্জ্বল আহমেদ, জনাব
নাসির উদ্দিন আহমেদ যাদু, জনাব রমজান আলী এবং বাবু সুদেব সাহা উপস্থিত থেকে পৌরপতি
নির্বাচিত হলে কি কি করবেন তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের
রায় প্রার্থনা করেন ৷
প্রার্থীদের ভিতর একজন বলেন, তিনি ভোটারদের কাছে বিশ্বাস চান, যার উপর ভিত্তি করে
তিনি নির্বাচিত হলে কাজ পরিচালনা করবেন বলে কথা দেন ৷ একজন বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে
ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, সর্বোপরি
শহরের উন্নয়নে কাজ করবেন ৷ প্রতিবন্ধী লোকদের উন্নয়নে কাজ পরিচালনা করবেন বলেও একজন
প্রার্থী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ৷ সকল প্রার্থীর বক্তব্যে একটি আশ্চর্যজনক কিন্তু
বাস্তবতাসম্পন্ন মিল দেখা যায়; তারা বলেন যে, মানিকগঞ্জ শহরের উন্নয়নে তারা
যথাসম্ভব একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চান ৷ আর এজন্য তারা সুজনসহ সুশীল সমাজের
সহযোগিতা কামনা করেন ৷ তারা তাদের এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চান, তারা সকলেই
চান শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এককালের নদীটিকে দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে,
মানিকগঞ্জের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ করতে ৷
উপস্থিত জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তারা বলেন, এলাকায় শিশু পার্ক,
বয়স্কদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করবেন, নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন
করার ব্যবস্থা করবেন ৷ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে তারা সৌধ/স্তম্ভ
নির্মানের ব্যাপারে একমত হন ৷ তারা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন পরবর্তী
সময়ে একসাথে কাজ করবেন ও বার্ষিক বাজেট জনগণকে অবহিত করবেন ৷ নির্বাচনের পরেও
এধরনের মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা প্রয়োজন বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন ৷
অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের এ মুখোমুখি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে
একটি মডেল সৃষ্টি হচ্ছে ৷ তিনি উল্লেখ করেন যে, পৃথিবীর অনেক দেশে স্থানীয় সরকারগুলো
খুব শক্তিশালী ৷ অদূরদর্শিতার কারনে আমাদের এখানে তা হয়ে উঠছে না ৷ এ প্রতিবন্ধকতা
দূর করতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি-সরকার সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে ৷
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশে সুশাসনের অভাবের কথা তুলে ধরেন
এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ যে তৃণমূল পর্যায় থেকে গণমানুষের নিবিড় সম্পৃক্ততার
মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে তার গুরুত্ব বর্ণনা করেন ৷ পৌরসভায় সত্ ও যোগ্য নেতা
নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার উন্নয়নে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি
ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন ৷
সভাপতি মফিজুল ইলাম খান অঙ্গীকারপত্র পাঠ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সম্মতি
আদায় করেন এবং সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন হবে; সত্যিকার সত্ , যোগ্য ও
জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থী জয়ী হবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা
করেন ৷
| Home Feedback |
Viewing Problem? Click here, Download and install Bangla font |