|

গত ১৪ জুলাই ২০০৫ সকাল ৯.৩০টায় সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর
আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে 'নিবার্চনী
সংস্কার: সুনামগঞ্জ-৩ উপনিবার্চন
প্রেক্ষিত' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়
৷ এতে দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ
বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন
৷ আলোচনায় সঞ্চালকের ভুমিকা পালন করেন সুজনের আহ্বায়ক অধ্যাপক
মোজাফ্ফর আহমদ
৷
গোলটেবিল আলোচনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজনের সদস্য সচিব ড:
বদিউল আলম মজুমদার
৷ অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলা একাডেমির সাবেক
চেয়ারম্যান সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাবেক সচিব শাহ্ আব্দুল হান্নান,
সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, জাতীয় পার্টির এমপি জিএম
কাদের, আওয়ামী লীগ এমপি ড. আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মো: মাছুম,
জাসদ নেতা আ.স.ম. আব্দুর রব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার
মিলন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের
সাবেক মূখ্য বার্তা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার, অধ্যাপক আসিফ
নজরুল প্রমূখ
৷
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, গত ২৪মে
হাইকোর্টের দেয়া ঐতিহাসিক রায়ের পর অনুষ্ঠিতব্য সুনামগঞ্জ উপনিবার্চনে
এর যথাযথ বাস্তবায়ন দেখার জন্য দেশের নাগরিক সমাজ অপেক্ষা করছিল
৷ আমরা সুজনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি,
কারণ সুনামগঞ্জ উপনিবার্চনে
এই রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয়
নিবার্চনের
জন্য একটি ইতিবাচক ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে
৷ রায় বাস্তবায়নে
নিবার্চন
কমিশনের উদ্যোগ হতাশাজনক
৷ আজকের গোলটেবিল আলোচনায় আমরা বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করবো
এবং নাগরিক সমাজের করণীয় নির্ধারণের চেষ্টা করবো
৷

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ড: বদিউল আলম মজুমদার দেশের রাজনৈতিক
সংস্কার নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিত এবং গুরুত্ব উত্থাপন করেন
৷ তার ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
হাইকোর্ট প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট যে ৮ টি তথ্য হলফনামার
মাধ্যমে জমা দেবার নির্দেশ প্রদান করেছেন এক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে
অনুসরণ করা হয়নি
৷ রায় বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে
নিবার্চন
কমিশন ব্যর্থতারই পরিচয় দিয়েছেন
৷ উদাহরণ হিসেবে তিনি
নিবার্চন
কমিশন কর্তৃক প্রচারিত
প্রাথীর্দের
তথ্য নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করে বলেন, এখানে অধিকাংশ তথ্যই
প্রদান করা হয়নি, এছাড়াও অসম্পূর্ণ তথ্য দেয়া হয়েছে
৷ বেশ কিছু তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্নের অবতারণা হতে পারে
৷ ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রথমত
নিবার্চন
কমিশন রায়টির যথাযথ বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, দ্বিতীয়ত
অসম্পূর্ণ এবং ভুল তথ্য প্রদানকারী
প্রাথীর্দের
বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি
৷ ঐতিহাসিক এই রায়টির মধ্য দিয়ে যে সম্ভাবনার ক্ষেত্রটি সৃষ্টি
হয়েছে তা সূচনাতেই বাধাগ্রস্থ হল
৷ তাই আমাদের দেশের নাগরিক সমাজকে এ মুহূর্তেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে
হবে
৷
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জ
নিবার্চন
নিয়ে একটি সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে
৷ হাইকোর্টের
রায়কে অনুসরণ করেই তার নিরসন হওয়া জরুরী
৷ তিনি রাজনৈতিক দল এবং
প্রার্থীর
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সংস্কারের আহ্বান
জানান
৷
আব্দুল মতিন খসরু সংবিধানের ১১৮ (৪) এবং ১২৬ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে
বলেন, সংবিধান অনুযায়ী
নিবার্চন
কমিশন স্বাধীন
৷ হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাই কমিশনের আন্তরিকতাই
যথেষ্ট
৷ তিনি সুনামগঞ্জের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন,
নিবার্চন
কমিশনের এই ভূমিকা অত্যন্ত দু:খজনক
৷ দেশে নিরপেক্ষ
নিবার্চন
অনুষ্ঠানের জন্য
পযার্প্ত
ক্ষমতা
নিবার্চন
কমিশনের হাতেই রয়েছে
৷ তাদের পক্ষে অস্ত্র এবং অর্থের প্রভাবমুক্ত
নিবার্চন
অনুষ্ঠান সম্ভব
৷ আমাদেরকে খুঁজে দেখতে হবে, কেন
নিবার্চন
কমিশন তার দায়িত্ব পালন করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে
৷
গোলাম সারোয়ার মিলন তার আলোচনায় উল্লেখ করেন, হাইকোর্টের রায়ের
মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে
৷ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মুল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রতিশ্রুতি
সবার্ধিক
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
৷ তিনি একটি জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে এরকম একটি জাতীয় ঐক্য
প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান
৷
আসম আব্দুর রব তার বক্তব্যে বলেন, সুজনের রাজনৈতিক সংস্কারের এই
আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
৷ বর্তমানে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সংকট
তৈরি
হয়েছে
৷ এ অবস্থা নিরসনে সাংবিধান এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার
জরুরী
৷ তিনি সুজনের এ আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান
৷

ড: মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের যে কোন সমস্যার সমাধানে
রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই এগিয়ে আসতে
হবে
৷ তাদের নিজেদের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
৷ এ লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলকে একটি ফোরামে এনে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত
গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নিতে তিনি নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান
৷
জি এম কাদের সুনামগঞ্জের
নিবার্চনে
হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের জন্যে
নিবার্চন
কমিশনের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা এবং স্বাধীনতা রয়েছে বলে জানান
৷ তিনি ভারতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, সেখানেও একই ধরনের রায়
নিবার্চন
কমিশন দৃঢ়তার সাথে বাস্তবায়ন করেছে
৷
বতর্মানের
দূর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে প্রার্থীদের
সম্পর্কে জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা জরুরী
৷ আমাদের
নিবার্চন
কমিশন কেন এক্ষেত্রে ব্যর্থ হল, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে
৷
নিবার্চন
কমিশনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে চাপ প্রয়োগ এবং
প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে তিনি সুজনের প্রতি আহ্বান
জানান
৷
শাহ আব্দুল হান্নান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন
প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
৷ সত্ যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবার জন্য
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান
জানান
৷
অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুম বলেন, সত্ যোগ্য প্রার্থী
নিবার্চন
করা সুশাসনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
৷ এর
পূবর্শ্বর্ত
হচ্ছে জনগণকে যথাযথভাবে তথ্য দ্বারা ক্ষমতায়িত করা
৷ হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে জনগণের তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি
হয়েছে
৷ এখন এটা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হওয়া দরকার
৷
গোলটেবিল আলোচনার এক
পযার্য়ে
সুজনের ওয়েব সাইট
(www.shujan.org
)
উদ্বোধন এবং প্রদর্শন করা হয়
৷ সুশাসন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে বাংলা এবং ইংরেজী উভয় মাধ্যমের এই
ওয়েব সাইটটির উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী
ব্যারিস্টার হামিদা হোসেন
৷
|