বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কার: একটি প্রাথমিক প্রস্তাব*
-
ড. বদিউল আলম মজুমদার,
সম্পাদক, সুজন
আমাদের রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান অসহিঞ্চুতা, পারস্পরিক অসহযোগিতা,
সহিংসতা ও দুর্বৃত্তায়ন জাতি হিসেবে আমাদেরকে এক অনিশ্চিত ও সংকটাপন্ন
অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে ৷ এ অবস্থার উত্তরণ না ঘটাতে পারলে আমাদের বহু
কষ্টার্জিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চরম হুমকির সম্মুখীন হবে এবং আমাদের
অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে ৷ আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার সোপান
হিসেবে শুধুমাত্র নির্বাচন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার
ব্যবস্থার সংস্কারের দাবী ও তা নাকচ করার বিতন্ডায় লিপ্ত ৷
আমাদের অভিজ্ঞতায় বলে, নির্বাচন-সর্বস্ব গণতন্ত্র ইজারাতন্ত্রেরই
নামান্তর ৷ যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট আর
দখলদারিত্ব ৷ এমনি প্রক্রিয়ায় রাজনীতি আজ আমাদের দেশে রাতারাতি ধনী হওয়ার
এক অসাধু ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে এবং জন্ম দিয়েছে ক্ষমতায় যাওয়ার এক অশুভ
প্রতিযোগিতা ৷ রাজনীতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্ত্রাস, সহিংসতা, ভোট জালিয়াতি
ইত্যাদি ৷
নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি
(democratic
procedure)
৷ তবে
নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশমাত্র ৷ গণতন্ত্রকে কার্যকর করার জন্য আরো
প্রয়োজন গণতান্ত্রিক রীতিনীতি
(democratic
principles)
ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান (democratic
institutions) ৷ আমাদের
গণতান্ত্রিক যাত্রাপথকে সুসংহত করতে হলে প্রয়োজন একযোগে গণতান্ত্রিক
পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানের আমুল সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক নিয়মনীতির চর্চা, যার
লক্ষ্য হবে সত্, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতায়
অধিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা ৷ কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের লক্ষ্যে আমরা
নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করছি ৷ অনেকগুলো প্রস্তাবই হয়তো এখনই
বাস্তবায়ন করা যাবে না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদীভাবে এগুলোর বাস্তবায়ন ছাড়া
আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে না ৷ আগামী সাধারণ
নির্বাচনের আগেই যেগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরী সেগুলো তারকা (*) চিহ্নিত করা
হয়েছে ৷
১.০ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি (নির্বাচন)
১.১ ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ
-
ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল হতে হবে ৷*
-
ভোটার তালিকা নিয়মিতভাবে সংশোধন বা আপডেট করতে হবে এবং
ক্রমাগত প্রচারাভিযান চালাতে হবে যাতে নতুন ভোটার ও ঠিকানা পরিবর্তনকারী
ব্যক্তিগণ খুব সহজেই তালিকাভূক্ত হতে পারেন ৷*
-
বছরব্যাপি ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিয়োজনের জন্য পোস্ট অফিসকে ব্যবহার করা যেতে পারে ৷*
-
ভোটারদের ছবি ও ভোটার নম্বর সম্বলিত পরিচয়পত্র দিতে হবে, যাতে ভোটের দিনে নির্বাচনী বুথ স্থাপন করতে না হয় ৷
১.২ নির্বাচনী ব্যয় হ্রাস এবং এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
-
নির্বাচনী ব্যয়সীমা যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি করতে হবে ৷*
-
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবার ১৫ দিনের মধ্যে প্রত্যেক
প্রার্থী তার নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আইনে
বর্ণিত শাস্তি (২-৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড) কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে ৷
হিসাব দাখিল করা না হলে গেজেটে নির্বাচনী ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা যেতে
পারে ৷*
-
দাখিল করা এসকল তথ্য নির্বাচন কমিশন ওযেবসাইটের মাধ্যমে
জনগণের মধ্যে প্রচার করবে এবং যথাযথ নিরীক্ষার পর অসত্য তথ্য
প্রদানকারীদের নির্বাচন বাতিল করবে ৷*
-
সমর্থকদের ব্যয় প্রার্থীর ব্যয় বলে বিবেচিত হবে ৷*
১.৩ নির্বাচনী বিরোধ/মামলা দ্রুততার সাথে নিস্পত্তিকরণ
-
নির্বাচন-পূর্ব বিরোধ রিটার্নিং অফিসার/এসিস্ট্যান্ট
রিটার্নিং অফিসার নিস্পত্তি করবেন, যার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপীল করা
যাবে ৷ কমিশন ১৫ দিনের মধ্যে আপীল নিস্পত্তি করবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই
হবে চূড়ান্ত ৷*
-
সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশন কোন কেন্দ্রের বা কেন্দ্রসমূহের নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করতে পারবে ৷*
-
সুপ্রীম কোর্ট প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ গঠন করবে যাতে
নির্বাচনোত্তর বিরোধ/মামলা নির্ধারিত ছয় মাসের মধ্যেই চূড়ান্তভাবে
নিস্পত্তি হয় ৷*
১.৪ ভোটারদের তথ্যভিত্তিক ক্ষমতায়ন
-
প্রত্যেক প্রার্থী
মনোনয়ন পত্রের সাথে একটি এফিডেভিট দাখিল করবেন, যাতে তার শিক্ষাগত
যোগ্যতা, তার এবং তার নিকটাত্মীয়দের আয়-ব্যয়ের তালিকা, আয়ের উত্স,
সম্পদের তালিকা এবং তিন বছরের আয়কর রিটার্ন সংযুক্ত থাকবে ৷ এফিডেভিট দাখিল
না করলে মনোনয়ন পত্র বাতিল হবে ৷*
-
এফিডেভিটে প্রার্থীর অতীত অপরাধের তালিকা এবং চার্জ গঠন
করা হয়েছে এমন বিচারাধীন মামলার তালিকা সংযুক্ত করতে হবে ৷ যে কেউ বিরোধী
এফিডেভিট (counter
affidavit) দাখিল করতে পারবেন ৷*
-
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি বছর তাদের এবং তাদের
ঘনিষ্টজনদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কিত তথ্য ও আয়কর
রিটার্ন নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে ৷*
-
এফিডেভিটে প্রদত্ত তথ্য এবং বাত্সরিক আয়-ব্যয় ও সম্পদের
হিসাব সম্পর্কিত তথ্য নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশের
ব্যবস্থা করবে ৷ প্রদত্ত তথ্য অসত্য প্রমাণিত হলে কমিশন তার
প্রার্থীতা/নির্বাচন বাতিল করবে ৷*
-
আদালত/তদন্ত কমিশন কর্তৃক প্রমাণিত দুর্নীতিগ্রস্ত ও শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে হবে ৷*
-
ঋণখেলাপী ও সরকারি সেবার বিলখেলাপীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে ৷*
২.০ গণতান্ত্রিক নিয়মনীতি
২.১ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান
-
নির্বাচন আচরণ বিধি সংশোধন করতে হবে যাতে নির্বাচন
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখের ৬ মাস পূর্ব থেকে অথবা কোন কারণে সংসদ
বিলুপ্ত হলে, বিলুপ্তির তারিখ থেকে কোন দল বা প্রার্থী কোন নির্বাচনী
এলাকায় কোন আর্থিক বা প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিতে না পারে এবং দল
তাদের অর্জনেরও প্রচারণা চালাতে না পারে ৷*
-
নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের এবং নির্বাচনের দিনে পেশী শক্তি ব্যবহারের শাস্তি কঠোর ও তাত্ক্ষণিক হতে হবে ৷*
-
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্ট্যাগার্ড ভোটিং (staggered
voting) এর ব্যবস্থা করতে হবে ৷*
-
নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে সকল প্রকার দেয়াল লিখন ও যত্রতত্র
পোস্টার, লিফলেট, প্রচারপত্র ইত্যাদি লাগানোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে
এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে ৷*
-
ব্যালটে 'না' বাচক ভোটের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং যদি 'না'
বাচক ভোট প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশের বেশী হয় তাহলে পুনঃনির্বাচনের ব্যবস্থা
করতে হবে ৷*
-
কোন কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট গড় জাতীয় ভোটের ২০ শতাংশের বেশী
হলে অথবা কোন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ৯০ শতাংশের বেশী পেলে ঐ কেন্দ্রের
ভোট আপনা আপনি বাতিল হওয়ার বিধান করতে হবে ৷*
-
বিজয়ী এবং পরাজিত প্রার্থীর ভোটের মার্জিন এক শতাংশের কম হলে পুনর্গণনার বিধান করতে হবে ৷*
-
ভুয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কেউ ভুয়া প্রার্থী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে ৷*
-
ভোটগ্রহণ সঠিক করার জন্য নির্ভরযোগ্য যান্ত্রিক পদ্ধতি ভবিষ্যতে চালু করতে হবে ৷
-
কোন ব্যক্তি একাধিক আসনে প্রার্থী হতে পারবেন না ৷*
২.২ রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন
-
রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন ও প্রতি দুই বছর পর নিবন্ধন নবায়ন
আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং শুধু নিবন্ধিত দলই নির্বাচনে প্রার্থী
দিতে পারবে ৷
-
নিবন্ধনের শর্ত হবে দলীয় গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত পদসমূহ নিয়মিতভাবে যথাযথ নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা ৷
-
দলের তহবিল গঠন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং সকল লেনদেন
ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হবে ৷ প্রতি বছর দলের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হিসাব
কমিশনে দাখিল করতে হবে ৷ নির্বাচন পরবর্তি হিসাবও নির্দিষ্ট ছকে নির্দিষ্ট
সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে ৷
-
দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে দলের প্রাথমিক সদস্যদের মতামত নেয়ার পদ্বতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ৷
-
দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে অন্ততঃ পাঁচ বছরের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ ও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে ৷
-
অর্থের বিনিময়ে দলীয় মনোনয়ন প্রদান প্রমাণিত হলে দলের নিবন্ধন বাতিল হবে ৷
-
কোন দল ক্রমাগতভাবে ৯০ কার্যদিবস সংসদ অধিবেশন বর্জন করলে দলের নিবন্ধন বাতিল হবে ৷
৩.০ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান
৩.১ রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার
-
সংসদ সদস্য ও নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন ৷
-
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে আগামী তিন টার্মের জন্য সীমিত করতে হবে ৷*
-
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল কাজ হবে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা ৷*
৩.২ নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালীকরণ
-
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ
রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনাক্রমে সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি
কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন ৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারা নিয়োগ পাবেন এবং
সংসদ ভেঙ্গে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ৷*
-
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন নিজস্ব সচিবালয় থাকবে ৷
-
নির্বাচনী আইনসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে ৷*
-
নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বাজেট থাকবে ও নির্বাচন কমিশনের
ব্যয় সংযুক্ত তহবিলের (consolidated
fund) নির্ধারিত ব্যয় হিসেবে গণ্য
হবে ৷*
-
নির্বাচন পদ্ধতির এবং নির্বাচন সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য
স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে চাওয়া মাত্র কমিশনকে সহায়তা করতে
হবে ৷*
-
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার
লক্ষ্যে জনস্বার্থ জড়িত আছে এমন সব সিদ্ধান্ত প্রকাশ্য সভায় গ্রহণ করতে
হবে ৷*
৩.৩ জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বশীলতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ
-
সকল পেশা ও সমাজের সকল স্তরের ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদের উচ্চ কক্ষের বিধান করতে হবে ৷
-
নারীদের জন্য অন্ততঃ এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে ৷
-
সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়নের (৬৫ অনুচ্ছেদ) সাংবিধানিক
দায়িত্বে নিবিষ্ট এবং স্থানীয় উন্নয়ন কাজে জড়িত হওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে ৷
-
নির্বাহী বিভাগের যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে ৷ বিরোধী দল থেকে
সংসদীয় কমিটিগুলোর চেয়ারম্যান হবেন ৷
-
কার্য প্রনালীতে পরিবর্তনের মাধ্যমে সংসদে সদস্যদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে ৷*
-
সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সদস্য তার সদস্যপদ তখনই হারাবেন যদি তার প্রদত্ত ভোটের কারণে সরকারের পতন ঘটে ৷
৩.৪ শাসন প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ
-
সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের আলোকে ও সুপ্রীম কোর্টের
নির্দেশ মোতাবেক প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান
গঠন করতে হবে ৷ এসকল নির্বাচন একই সময়ে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
মেয়াদকালীন অনুষ্ঠিত হবে ৷
-
ক্ষমতা ও দায়দায়িত্বের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে ৷
-
প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমলাতন্ত্রের আমূল সংস্কার এবং একে গণমূখী ও দল নিরপেক্ষ করতে হবে ৷
-
নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে ৷
-
জাতীয় বাজেটের অন্ততঃ এক তৃতীয়াংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছে একটি স্বাধীন অর্থ কমিশনের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে ৷
-
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান করতে হবে ৷
-
ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে ৷
উপরোক্ত সুপারিশগুলো একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা মাত্র, শেষ কথা নয় ৷ এর
মূল লক্ষ্য হলো সংস্কার বিষয়ে তুমুল বিতর্কের সূচনা করা, যা থেকে একটি
জাতীয় ঐকমত সৃষ্টি হবে ৷ আমরা আশা করি যে, আমাদের সচেতন চিন্তাশীল নাগরিকগণ
সোচ্চার হবেন এবং আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন তথা রাজনৈতিক
প্রক্রিয়াকে কলুষমুক্ত করতে একটি ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচী গ্রহণ করতে
প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবেন ৷