ভোটার হোন : আপনার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার (২০/৩/০৬)
(যথাক্রমে সভাপতি ও সম্পাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক)



১লা জানুয়ারি, ২০০৬ থেকে নির্বাচন কমিশন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন ৷ প্রাথমিকভাবে ৩১শে জানুয়ারি এ সময়সীমা নির্দিষ্ট থাকলেও, পরবর্তীতে তা *২০ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে ৷ আমরা খবরের কাগজ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে জানতে পেরেছি, অনেক বাড়িতে তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারী যান নি এবং অনেক বাড়িতে ফরম দেয়া হলেও তা ফেরত নেয়া হয় নি
 

বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে যে সংকটের মধ্যে চলছে তাতে আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷ এ জন্য আপনার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়

আপনার বাড়িতে যদি তথ্য সংগ্রহকারী না গিয়ে থাকেন এবং আপনার বয়স যদি ১ জানুয়ারি ২০০৬-এ ১৮ বছর হয়ে থাকে, তাহলে নিকটস্থ থানা/উপজেলা/জেলা অথবা নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ফরম (ফরম-২, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনে ফরম-৩) সংগ্রহ করে ১২ মার্চের মধ্যে সেটি পূরণ করে উপরিউক্ত সংশ্লিষ্ট অফিসে পৌঁছে দিন
৷ দ্বিতীয়ত, তথ্য সংগ্রহকারী যদি আপনাকে ফরম দিয়ে তা সংগ্রহ না করে থাকে, তাহলে সেটিও যথাযথভাবে পূরণ করে উপরিউক্ত সংশ্লিষ্ট অফিসে ১২ মার্চের মধ্যে পৌঁছাবার ব্যবস্থা করুন ৷ তৃতীয়ত, আপনার এলাকায় যদি কেউ ভোটার তালিকায় অন্তভুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে তাদেরকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করে একই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সজাগ করুন ৷ তাদেরকে সহায়তা করুন ৷

১২ মার্চের পর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, (যে তারিখ এখনোও ঘোষিত হয় নি) ৷ এই খসড়া তালিকা রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (জেলা নির্বাচন অফিসার), সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (উপজেলা নির্বাচন অফিসার) অফিসে টাঙ্গিয়ে দেয়া হবে ৷ আরও টাঙ্গিয়ে দেয়া হবে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন/ওয়ার্ড অফিস/প্রাইমারী স্কুল/হাই স্কুল/ কলেজ/ মাদ্রাসা/কোন সরকারী গৃহ অথবা কোন সুবিধাজনক স্থানে ৷ প্রত্যেক ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তির খসড়া ভোটার তালিকায় নিজের এবং নিজের পরিবারের সদস্যদের নাম সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না তা যাচাই করা আবশ্যক ৷

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে এর উপর সংযোজন-বিয়োজনের ও সংশোধনের দাবি/আপত্তি ফরম ৪ অথবা ৫-এর মাধ্যমে রিভাইজিং অথরিটি (ইউএনও/এডিসি/ডিইসি)-র কাছে জমা দিতে হবে ৷

পরবর্তীতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তা ডিসি অফিস/নির্বাচন অফিস/উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অফিসে টাঙ্গিয়ে দেয়া হবে ৷ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরও যদি কারো নাম সংযোজন-বিয়োজন ও সংশোধনের প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে ফরম-৮ অথবা ফরম-৯ পূরণ করে তা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (জেলা নির্বাচন অফিসার) বা ক্ষেত্র বিশেষে সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (উপজেলা নির্বাচন অফিসার) নিকট জমা দিতে হবে ৷

নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা হয়ে গেলে, ভোটারের পক্ষে নিজ এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন-বিয়োজনের কোন সুযোগ আর থাকবে না ৷ এর জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করতে হবে ৷ তাই এখনই ফরম-২ পূরণ করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করুন ৷ এছাড়াও খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই আপনি আপনার নামটি যাচাই করুন এবং অন্যকে যাচাই করতে উদ্বুদ্ধ করুন ৷

ভোটাধিকার একটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এ অধিকার প্রয়োগ করে আপনি সত্‍ ও যোগ্য লোককে আপনার প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত করুন ৷ আপনার প্রতিনিধি যেন এলাকার সমস্যাবলী ও সম্ভাবনা যথাযথভাবে জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন সে জন্য নির্বাচনের পরও প্রত্যেক সচেতন নাগরিককে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে ৷ তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ১২ মার্চের মধ্যে আপনার নাম ভোটার তালিকাভুক্ত করা ৷ ভোটার তালিকায় সচেতন ভোটারের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া দায়বদ্ধ প্রতিনিধি নির্বাচন সম্ভব হয় না ৷ আপনারা এ দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন ৷

 

* ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করেনি।


Home  / Feedback  / Subscribe

For technical information contact: webmaster
This site is developed and maintained by The Hunger Project-Bangladesh