‘সংলাপ ও সংস্কার: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

 
 

১৭ অক্টোবর, ২০০৬, সকাল ১০.০০টায় ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘সংলাপ ও সংস্কার: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।



গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি নইমউদ্দিন আহমেদ, বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জনাব এ এস এম শাহজাহানও জনাব হাফিজ উদ্দীন খান, বিগ্রেডিয়ার অবঃ সাখাওয়াত হোসেন, জনাব মুসলেউদ্দীন আহমদ, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক জনাব গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট জনাব জগলুল আহমেদ চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক জনাব আব্দুল কাইয়ুম মুকুল, চিত্রাভিনেতা ইলিয়াছ কাঞ্চন, প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ড. তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ। অধ্যাপক মোজ্জাফর আহমেদ প্রথমেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি সুজনের কার্যক্রম সর্ম্পকে উপস্থিত সকলকে অবগত করেন।

অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন নিয়ে সুজন ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করে চলেছে। স্থানীয় ভোটাররা যেন জেনে শুনে বুঝে ভোট দিতে পারে সে ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সুজন রাজনৈতিক দলের সংস্কার, তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংস্কার, নির্বাচনী আইন, নির্বাচনী ইশতেহার প্রভৃতি নিয়ে কাজ করছে। এছাড়াও তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নির্বাচনী অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে সুজন। তিনি সংলাপ ও সংস্কার সর্ম্পকে বলেন, সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করা কোন কঠিন বিষয় নয়। এ প্রস্তাবগুলো বাস্-বায়িত করতে হবে এবং বাস্-বায়নের দায়িত্ব রাজনীতিবিদের। শুধুমাত্র তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের পরির্বতন নয়, বরং সামগ্রিক পদ্ধতির পরিবর্তনের মাধ্যমে চলমান সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে পারলে সব রকমের গডফাদার, পরিবারতন্ত্র এবং কালো টাকার অ থাকবে না। মাত্র ৫দিনের সংলাপ প্রক্রিয়া কিছু বিষয়ের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সেখান থেকে উত্তরণের পথ আমাদের বের করতে হবে।

জনাব মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, দূর্নীতি আমাদের দেশকে ধবংস করে ফেলছে। দূর্নীতি বন্ধ করা না গেলে আমরা কখনই নিজেদেরকে সৎ, যোগ্য হিসাবে প্রমাণ করতে পারবো না। তাই যারা উদ্যোগী আছেন তারা একত্রিত হয়ে দূর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারেন। বর্তমানে যে সংলাপ হচ্ছে তাতে মনে হয়, সংলাপ নয় যেন দুই দলের প্রলাপ হচ্ছে। দেশের এ ধরনের পরিস্থিতিতে দুইনেত্রী আজ কোথায়? তারা দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সংলাপকে অবহেলা করছেন। সংস্কারের জন্য যে প্রস্-াবগুলো এসেছে সেগুলোর মধ্য দিয়েই সংস্কার করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্নরূপে স্বাধীন হতে হবে। ভোটর লিষ্ট যদি সঠিক না হয় তবে নির্বাচন বাতিল হয়েও যেতে পারে।

জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এ আলোচনার বিষয়বস্তু তত্বাবধায়ক সরকারকে নিয়ে। গণতন্ত্রের নামে আজ দেশে ছেলে খেলা চলছে। বিদেশ থেকে প্রেসক্রিপশন এনে এদেশে নিজেদের পছন্দমত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটই গণতন্ত্র নয়, ভোটই নির্বাচন নয়। সার্বিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, কারণ এর মাধ্যমেই সাধারণ মানূষের কল্যাণ সাধন হতে পারে। আর এর ফলে জনগণের তন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।

বিচারপতি নঈমউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বিষয়টি সংবিধানই নির্ধারন করে দিয়েছে। কেএম হাসান যদি নিজ থেকেই সরে যায় কিংবা বিব্রতবোধ করে তবে খুব স্বাভাবিকভাবেই চলমান সঙ্কটের সমাধান হতে পারে। এখানে রাজনৈতিক দলগুলির কথা বলার কোন অবকাস নেই। নির্বাচন কমিশনারের যে ক্ষমতা রয়েছে তা সঠিক এবং সত্য পথে প্রয়োগ করা উচিত। নির্বাচন কমিশন যদি সচেতন হয় তবে আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। তা না হলে দেশ এক রক্তাক্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে।

জনাব এ এস এম শাহজাহান বলেন, সংলাপ হচ্ছে দুদলের মধ্যে। দুইদলের নেতারা বলছেন যে সংলাপ সফল হয়েছে। তাহলে কেন তাদের দলের লোকজন রাজপথে শ্লোগান দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও এর কাঠামোগত সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র ৫জন ব্যক্তি দিয়েই আলোচনা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। সংলাপে দলীয় র্স্বাথ প্রাধান্য পাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় এবং জনগনের র্স্বাথকে অনেক গন্য বলে মনে হয়।

বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, আমাদের দেশে যদি সত্যিকারের উন্নয়ন করার দরকার হয় তবে প্রথমে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন সাধন করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকা এবং বুথের সংখ্যা আরো ছোট করা উচিত। আমরা চাই আমাদের দেশটা গনতান্ত্রিক থাকুক। তাই আবেগ দিয়ে নয় সঠিক ও বাস্-ব পন্থায় কিভাবে গনতন্ত্র রক্ষা করা যায় তাই বিবেচনা করা উচিত।


জনাব গোলাম কুদ্দুস বলেন, ১৪ কোটি মানূষ যে অনিশ্চয়তার মধ্রে আছে তা থেকে তারা উত্তরন চায়।
জনাব আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের েপ্রথমে সংস্কার হওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশন কেন তার ক্ষমতা কার্যকর করছেন না? বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রচলিত আইনের সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।

জনাব আবদুল কাইয়ুম বলেন, রাজনৈতিক দলের সংস্কার এবং তার সাথে সাথে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার দরকার। নবম জাতীয় নির্বাচন হতে হবে এবং সকল দলকেই এতে অংশগ্রহন করতে হবে। এর পাশাপাশি পরাজয় মেনে নেওয়ার মনোভাব থাকতে হবে।
জনাব হামিদুল ইসলাম তারেক বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি সৎ পথে চলেন তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন প্রয়োজন নেই।

 
     

Home  / Feedback  / Subscribe

For technical information contact: webmaster
This site is developed and maintained by The Hunger Project-Bangladesh