|
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন,
নির্ভুল ভোটার তালিকা
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত
৷ নির্ভুল ভোটার তালিকা
প্রণয়নের জন্য সময় নষ্ট না করে এখনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদকরণের কাজ
শুরু করতে হবে ৷ তিনি বলেন এদেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে গণতান্ত্রিক
প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে ৷ ভোটার তালিকা নিয়ে জনমনে একটা
অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তবে জনগণ চায় নির্বাচন হোক ৷ সাধারণ মানুষ সুশীল
সমাজের কর্মকাণ্ডের কারণে সচেতন হচ্ছে ৷ তিনি নির্বাচনী চেতনা সৃষ্টিতে
সুজনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন গণতন্ত্রের জন্য আমাদের
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কার করতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে তাদের চলে যেতে
হবে ৷ নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করে তুলতে হবে, রাজনৈতিক দলের
মাঝে গণতন্ত্র আনতে হবে, এছাড়া মনোনয়নে স্বচ্ছতা আনতে হবে মনোনয়ন যাতে
বিক্রি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ৷
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সকল আপত্তি উপেক্ষা করে ভোটার তালিকা
হালনাগাদের কাজ শুরু করা হয়েছে কিন্তু এতে সাধারণ জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত
হবে কি না দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের তা দেখা জরুরি ৷ এছাড়া আইনের আলোকে
সুপ্রীম কোর্টের রায় কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা দরকার ৷ নির্বাচন
কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আইন, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের
রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পরিপন্থী ৷ তিনি বলেন "নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত
বদল করতে হবে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনাররা
তাদের যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারে নি, তাই জাতীয় স্বার্থে তাদের পদত্যাগ
করতে হবে ৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ করতে হবে ৷ নাগরিক
হিসেবে আমাদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে ৷
ড. কামাল হোসেন বলেন 'সরকার, সচেতন নাগরিক, মিডিয়া, বিরোধী দল সবার
মধ্য যখন প্রশ্ন উঠেছে তখন আর বিতর্ক থাকতে পারে না ৷ তাই এখন তাদের
স্বসম্মানে সরে যাওয়া উচিত ৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা করার যে কথা
এসেছে তা নিয়ে এখন আর বিতর্কের অবকাশ নেই ৷ সংবিধান অনুসারে নির্বাচন
কমিশনের দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া সবার আস্থাভাজন হতে হবৱে ৷ কিন্তু বর্তমান
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই তার নিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করেছে ৷ তিনি আরো
উল্লেখ করেন ভোটার লিস্টের জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়েছে ৷ কিন্তু যে সময় আছে
সে সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব ৷
বিচারপতি নইমউদ্দিন বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনে যাবার
প্রয়োজন ছিল না, এ বিষয়ে আইনেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে ৷ তিনি এ
সম্পর্কিত আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাখ্যা করেন ৷ সুলতানা কামাল বলেন,
বর্তমান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করলে, পরবর্তীতে সর্বসম্মতিক্রমে কিভাবে
নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া যায় তা এখনি চিন্তা করা প্রয়োজন ৷ তিনি
বলেন, যারা আসবেন তারা যে নিরপেক্ষ হবেন সে বিষয়ে চিন্তা করে দেখা জরুরি ৷
এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এই কমিশন সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে
ফেলেছে, তাই তারা সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করলেও জনগণের কাছে তা
গ্রহনযোগ্য হবে না ৷ এএসএম শাহজাহান প্রেসিডেন্ট এর সাথে সাক্ষাত করা, রিট
করা, সরকার দলীয় প্রধান, বিরোধী দলীয় প্রধান এবং প্রধান নির্বাচন
কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করার প্রস্তাব সবগুলো মিলিয়ে একটা
একশন
প্ল্যানের দিকে এগুনোর কথা ভাবা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন ৷

মুসলেহউদ্দিন আহমদ বলেন নির্বাচন কমিশনার থাকছে কি থাকছে না এখন তাই
প্রশ্ন ৷ নির্বাচন কমিশনাররা যদি পদত্যাগ করেন তাহলে তা কীভাবে হবে তাও
ভেবে দেখতে হবে ৷ মাহফুজ আনাম তার বক্তব্যে বলেন, ডেইলী স্টার, প্রথম আলো
ভোটার তালিকা সম্পর্কিত এ সকল প্রশ্নের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে ৷
নাগরিক দ্বায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এ কাজ করছি ৷ সিইসিসহ দুই জন কমিশনারকে
পদত্যাগ করতে হবে ৷ আইনী দিকগুলো তুলে ধরে আমরা এর জন্য জনমত গঠন করেছি ৷
বর্তমান সিইসি'র নেতৃত্বে সঠিক ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না ৷ সুষ্ঠু
নির্বাচনের জন্য সুজনের পাশে থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন ৷ মুনিরা খান
বলেন যেভাবে রায় হয়েছে সেভাবে কাজ হচ্ছে না ৷ তাই আমরা একটি রিট করার
উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি ৷
গোলটেবিল আলোচনায় সকলের আলোচনার ভিত্তিতে যে সকল প্রস্তাবসমূহ বেরিয়ে
আসে সেগুলো হল _ বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে মিডিয়ায় বিবৃতি প্রদান,
সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আবেদন, পরবর্তী প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ও নির্বাচনার কমিশনারসহ (সাংবিধানিক সকল পদে) ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ
করা, প্রয়োজনে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার ব্যবস্থা করা ৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার
তালিকা আপডেট করা অন্যতম ৷ এছাড়া গোলটেবিলে উত্থাপিত সুজনের প্রস্তাবসমূহের
প্রতি উপস্থিত সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেন ৷ |