| |
‘নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন ও
সার্বিক সংস্কারের দাবিতে গত ২৩ নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০.০০টায়
‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে মানিক মিয়া এভিনিউতে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সুজন মনে করে, শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নয় এর সাথে
সার্বিক সংস্কারের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে
নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালীকরণ এবং রাজনৈতিক দলের
সংস্কার ব্যতীত বর্তমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাই যথাসময়ে
সকলকে নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন
কমিশনের পূনর্গঠনসহ সার্বিক সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্যই
স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক সংগঠন ‘সুজন’-এর নেতৃত্বে ব্যাপক
স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্য দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
পুনর্গঠনসহ
নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করা; গণতন্ত্র
চর্চাসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রাজনৈতিক
দলসমূহকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আনা, প্রার্থীদের তথ্য
ভোটারদের অবগত করা, ব্যালট পেপারে ‘না-ভোট’এর ব্যবস্থা রাখা এবং
ভোটার তালিকা সংশোধনসহ সুজন প্রস্তাবিত
অন্যান্য সংস্কার প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের
দাবিতে সুজন এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। একই সাথে মহামান্য
রাষ্ট্রপতি ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
মহোদয়কে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের দাবিটিও
মানববন্ধনে জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। কর্মসূচিতে সুজন কেন্দ্রীয়
কমিটির সদস্যগণ ছাড়াও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ,
অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন পেশাজীবী, ছাত্র-ছাত্রীসহ
সর্বস্-রের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ’তে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত মানববন্ধন
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, সুজনের সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
এএসএম শাহজাহান, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিশিষ্ট
কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিগ্রেডিয়ার অব. সাখাওয়াত হোসেন,
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অজয় রায়, নারী নেত্রী ড. হামিদা
হোসেন, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক সচিব জনাব বদরে
আলম খান, নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী জনাব জাকির হোসেন, বাংলাদেশ
পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহিদুল হক খান, চলচ্চিত্র
পরিচালক কাজী হায়াৎ, ড. মেহের-ই-খুদা, অধ্যাপক কায়কোবাদ, জনাব তপন
চৌধুরী প্রমুখ।
এই
কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণ
এদেশের সকল ক্ষমতার উৎস। দেশব্যাপী সুজনের সংস্কার আন্দোলন আজ
জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য ও
কার্যকর সংসদের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্য
গঠন করে সুজনের এই নাগিরক অধিকার আন্দোলন প্রক্রিয়ার সাথে আমি
একাত্মতা প্রকাশ করছি। জবাবদিহিতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয়
সরকার শক্তিশারীকরণের জন্য সার্বিক সংস্কার প্রয়োজন। জনাব সৈয়দ
আবুল মকসুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি কেবল কোন দলের
দাবি নয় এটি আজ সার্বজনীন দাবিতে পরিনত হয়েছে। জনাব এ এসএম
শাহজাহান বলেন, সুজন সংস্কার বলতে অর্থবহ সংস্কারের কথা বলে যার
মধ্য দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশনকে
শক্তিশালী করার জন্য দুর্বল, অকার্যকর এই কমিশনের সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে এবং
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিরাজমান ফাঁক-ফোঁকর দূর করতে হবে। নারী
নেত্রী ড. হামিদা হোসেন বলেন, দুই একজন ব্যাক্তির পরিবর্তনের মধ্য
দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নির্বাচন
কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। জনাব অজয় রায়
বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনের ছুটিতে যাওয়ায় আমরা একধাপ এগিয়েছি
কিন্তু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আরো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে,
সেগুলো দূর করতে হবে। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন
ব্যাপক গণজাগরণ। বিগ্রেডিয়ার এম সাখায়াত হোসেন বলেন, প্রধান
নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তনই বর্তমান সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়।
রাজনীতি আজ দুবৃত্ত ও কালো টাকার মালিকদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনকে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংস্কার আজ
সার্বজনীন দাবি। জনাব কাজী হায়াৎ বলেন, সংসদ হবে সৎ মানুষের জন্য।
চোরকারবারী ও অসৎ ব্যাক্তিরা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে
সেজন্য তিনি আইন প্রনয়ণের কথা বলেন। জনাব জাকির হোসেন বলেন, নাগরিক
হিসাবে দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা আমাদের দ্বায়িত্ব। তিনি সুজনের
দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, সার্বিক সংস্কারের জন্য
পয়োজন ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন। ড. বদিউল আলম মজুমদার নাগরিক
অবস্থান থেকে সক্রিয় হয়ে আজ ঐক্যবদ্ধভাবে সার্বিক সংস্কারের জন্য
মানববন্ধন সফল করার জন্য সকলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমাদের
দেশে আজ এক অনিশ্চত পরিস্থিতিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থা থেকে
উত্তরণের জন্য নাগরিকদের সোচ্চার ও একত্রিত হতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক
সরকারকে সদাচারণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে
স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে এবং নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য
ব্যক্তিদেরকে এই প্রতিষ্ঠনে নিয়োগ দিতে হবে। তিনি আরো বলেন,
নির্বাচন হতে হবে অর্থবহ, যার মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে
নিবেদিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং সুশাসন
প্রতিষ্ঠার পথ উন্মোচিত হবে।
বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, নাগরিক সংগঠন ও বিপুল সংখ্যক সচেতন
নাগরিক এ মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন
পুনর্গঠন ও সার্বিক সংস্কারের দাবি জানান। |
|