| |
গত ০৭ ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১টায়
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি হল
রুমে “ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা ও উত্তরণের পন্থা” শীর্ষক একটি
সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ-এর সভাপতিত্বে উপরিউক্ত সংবাদ সম্মেলন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন - সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার,
বিশিষ্ট কলাম লেখক ও গবেষক জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ, নারী নেত্রী ড.
হামিদা হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ
ও নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জনাব জাকির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন,
সঠিক ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
ভোটার তালিকাকে সঠিক ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
উপদেষ্টাদের আন্-রিক উদ্যোগের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে নির্বাচন কমিশন যে ভোটার
তালিকা সংশোধন করছেন তা কতটা গ্রহণযোগ্য ও সঠিক হবে? এছাড়া তিনি
সংবাদপত্রের রির্পোটের কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন
দেশব্যাপী ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে মাত্র ৩০ লাখ ফরম
মাঠে পাঠিয়েছেন। কমিশন এত স্বল্প সংখ্যক ফরম মাঠে পাঠালেন কেন?
আমাদের পরিবার সংখ্যাই হবে অন্-ত তিন কোটি। এছাড়াও হালনাগাদকৃত
তালিকায় অন্-ত ১ কোটি ২১ লাখ ভোটারের নাম ত্রুটিপূর্ণ বলে তিনি তার
বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত নামই
একমাত্র সমস্যা নয়। তিনি গত ৫ই ডিসেম্বর কমিশনের জারি করা পত্রের
উদ্ধৃতি টেনে বলেন, পত্রে শুধুমাত্র নাম কর্তনের বিষয়েই নির্দেশনা
দেয়া হয়েছে। এতে নাম সংযোজনের ব্যাপারে কোন কিছু বলা নেই।
ড. বদিউল আলম মজুমদার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন,
হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা থেকে শুধুমাত্র নাম কর্তন করার উদ্যোগ
নেওয়ার ফলে ভোটার তালিকা ক্রুটিমুক্ত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ
আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বলেই আমাদের আশঙ্কা। তিনি প্রশ্ন রেখে
বলেন, এর কারণ কি কমিশনের অযোগ্যতা, না গণস্বার্থের প্রতি উদাসীনতা,
না উভয়ই? আমরা দেখেছি যে, অতীতেও নির্বাচন কমিশন গণস্বার্থ পরিপন্থী
কাজ করেছে। প্রার্থীদের সর্ম্পকে ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি সংক্রান্-
গত বছরের হাইকোর্টের রায় বাস্-বায়নে কমিশনের অনীহা এর প্রকৃষ্ট
উদাহরণ বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের
সাম্প্রতিক উদ্যোগ সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন,
এগুলো হল - কী পদ্ধতিতে পুনঃহালনাগাদের কাজটি করা হবে? কারা এ সকল
সহায়ক কর্মকর্তা? একাধিকবার তালিকাভুক্ত নাম কীভাবে চিহ্নিত করা হবে?
বর্তমান পদ্ধতিটি কী আগের থেকে ভিন্ন হবে? এছাড়া তিনি মূল প্রবন্ধে
ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিছু সুস্পষ্ট প্রস্-াবও
তুলে ধরেন। এগুলো হল - বড় বড় শহরগুলো, বিশেষত ঢাকা ও চট্টগ্রামের
ভোটার তালিকা নতুন করে প্রণয়ন করা, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত আগস্ট
মাসের হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকাকে খসড়া ভোটার তালিকা হিসেবে প্রকাশ
করা, ভোটার তালিকা ক্রটিমুক্ত করার কাজটি সম্পর্কে রেডিও, টেলিভিশন
ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা এবং একটি স্থায়ী
ভোটার তালিকা তৈরি করা। |
|