| |
“স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে
কার্যকর ও শক্তিশালীকরণে করণীয়”
গত ১৪ জুলাই, ২০০৭ “সুজন-সুশাসনের জন্য
নাগরিক”-এর উদ্যোগে সিরডাপ মিলনায়তনে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
“স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও শক্তিশালীকরণে করণীয়” শীর্ষক এই
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন ‘সুজন’- সমন্বয়কারী জনাব দিলীপ
কুমার সরকার। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, বিশিষ্ট গবেষক ও কলামিস্ট জনাব
সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাবেক এমপি এডভোকেট রহমত আলী, অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান,
সাবেক এমপি গোলাম সারোয়ার মিলন, সাবেক এমপি কর্ণেল শওকত আলী ও ড. আব্দুর
রাজ্জাক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী,
ডেমোক্রেসী ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক জনাব তালেয়া রেহমান, প্রফেসর
গিয়াসউদ্দীন আহমেদ, ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রিপট্রাস্টের নির্বাহি পরিচালক
আরোমা দত্ত, সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব বদরে আলম খান, স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ
এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান তপন,
অধ্যাপক হান্নানা বেগম, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জনাব
আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, ‘বাইসস’ এর মহাসচিব হাসান রকিব আজাদ, সাবেক উপজেলা
চেয়ারম্যান দয়াল আব্দুল খালেক, গাজী মো: খোরশেদ আলম, আহমদ বশির, বিজয় কুমার
বড়-য়া, সুভাষ সিংহ প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার হচ্ছে
গণতন্ত্রের প্রথম স্-ম্ভ। একটি দায়িত্বশীল স্থানীয় সরকার সেই এলাকার
অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু
করতে পারে। তিনি আরো বলেন, মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্থানীয়
সরকারকে শক্তিশালীকরণের কোন বিকল্প নেই এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের
মাধ্যমেই স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মূল প্রবন্ধে সরকারের সম্প্রতি স্থাপিত “স্থানীয় সরকার শক্তিশালী ও গতিশীল
কমিটি”র কার্যপরিধির অনুসরণে ১৭ দফার একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়।
উত্থাপিত রূপরেখায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার হবে তিন স্-র বিশিষ্ট এবং
প্রত্যেক স্-র নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। ওয়ার্ড সভার
মাধ্যমে পরিষদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবন্ধে নির্বাচিত
প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ন দায়-দায়িত্ব সম্পন্ন স্থায়ী কমিটি গঠন,
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারের নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রন ও
তত্ত্বাবধান থেকে মুক্ত করা এবং স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়।
প্রস্-াবিত রূপরেখায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে
হাইকোর্ট কর্তৃক অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘গ্রাম সরকারকে’ বিলুপ্ত, সংসদ সদস্যদের
খবরদারিত্বের অবসান, নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রত্যেক পরিষদের প্রত্যেক
নির্বাচনী এলাকা (ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন) থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষ সরাসরি
নির্বাচনের এবং ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সকল পরিষদের এক তৃতীয়াংশ সভাপতি পদ
নারীদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়। নির্বাচনে
প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সর্ম্পকে বলা হয় যে, কোন ব্যাক্তি একইসাথে
দু’টি নির্বাচিত পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না এবং সরাসরি বা পরোক্ষভাবে
স্থানীয় সরকারের সাথে ব্যবসায়িক সর্ম্পক আছে এমন ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী
হতে পারবে না। এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে গুরুত্বপূর্ণ দায়
দায়িত্ব ও সম্পদ গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানানো
হয়।
প্রস্তাবিত রূপরেখার বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে
আলোচকবৃন্দ একমত পোষণ করে বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণে
গ্রাম পর্যায়ে সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সম্পদের সঠিক পরিসংখ্যান বের করার
জন্য ‘গ্রাম সভা’ কে কার্যকর রাখা প্রয়োজন। বক্তারা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান
সমূহের জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ‘ন্যশনাল ইন্সটিটিউট অব লোকাল
গর্ভমেন্ট’ - শক্তিশারী করে ‘নোডাল এজেন্সি’ তে পরিণত করার সুপারিশ করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙখলা বিষয়ে জনগণের সাহায্য সহযোগিতা নিশ্চিত করার
জন্য কমিউনিটি পুলিশের কথাও উল্লেখ করেন। স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে অধিকাংশ
ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে বন্টন করাসহ স্থানীয় সরকারের উপর আমলারা যেন কোন
প্রভাব সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়টির দিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে
আলোচকগণ মতামত ব্যক্ত করেন।
|
|
|