০৩ জুন, ২০০৭
 

“ভোটার তালিকা প্রণয়ন: প্রস্তাবিত পদ্ধতির পর্যালোচনা”

গত ০৩ জুন, ২০০৭ সকাল ৯.৩০টায় ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর ভিআইপি লাউঞ্জে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। “ভোটার তালিকা প্রণয়ন: পস্তাবিত পদ্ধতির পর্যালোচনা” শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘সুজন’- এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বিশিষ্ট গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ-এর সঞ্চালনায় এ আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ‘সুজন’ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ, জনাব এএসএম হাফিজউদ্দিন খান, জনাব শাহ আব্দুল হান্নান, জনাব এএইচএম মোফাজ্জল করিম, জনাব আসম আব্দুর রব, অধ্যাপক খালেদা খানম, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জনাব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর, জনাব সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, ড. মস্তাফিজুর রহমান, এ্যাডভোকেট সালমা আলী, জনাব ফিরোজ এম হাসান, অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, ড. শওকত আরা, প্রফেসর হান্নানা বেগম, জনাব বদরে আলম খান, জনাব মেহের-ই-খোদা, জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম, জনাব মিতালী হোসেন প্রমুখ।

অধ্যাপক মোজাফফ্‌র আহমদ বলেন, ভোটার তালিকা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত। আমরা নির্বাচন কমিশনের ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমরা কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি অন্তত ফরম পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচির জন্য। তবে এখনো কমিশনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমাদের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, গণদাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে সকল ভোটারের জন্য ছবি সম্বলিত তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেও, পরবর্তীতে কমিশন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। অর্থাৎ কমিশনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ছবি না তুলেও এখন ভোটার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা কাম্য নয়।

উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্-র্ভুক্ত করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আর নাগরিকদের ভোটার হওয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই নাগরিকদের ভোটার হওয়ার জন্য বাধ্য করা যাবে না এবং নির্বাচন কমিশনকেই সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দায়িত্ব নিতে হবে। ক্যাম্প স্থাপন করে তালিকা প্রস্তুত করতে গেলে অনেক ভোটার বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এ কারণে প্রবন্ধে নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকায় ছবি তোলার জন্য ভোটারদের বাড়ি বাড়ি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া মূল প্রবন্ধে বলা হয় - জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া কমিশনের সংবিধান নির্ধারিত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, তাই এ নিয়ে যেন কালক্ষেপন করা না হয়। প্রবন্ধে সমাজের সকল স্তরের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততায় ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রচেষ্টাকে একটি আন্দোলনে রূপ দেয়ারও সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে আলোচকগণ বলেন, ছবি সম্বলিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা করা প্রয়োজন। এজন্য বক্তাগণ গাজীপুরের শ্রীপুরের পাশাপাশি আরো তিনটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের এবং এগুলোর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানান। ভোটার তালিকা প্রণয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহকেও সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করা হয়। ভোটার তালিকাকে চলমান প্রক্রিয়া হিসাবে আপডেট করার বিধান প্রবর্তনের দাবি জানিয়ে বক্তাগণ আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে এ দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে যাতে সারা বছরই ভোটারগণ নিজ উদ্যোগে নিবন্ধিত হতে পারবে। ভোটার তালিকা প্রণয়নে সরকারকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজসহ সকল স্তরের জনগণের সহযোগিতা গ্রহণ করা উচিৎ বলে উপস্থিত সকলে ঐক্যমত্য পোষণ করেন।

সানজিদা হক বিপাশা
 
     

Home  / Feedback  / Subscribe

For technical information contact: webmaster
This site is developed and maintained by The Hunger Project-Bangladesh