| |
|
নির্বাচন কমিশনের
সংস্কার প্রস্তাব |
গত ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০.৩০ টায় “সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক”-এর
উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত
হয়। “নির্বাচন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব” শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে মূল
প্রবন্ধ উত্থাপন করেন ‘সুজন’- সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বিচারপতি কাজী
এবাদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ‘সুজন’ সভাপতি
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব এম
হাফিজউদ্দিন খান ও জনাব এস এম শাহজাহান, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট জনাব
সৈয়দ আবুল মকসুদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ
চৌধুরী, সাবেক এম পি এডভোকেট রহমত আলী, জনাব জি এম কাদের ও ড. আব্দুর
রাজ্জাক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি জনাব মনজুরুল আহসান খান,
মেজর জেনারেল (অব:) আমীন আহমেদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক জনাব রশীদ হায়দার,
অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর, ‘সুজন’
সহ-সম্পাদক জনাব জাকির হোসেন, জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার, এম এন ইসলাম তপন
চৌধুরী প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের সংক্ষিপ্ত
বিশ্লেষণ সাপেক্ষে ‘সুজন’-এর পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। যে
সকল প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কমিশনের আর্থিক
স্বাধীনতা ও নিজস্ব স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার
তিন দিনের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীগণকে নির্দিষ্ট ছকে তার ব্যক্তিগত তথ্যাদি,
সম্পদ ও দায়-দেনার বিবরণী, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ইত্যাদি রির্টানিং
অফিসারের নিকট দাখিল এবং জনগণের অবগতির জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা, ‘না’
ভোটের পক্ষে প্রদত্ত ভোটের অর্ধেকের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ভোট পড়লেই পুনরায়
নির্বাচন এবং এ নির্বাচনে পূর্বের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করা। নির্বাচনী
ব্যয় হ্রাস করার লক্ষ্যে প্রার্থীদের প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে কমন পোস্টার
তৈরি করা, প্রজেকশন মিটিং এর আয়োজন এবং নির্বাচনী শোডাউন বন্ধ করার
প্রস্তাব করা হয়। এছাড়াও নির্বাচনী মামলার দ্রুত নিষপত্তির লক্ষ্যে
প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ গঠন, মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেঞ্চকে
বিলুপ্ত না করা, মামলা দুই বারের বেশি মুলতবি না করা, সংসদ অধিবেশন
চলাকালীন সময়েও সংশ্লিষ্ট সাংসদকে আদালতে উপস্থিত থাকার বিধান রাখার
ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম মূলত প্রশাসনিক বিধায়
কমিশনকে হাইকোর্টের ন্যায় আদালত অবমাননার ক্ষমতা প্রদানের ব্যাপারে দ্বিমত
পোষন করা হয়।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে
সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হবে এটি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। আর এ
লক্ষ্যে নির্বাচনী আইন সকলকে মেনে চলতে হবে। বর্তমানে কোন আসনে ভোটার
সংখ্যা এক লাখ কোন আসনে নয় লাখ। এটি ‘একজন এক ভোট’ এই নীতির পরিপন্থী। তাই
তিনি প্রতি আসনে ভোটার সংখ্যার সমতা আনয়নের লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকার
সীমানা পুর্ননির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে আলোচকগণ নির্বাচন কমিশনের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উপর গুরুত্বারোপ করে
বলেন আইন শুধু তৈরি করলেই চলবে না, আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ
করতে হবে। আইন থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণ কর্তৃক
দাখিলকৃত তথ্যাদি জনগণকে সরবরাহ করা হয় নি এবং নির্বাচন কমিশন নিজেরাও কখনো
এগুলো নিরীক্ষা বা বিশ্লেষণ করে নি। এছাড়াও ভোটার সংখ্যার সমতা আনয়নের জন্য
নির্বাচনী এলাকা সমূহ পুর্নবিন্যাস, নিবন্ধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রত্যেক বছর অডিট পেশ করা এবং প্রতি দুই বছর পর পর নিবন্ধন নবায়নের বিধান,
মনোনয়নপত্রের সহিত নির্বাচনের সম্ভাব্য খরচের উৎসের বিবরণী পেশ, সৎ ও যোগ্য
প্রার্থীরা যেন নির্বাচিত হতে পারেন সেজন্য নির্বাচনী ব্যয় ৫ লক্ষ থেকে
কমিয়ে ৩ লক্ষ টাকা করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন। ২০০১ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তার
পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ বলে
আলোচকগণ মন্তব্য করেন। |
|
|