স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনী অলিম্পিয়াড সম্পন্ন


গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক ‘নির্বাচনী অলিম্পিয়াড’ । সারা দেশের ৩০টি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিজয়ী শিক্ষার্থীরা এ অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সষ্টিটিউশন মিলনায়তনে জড়ো হতে থাকে। সকাল ৯.০০টায় এ সকল বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুজন-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হলে অনুষ্ঠানস্থলে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাউথ ইষ্ট ব্যাংক লিমিটিড-এর আর্থিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই।

জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হবার পর সকাল ৯.০৫টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ পর্বে সারা দেশ থেকে আগত প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা শেষে ‘সুজন’-সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ-এর সভাপতিত্বে একটি বিশেষ মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে শিক্ষার্থীরা ড্যামি প্রার্থী, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নির্বাচনী রোডম্যাপ, চাঁদাবাজি, নারী প্রতিনিধিত্বসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রাখেন। ‘সুজন’-এর কেন্দ্রিয় কমিটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পরিচালনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব মোঃ হাফিজ উদ্দিন খান ও জনাব এ এসএম শাহাজাহান, সাবেক মন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ, ডেমোক্রেসী ওয়াচের প্রধান নির্বাহি জনাব তালেয়া রেহমান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব বদরে আলম খান, সাউথইষ্ট ব্যাংক লিমিটেড-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব সৈয়দ ইমতিয়াজ হাসিব ও নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহি জনাব জাকির হোসেন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

মুক্ত আলোচনা পর্বের শুরুতে ‘সুজন’-এর কর্মকাণ্ড তুলে ধরে অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আমরা দেখতে চাই এমন একটা নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল অংশিদারিত্বমূলক গর্ভনেন্স যেখানে জনগণের আশা-আকাঙক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। আর সে লক্ষ্যেই ‘সুজন’ কাজ করে যাচ্ছে, সচেতনতার জোয়ারে সকলকে টেনে আনাই আমাদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কিন্তু আমরা সচেতন না হলে এ অধিকার ধরে রাখতে পারব না। তিনি উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, তোমরা এখন একজন সচেতন নাগরিক। তোমাদের অধিকারের স্বার্থে, এলাকার স্বার্থে, দেশের স্বার্থে তোমরা এগুলো স্মরণ রাখবে এবং নির্বাচিত হয়ে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যাবে তাদের এগুলো স্মরণ করিয়ে দিতে ভূমিকা পালন করবে - জাতি এখন তোমাদের কাছে এটাই প্রত্যাশা করে।

 


ড. বদিউল আলম মজুমদার অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে সকল নাগরিককে সচেতন, সাহসি ও সোচ্চার হবার আহবান রেখে বলেন, সচেতন নাগরিকই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। তিনি আরো বলেন, এর মধ্য দিয়েই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের আকাঙক্ষা কার্যকর ও অর্থবহ হবে। সারা দেশের শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদেরকে আলো ছড়াতে হবে। নিজেরা সচেতন হয়ে উঠতে হবে একইসাথে অন্যদেরকেও সচেতন ও সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জনাব হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, প্রকৃতপক্ষে ঘরোয়া রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নেই বলেই আমি মনে করি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশে নির্বাচনে অংশ নেবার মত অনেক সৎ লোক রয়েছে কিন্তু আমাদেরকে তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

জনাব এ এসএম শাহাজাহান বলেন, রাজনীতিবিদ ও রাজনীতিজীবী এ দুইয়ের পার্থক্য আমাদেরকে অনুধাবন করতে হবে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আমাদেরকে সজ্জন হবার চেষ্টা করতে হবে। আবুল মাল আব্দুল মুহিত সমাজের চরিত্র গঠনের কাজে ‘সুজন’ ভূমিকা রেখে চলেছে উল্লেখ করে বলেন, আপনার জীবনে আপনি সত্যি কথা বলতে শেখেন, অন্যায়কে না বলতে শিখেন - সেটাই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অবদান। সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দেশের সমস্- মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে এমন একটা শাসন ব্যবস্থা চাই যেখানে সকলকে সৎ হতে হবে। তিনি বলেন, ওপরের দিকে সততা থাকলে নিচের দিকে অসৎ হবার সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। অধ্যাপক লতিফা আকন্দ বলেন আবেগ নয়, বিবেক ও যুক্তির দ্বারা জীবনকে পরিচালিত করতে হবে। ‘সু’ ও ‘কু’-এ দুইয়ের ব্যবধান ঘোচাতে হবে।



প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষ পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ‘সুজন’ কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবকরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় যারা মন্-ব্য রাখেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জনাব লতিফা আকন্দ, অধ্যাপক মাসুদ আলম খান, ড. জিএম জববার চিশতি, অধ্যাপক মমিনুল হক চৌধুরী, জনাব হাফিজ আহমদ, এম এন ইসলাম তপন চৌধুরী, জনাব নজরুল ইসলাম, জনাব মণিরুজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দু’টি গ্রুপে ১০ জন করে বিজয়ী অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং অংশগ্রহণকারী সকলকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। কলেজ পর্যায়ে ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম ও ১০ম হয়েছে যথাক্রমে - মোঃ মিনহাজুল ইসলাম, গাজী বুলবুল হাসান, মোঃ মেহেদী হাসান (জুয়েল), এম এম মহসিন, মোঃ তারিক হাসান, হেলাল উদ্দিন, এম রাজু আহম্মেদ, মোঃ মোস্-াফিজুর রহমান, মোঃ রুবেল হোসেন ও মোঃ কামরুল হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম ও ১০ম হয়েছে যথাক্রমে - মোহাম্মদ আবু তাহের, মোঃ মোমিনুর রহমান মোমিন, রবিউল ইসলাম ও মোঃ রিয়াজুল হাসান সোহেল, মোঃ সাইফুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ, মোঃ জুবায়েদুল হক চৌধুরী, বেলাল হোসেন, মীর দেলোয়ার হোসেন ও ফেরদৌস হাসান।

উল্লেখ্য যে, ‘নাগরিক অধিকার, নির্বাচন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি, নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘সুজন’-এর উদ্যোগে এখন পর্যন্- সারা দেশের ৩০টি অঞ্চলে ‘নির্বাচনী অলিম্পিয়াড’ সম্পন্ন হয়েছে। ১০ জুলাই, ২০০৬-এ প্রথম রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া এ সকল প্রতিযোগিতায় আট হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী এখন পর্যন্- অংশগ্রহণ করেছে।

 
     

Home  / Feedback  / Subscribe

For technical information contact: webmaster
This site is developed and maintained by The Hunger Project-Bangladesh