-
-
-
-
-
-
-

 সুজন

-সংবাদ১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, এপ্রিল-সেপ্টেম্বর-২০০৬       

  সম্পাদকীয়
আসুন, আমরা গণতন্ত্রকে অর্থবহ করি
আমাদের পূর্বসূরিরা প্রাণের বিনিময়ে সৃষ্টি করেছিলেন প্রাণপ্রিয় এই বাংলাদেশ। তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং সমতা ও ন্যায়-পরায়ণতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ। কিন্তু সর্বক্ষেত্রে পুঞ্জিভূত অসততা, অযোগ্যতা ও স্বার্থপরতার কারণে আমাদের শাসন পদ্ধতি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের সামাজিক সমপ্রীতি, আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ সর্বোপরি আমাদের ভবিষ্যত আজ চরমভাবে বিপন্ন।
এ অবস্থায় আমরা কি নির্লিপ্ত থাকব? না কি, আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের এবং সকল জনগণের জন্য সম-সুযোগের লক্ষ্যে সোচ্চার ও সক্রিয় হব?
ইতোমধ্যে সারা দেশে হাজার হাজার দুঃসাহসী ব্যক্তি বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন-এগিয়ে এসেছেন তাদের সময়, শ্রম, অর্থ ও মেধা নিয়ে। একদল নিবেদিত প্রাণ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক'-এর পতাকাতলে তারা সংগঠিত হচ্ছেন। সোচ্চার হচ্ছেন গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির পক্ষে। এরই মধ্যে তারা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং সৃজনশীল কার্যক্রমও গ্রহণ করেছেন।
'সুজন' একটি দলনিরপেক্ষ নাগরিক উদ্যোগ। দাতাদের পরিবর্তে উদ্যোক্তাদের অর্থে এটি পরিচালিত। নিজেদের সমস্যা নিজেদের প্রচেষ্টায় সমাধানের এটি একটি স্বেচ্ছাব্রতী পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে 'সুজনে'র সাথে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাব্রতীরা আমাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন ও এর পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছেন। তারা ভোটার তালিকাকে নির্ভরযোগ্য করতে ২০০০ সালের তালিকার ডাটাবেজ তৈরি করে ওয়েবসাইটে পোস্ট করেছেন। তারা স্থানীয় নির্বাচনে ও জাতীয় পর্যায়ের উপ-নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ভোটারদেরকে ক্ষমতায়িত করেছেন। মুখোমুখি করিয়েছেন প্রার্থী ও ভোটারদের। সর্বোপরি তারা ভোটারদের সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। তাই এখনই সময় সকল বিবেকবান ব্যক্তিদেরকে এগিয়ে আসার। তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করার। আসুন, আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্রকে রক্ষা ও অর্থবহ করে তুলি। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতাকে সার্থক করে তুলি। 'সুজন সংবাদে'র উদ্বোধনী সংখ্যার মাধ্যমে সকলের প্রতি আমাদের এ উদাত্ত আহ্বান।
সম্পাদনা
ড. বদিউল আলম মজুমদার
সুজন সচিবালয় : ৩/৭ আসাদ এভিনিউ, মোহাম্মদপুর
ঢাকা-১২০৭, বাংলাদেশ
ফোন : ৮১১২৬২২, ৮১২৭৯৭৫ ফ্যাঙ্ : ৮১১৬৮১২
ওয়েবসাইট :
www.shujan.org

সুশাসনের জন্য মানববন্ধন
'সুজন_সুশাসনের জন্য নাগরিক' এর উদ্যোগে গত ২২ এপ্রিল, ২০০৬ সারা দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সকাল ১১:০০-১১:৩০ পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃর্স্ফূত অংশগ্রহণ এবং সম্পূর্ণ নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে পালিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি দেশের জন্য একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। বিভিন্ন দাবি সম্বলিত নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্যাকার্ড নিয়ে, হাতে হাত ধরে সচেতন নাগরিকগণ এই মানববন্ধন রচনা করেন। বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নাগরিকগণ আজ সচেতন, সোচ্চার ও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, যার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখতে পাই দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ থেকে। সারা দেশের ৬৪টি জেলা শহর, ১৭২টি উপজেলায় এবং ১২০৩টি ইউনিয়নসহ প্রায় ১ হাজার ৪'শ টি স্থানে সচেতন নাগরিকরগণ মানববন্ধন রচনা করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক তথা নির্বাচনী সংস্কার, নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান প্রার্থী মনোনয়ন এবং 'সুজন' কর্তৃক প্রস্তাবিত সংস্কারের বাস্তবায়নের এ দাবিতে মানববন্ধন পালিত হয়। রাজনৈতিক দলসমূহকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আনা, রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আগামী নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান প্রার্থী মনোনয়ন, ভোটারদের তথ্যভিত্তিক ক্ষমতায়ন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণ, গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন, 'না'-বাচক ভোটের ব্যবস্থা করাসহ 'সুজন' প্রস্তাবিত অন্যান্য পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন পেশাজীবী, ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ হাতে হাত ধরে এ সকল দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমবেত হন।


ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত মানববন্ধনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, সুজনের সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ও এএসএম শাহজাহান, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. মাহমুদ হাসান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজনীতিবিদ আ.স.ম আব্দুর রব, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান, বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, ব্রতী'র নির্বাহী প্রধান শারমিন মুর্শিদ, দ্বিজেন মলিক, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, 'সুজনে'র সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ সর্বস্তরের নাগরিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, দেশের মানুষ আজ সজ্জনের শাসন চায়, চায় দুর্নতিতিমুক্ত শাসন। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের মাঝে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে, তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। রাজনৈতিক দলের মাঝে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা চর্চার জন্যই প্রয়োজন রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন।

 
হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা না থাকলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের সংস্কার আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।


এএসএম শাহজাহান তাঁর বক্তব্যে বলেন, কালোটাকা ও পেশীশক্তির কলুষমুক্ত রাজনীতি চাই, শুধুমাত্র নির্বাচনের দিনের গণতন্ত্র চাই না। রাজনীতিতে জনগণের মতের প্রতিফলনের লক্ষ্যে 'সুজনে'র দাবিগুলো আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে বলে তিনি উলেখ করেন।


সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছরেও আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় নি। গণতন্ত্র আজ কলুষিত হয়ে পড়েছে, নকল আর ভেজালে ছেয়ে গেছে। আজকের মানববন্ধন দেশের জনসাধারণের একটা জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে।


ড. আতিউর রহমান বলেন, আমাদের সুন্দর সংসদ ভবন রয়েছে, কিন্তু সচল সংসদ নেই। গণতন্ত্র আজ অত্যন্ত অনুদার। কেউই ভিন্ন মত সহ্য করতে পারে না। সে জন্যই আজ উন্নত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চাই। আর সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রচণ্ড সামাজিক চাপ প্রয়োজন। 'সুজন' সেই কাজটিই করে চলেছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। কিন্তু তাদের মালিকানা আজ অপহৃত স্বার্থপর রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের দ্বারা। জনগণ তাই তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে জনগণের জেগে ওঠা ও দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমেই দেশ থেকে কলুষিত রাজনীতি দূরীভূত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে প্রকৃত গণতন্ত্র তথা সজ্জনের শাসন।

 
ঢাকা ছাড়াও দেশের সবকটি জেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সচেতন ও দায়িত্ববান নাগরিক সমাজের উদ্যোগে 'সুজনে'র ব্যানারে সফলভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। দেশের নাগরিক সমাজের নিজস্ব অর্থায়নে এবং দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশজুড়ে সফল হওয়া এই বিশাল আয়োজন দেশবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। 'সুজনে'র উদ্যোগে সংগঠিত নাগরিকগণ প্রমাণ করলেন এদেশ থেকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সক্রিয় শক্তি এখনও হারিয়ে যায় নি। এই পথ ধরেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে সুশাসন।

 

_সান্ত্বনা আইউব   

 

   
 

নির্বাচনী সচেতনতামূলক বিতর্ক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

 
 

গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় 'সুজন' ও 'ডিবেট ফর ডেমোক্রেসী'র যৌথ আয়োজনে ধানমন্ডিস্থ বাইতুল ইকরা মিলনায়তনে "নির্বাচনী সংস্কারের মাধ্যমেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব" শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন 'সুজন' কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডীন ড. বোরহান উদ্দীন খান, এটিএন বাংলার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নওয়াজীশ আলী খান, বিটিভি'র সাবেক

মুখ্য বার্তা সম্পাদক ও স্বেচ্ছাব্রতী প্রশিক্ষক রফিকুল ইসলাম, 'সুজন' সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হয়ে সংঘাতমূলকে পরিণত হয়েছে। একমাত্র সৎ ও যোগ্য প্রা
র্থীদের নির্বাচিত করার মাধ্যমেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটনো সম্ভব।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচিত হলেই সে সরকার গণতান্ত্রিক, তা কিন্তু নয়। গণতান্ত্রিক সরকার হতে হলে তাকে অবশ্যই সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আসতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হলেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ এখনো নিশ্চিত করা যায় নি। তাই রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার সবার আগে প্রয়োজন।


'সুজন' সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই চলবে না, নির্বাচনকে অবশ্যই অর্থবহ হতে হবে, যাতে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতার চর্চা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।


এটিএন বাংলার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব নওয়াজীশ আলী খান বলেন, জনগণ চায় একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সরকার, কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই তা উপহার দিতে পারে।


বিটিভি'র সাবেক মূখ্য বার্তা সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বাংলাদেশ কোন রাজনৈতিক দলের বা ব্যক্তির দেশ নয়, এ দেশ জনগণের। বর্তমানে সর্বত্র জেগে উঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এই প্রবণতাকে শক্তি করেই হয়ত একসময় পরিবর্তন আসবে।


অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

 
 

তানিয়া রহমান

 

 

ভোটার তালিকা এবং হাইকোর্টের রায় সংক্রান্ত গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

 

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে গত ১ ও ৯ জুলাই, ২০০৬ 'দৈনিক প্রথম আলো', 'দি ডেইলী স্টার' এবং 'সুজনে'র যৌথ উদ্যোগে দি ডেইলী স্টার কনফারেন্স রুমে দু'টি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা : কার কি করণীয়' এবং 'হাইকোর্টের রায় ও ভোটারদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার'- শীর্ষক বৈঠক দু'টিতে সভাপতিত্ব করেন 'সুজন' কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন 'সুজন' সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

 

১ জুলাই 'ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা : কার কি করণীয়'- শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, নির্ভুল ভোটার তালিকা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত। নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য সময় নষ্ট না করে এখনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদকরণের কাজ শুরু করা উচিৎ। ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বর্তমানে সরকার, সচেতন নাগরিক, মিডিয়া, বিরোধী দল সবার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাই এখন তার স্বসম্মানে সরে যাওয়া উচিত। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা করার যে কথা এসেছে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সকল আপত্তি উপেক্ষা করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করা হয়েছে, কিন্তু এতে সাধারণ জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কি না, দেশের নাগরিক হিসেবে তা আমাদের ভেবে দেখা জরুরি। এছাড়া আইনের আলোকে সুপ্রীম কোর্টের রায় কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা দরকার। নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আইন, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পরিপন্থী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বদল করে হালনাগাদের কাজ শুরু করতে হবে।
৯ জুলাই অনুষ্ঠিত 'হাইকোর্টের রায় ও ভোটারদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার'- শীর্ষক গোলটেবিল বেঠকে সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, এবার নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবার মাঝে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সর্ম্পকে জানার অধিকার জনগণের মৌলিক অধিকারের অর্ন্তভুক্ত। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য ভোটারদেরকে তথ্য দিয়ে ক্ষমতায়িত করে তুলতে হবে।

তিনি মানিকগঞ্জ, দিনাজপুর এবং ফরিদপুর উপনির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, তথ্যের যথেষ্ট শক্তি আছে। এ শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। ড. বদিউল আলম মজুমদার গত ২৪ মে হাইকোর্টের রায়ের কথা স্মরণ করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের আট ধরনের তথ্য প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্টের রায়ের বিভিন্ন অসচ্ছতা এবং ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিয়ে যে দুরভিসন্ধি চলছে তিনি তা তুলে ধরেন।

বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিশিষ্ট নাগরিক, অর্থনীতি ও আইনজীবী সমিতিসহ সকলকে নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ, প্রধান দুই বিরোধী দলের মহাসচিব এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপতি হয়।


গোলটেবিল বৈঠকে সকলের আলোচনার ভিত্তিতে যে সকল প্রস্তাব উত্থাপিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে মিডিয়ায় বিবৃতি প্রদান, সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আবেদন, পরবর্তী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারসহ সকল সাংবিধানিক পদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দান এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা।


আলোচনায় অংশ নেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিচারপতি নইমউদ্দিন আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জনাব এম হাফিজ উদ্দিন খান ও জনাব এ এস এম শাহজাহান, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুসলেহ উদ্দিন আহমদ, রাজনীতিবিদ আবদুল মতিন খসরু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মুসা ও সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ফেমা'র প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এ.এইচ.এম নোমান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

     

 

 

মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন

   

 

 

দ্বিতীয় পৃষ্টা

   

 


Home  / Feedback  / Subscribe

For technical information contact: webmaster
This site is developed and maintained by The Hunger Project-Bangladesh