|
|
|
|||
|
সম্পাদকীয়
আসুন, আমরা গণতন্ত্রকে অর্থবহ করি আমাদের পূর্বসূরিরা প্রাণের বিনিময়ে সৃষ্টি করেছিলেন প্রাণপ্রিয় এই বাংলাদেশ। তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং সমতা ও ন্যায়-পরায়ণতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ। কিন্তু সর্বক্ষেত্রে পুঞ্জিভূত অসততা, অযোগ্যতা ও স্বার্থপরতার কারণে আমাদের শাসন পদ্ধতি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের সামাজিক সমপ্রীতি, আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ সর্বোপরি আমাদের ভবিষ্যত আজ চরমভাবে বিপন্ন। এ অবস্থায় আমরা কি নির্লিপ্ত থাকব? না কি, আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের এবং সকল জনগণের জন্য সম-সুযোগের লক্ষ্যে সোচ্চার ও সক্রিয় হব? ইতোমধ্যে সারা দেশে হাজার হাজার দুঃসাহসী ব্যক্তি বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন-এগিয়ে এসেছেন তাদের সময়, শ্রম, অর্থ ও মেধা নিয়ে। একদল নিবেদিত প্রাণ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক'-এর পতাকাতলে তারা সংগঠিত হচ্ছেন। সোচ্চার হচ্ছেন গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির পক্ষে। এরই মধ্যে তারা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং সৃজনশীল কার্যক্রমও গ্রহণ করেছেন। 'সুজন' একটি দলনিরপেক্ষ নাগরিক উদ্যোগ। দাতাদের পরিবর্তে উদ্যোক্তাদের অর্থে এটি পরিচালিত। নিজেদের সমস্যা নিজেদের প্রচেষ্টায় সমাধানের এটি একটি স্বেচ্ছাব্রতী পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে 'সুজনে'র সাথে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাব্রতীরা আমাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন ও এর পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছেন। তারা ভোটার তালিকাকে নির্ভরযোগ্য করতে ২০০০ সালের তালিকার ডাটাবেজ তৈরি করে ওয়েবসাইটে পোস্ট করেছেন। তারা স্থানীয় নির্বাচনে ও জাতীয় পর্যায়ের উপ-নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ভোটারদেরকে ক্ষমতায়িত করেছেন। মুখোমুখি করিয়েছেন প্রার্থী ও ভোটারদের। সর্বোপরি তারা ভোটারদের সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। তাই এখনই সময় সকল বিবেকবান ব্যক্তিদেরকে এগিয়ে আসার। তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করার। আসুন, আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্রকে রক্ষা ও অর্থবহ করে তুলি। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতাকে সার্থক করে তুলি। 'সুজন সংবাদে'র উদ্বোধনী সংখ্যার মাধ্যমে সকলের প্রতি আমাদের এ উদাত্ত আহ্বান।
|
সুশাসনের জন্য মানববন্ধন
|
|||
|
_সান্ত্বনা আইউব |
||||
|
|
|||||||
|
নির্বাচনী সচেতনতামূলক বিতর্ক অনুষ্ঠান সম্পন্ন |
|||||||
|
গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল
১০টায় 'সুজন' ও 'ডিবেট ফর ডেমোক্রেসী'র যৌথ আয়োজনে ধানমন্ডিস্থ বাইতুল
ইকরা মিলনায়তনে "নির্বাচনী সংস্কারের মাধ্যমেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
সম্ভব" শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন
'সুজন' কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর
আহমদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডীন ড. বোরহান উদ্দীন খান, এটিএন বাংলার
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নওয়াজীশ আলী খান, বিটিভি'র সাবেক
|
|||||||
|
তানিয়া রহমান |
|||||||
|
|
ভোটার তালিকা এবং হাইকোর্টের রায় সংক্রান্ত গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত |
||||||
|
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে গত ১ ও ৯ জুলাই, ২০০৬ 'দৈনিক প্রথম আলো', 'দি ডেইলী স্টার' এবং 'সুজনে'র যৌথ উদ্যোগে দি ডেইলী স্টার কনফারেন্স রুমে দু'টি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা : কার কি করণীয়' এবং 'হাইকোর্টের রায় ও ভোটারদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার'- শীর্ষক বৈঠক দু'টিতে সভাপতিত্ব করেন 'সুজন' কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন 'সুজন' সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। ১ জুলাই 'ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা : কার কি করণীয়'- শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, নির্ভুল ভোটার তালিকা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত। নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য সময় নষ্ট না করে এখনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদকরণের কাজ শুরু করা উচিৎ। ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বর্তমানে সরকার, সচেতন নাগরিক, মিডিয়া, বিরোধী দল সবার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাই এখন তার স্বসম্মানে সরে যাওয়া উচিত। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা করার যে কথা এসেছে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সকল আপত্তি উপেক্ষা করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করা হয়েছে, কিন্তু এতে সাধারণ জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কি না, দেশের নাগরিক হিসেবে তা আমাদের ভেবে দেখা জরুরি। এছাড়া আইনের আলোকে সুপ্রীম কোর্টের রায় কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা দরকার। নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আইন, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পরিপন্থী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বদল করে হালনাগাদের কাজ শুরু করতে হবে।
বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিশিষ্ট নাগরিক, অর্থনীতি ও আইনজীবী সমিতিসহ সকলকে নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ, প্রধান দুই বিরোধী দলের মহাসচিব এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপতি হয়।
|
|||||||
|
|
|||||||
|
মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন |
|||||||
|
|
|||||||
|
For technical
information contact:
webmaster |