নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ ও উন্মুক্ত বাজেট
অধিবেশন প্রতিবেদন
গৌরীপুর লালমনিরহাট
রংপুর
ভূমিকাঃ
অর্থ ও অস্ত্রের প্রভাবমুক্ত পরিবেশে, সুষ্ঠু ভোটদান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সত্ ও
যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হোক- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বিগত পৌর নির্বাচন ২০০৪
-এ 'সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন' কিছু কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহন করে৷
উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সমূহ ছিল -
সারাদেশের
মোট ১৯ টি পৌরসভায় উল্লেখিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়িত হয়৷
শুধুমাত্র
নির্বাচন পূর্ববর্তী নয়, সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট
পৌরসভায় জয়ী এবং পরাজিত প্রার্থীগণ সহ সুধীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা ও উন্মুক্ত
বাজেট অধিবেশনের পরিকল্পনা করা হয়, যাতে- স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ (রাজস্ব আদায় সহ) ও
তা ব্যবহার, জন
অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্থানীয়
পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এলাকার উন্নয়নে কাজ করা ইত্যাদি
বিষয়ে সংশ্লিষ্ট
সকলের অঙ্গীকার আদায় করা সহ ধীরে ধীরে পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়ার
শুভ
সূচনা ঘটানো সম্ভব
হয়
৷
কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বিগত ৭ ও ৮ জুলাই ২০০৪ এ গৌরীপুর
(ময়মনসিংহ) ও লালমনিরহাট পৌরসভায় নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ ও উন্মুক্ত বাজেট
অধিবেশন এবং রংপুর পৌরসভায় নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়৷ কর্মসূচি সমূহের
সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলো-
গৌরীপুর পৌরসভা, ময়মনসিংহ
বিগত ০৭ জুলাই ২০০৪, বুধবার, সকাল ১১:০০
টায়, গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, গৌরীপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত
চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সম্বর্ধনা ও উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়৷ সুশাসনের
জন্য নাগরিক- (সুজন) এর সহযোগিতায় ''সচেতন নাগরিক সমাজ'' এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত উক্ত
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী জনাব রফিজ উদ্দিন৷ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
হিসাবে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সুজনের আহবায়ক প্রফেসর মোজাফ্ফর
আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর,
সুজনের সদস্য সচিব ড. বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন৷ অনুষ্ঠানে গৌরীপুর
পৌরসভার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব শফিকুল ইসলাম সহ কমিশনারগণ ও গৌরীপুরের গণ্যমান্য
ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন৷
অনুষ্ঠানের শুরুতেই
নবনির্বাচিত পৌর প্রতিনিধিদের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক
দিয়ে বরণ করা হয়৷
এরপর সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি
ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা জনাব একরাম হোসেন৷ তিনি তার বক্তব্যে পৌরসভার
দায়-দায়িত্ব ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন৷
স্বাগত
ভাষণের পর বক্তব্য রাখেন- সুজন নান্দাইল উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক
অরবিন্দ পাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানিন নওশাদ, দৈনিক সংবাদের সংবাদদাতা মোঃ
নূরুল ইসলাম, নবনির্বাচিত পৌর কমিশনার আব্দুল হালিম ও নব নির্বাচিত পৌর
চেয়ারম্যান জনাব শফিকুল ইসলাম৷
পৌর চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে পৌরবাসীদের সঙ্গে নিয়ে পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করার
অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন৷
তিনি একই সঙ্গে বাজেট বক্তৃতা দেন
এবং গৌরীপুর পৌরসভার ২০০৪-২০০৫ সালের জন্য মোট ৬ কোটি ১২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫ শত ১
টাকার বাজেট ঘোষণা করেন৷
বাজেট উপস্থাপনের পর বাজেট ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করে
বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট সমাজসেবী এন জি রফিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাশেদ৷
রাশেদ তার বক্তব্যে এই বলে মতামত ব্যক্ত করেন যে, "পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ক্ষুদ্র
ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে একত্রিত করা৷ এর জন্য যতটা প্রয়োজন টাকার, তার চেয়ে বেশী
প্রয়োজন প্রচেষ্টার৷ আমাদের সেই প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখতে হবে"৷
অতিথিবৃন্দের বক্তৃতা পর্বে প্রথমেই বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. বদিউল
আলম মজুমদার৷ তিনি তার বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে স্থানীয় সরকারের
গুরুত্ব তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে পৌরসভাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে৷
তিনি গৌরীপুর পৌরসভাকে দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী পৌরসভা হিসাবে গড়ে তোলার জন্য
নবনির্বাচিত পৌর পরিষদের প্রতি আহবান জানান৷
প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রফেসর মোজাফ্ফর
আহমদ বলেন- "এদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে উপরে যেতে হবে৷
নিশ্চিত করতে হবে জন, জমি ও জলের সঠিক ব্যবহার"৷ তিনি বলেন- "উন্নয়নের জন্য
দীর্ঘমেয়াদী চিত্র আমাদের মনের মধ্যে
অংকন করতে
হবে৷ তার ভিত্তিতে ফিজিক্যাল প্লানিং করতে হবে ২৫-৩০ বছরের"৷ তিনি বলেন-"মানুষের
ঐক্য-বিরাট ঐক্য, এতে সামাজিক পঁূজির সৃষ্টি হয়৷ তাই মানূষকে একতাবদ্ধ করতে হবে"৷
তিনি তার বক্তব্যে-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, গৃহস্থালী বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা, কম্পোস্ট সার, পানি ব্যবস্থাপনা, সৌর বিদ্যুত্, কারিগরি শিক্ষা,
বিদ্যোত্সাহী সমাজ সৃষ্টি, সরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ ও পৌরসভার সেবার মান যাচাইয়ের
জন্য রিপোর্ট কার্ড চালু, জনগণের সেবা প্রাপ্তির অধিকার, জনগণের মতামত নিয়ে বাজেট
প্রণয়ন ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন৷
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সভাপতি জনাব রফিজ উদ্দিনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার
সমাপ্তি ঘটে৷ সভাপতি তার বক্তব্যে নবনির্বাচিত পৌর পরিষদের প্রতি স্বচ্ছতা ও
জবাবদিহিতা চর্চার আহবান জানান এবং গৌরীপুর সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে
মাঝেমাঝেই নির্বচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি আনার উদ্যোগ গ্রহণের
প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন৷
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জনাব রিয়াজুল হাসনাত৷
লালমনিরহাট পৌরসভা
বিগত ০৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকাল ১০:০০
টায়, জেলা পরিষদ মিলনায়তনে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও ওন ভিলেজ
এডভান্সমেন্ট
(ওভা) সহযোগিতায়- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), লালমনিরহাট জেলা কমিটির এর আয়োজনে
অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ৷ উক্ত অনুষ্ঠানের পর পরই একই মঞ্চে সুশাসনের
জন্য নাগরিক (সুজন) ও ওন ভিলেজ এডভান্সমেন্ট (ওভা) সহযোগিতায়- লালমনিরহাট পৌরসভার
আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় লালমনিরহাট পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন ২০০৪-০৫৷
নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ
নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুজন লালমনিরহাট জেলা কমিটির আহ্বায়ক
ক্যাপ্টেন (অবঃ) আজিজুল হক বীর প্রতীক৷ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন দি
হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, সুশাসনের
জন্য নাগরিক (সুজন) এর জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব
ড. বদিউল আলম মজুমদার৷
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- নবনির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান জনাব মোশারফ হোসেন
রানা ও পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব হাফিজ
ফেরদৌস স্বপন৷ সভাপতি ও অতিথিবৃন্দের আসন গ্রহনের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজন
লালমনিরহাট জেলা কমিটির সদস্য সচিব, ওভা'র নির্বাহী পরিচালক সুজিত্ কুমার ঘোষ৷

স্বাগত বক্তব্যের পর নবনির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান- কমিশনারগণকে পুঘ্পস্তবক দিয়ে
অভিনন্দিত করা হয়৷ এ পর্যায়ে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি ছিল পৌর নির্বাচনে
প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পরাজিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব হাফিজ ফেরদৌস স্বপন কর্তৃক
নবনির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান জনাব মোশারফ হোসেন রানাকে পুস্পস্তবক
দিয়ে বরণ করে নেয়া৷
এরপর নবনির্বাচিত পৌর প্রতিনিধিগণের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন
পৌরসভার নাগরিক- বিশিষ্ট সাংবাদিক এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট
পার্টি, লালমনিরহাট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার, সালাউদ্দিন
আহমেদ বাবু, মোঃ নজরুল ইসলাম, রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী আকবর,
রেল কর্মচারী মোঃ শাহাদাত্ আলম, এনজিও কর্মী জোবেদা খাতুন, চার্চ অব গড উচ্চ
বিদ্যালয়ের প্রবীন শিক্ষক জনাব মোস্তাফিজুর রহমান মন্টু, মহিউদ্দিন আহমেদ মীরন,
ছাত্রদল নেতা সুরুজ্জামান, এনজিও কর্মী মিলি খন্দকার, এন্তাজ মিয়া, প্রক্তন রেল
কর্মচারী মোঃ নবাব আলী, বস্তিবাসী আব্দুল কাদের, কলেজ শিক্ষক মিসেস সেলিনা রোকশানা
ও গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মাহফুজুর
রহমান৷ বক্তাগণ তাদের বক্তব্যের পাশাপাশি নবনির্বাচিত পৌরপ্রতিনিধিগণের কাছে কিছু
প্রশ্ন রাখেন৷ কোন কোন বক্তা পৌর নির্বাচনে জয়ী এং পরাজিত প্রার্থীর একই মঞ্চে এসে
বসাকে উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ বলে মন্তব্য করেন৷ পৌর নাগরিকগণের
বক্তব্যের পর পৌর প্রতিনিধিগণের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন- পৌর কমিশনার মাসুদা
বেগম ও মোঃ জোবেদ আলী৷
এ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, পৌর নির্বাচনে
প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পরাজিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব হাফিজ ফেরদৌস স্বপন
বক্তব্য রাখেন৷ তিনি এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সুজনের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন
করেন৷ তিনি তার বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়নে নবনির্বাচিত পৌর পরিষদকে সার্বিক
সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং নবনির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যানকে কিছু
পরামর্শ দেন৷
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড.বদিউল আলম মজুমদার উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্থানীয়
সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে পৌরসভার ভূমিকা
সম্পর্কে আলোচনা করেন৷ তিনি আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় উন্নয়নে নবনির্বাচিত পৌর
পরিষদ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবে এবং লালমনিরহাট পৌরসভা একটি মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে
উঠবে৷ তিনি জয়ী এং পরাজিত প্রার্থীর একই মঞ্চে এসে উন্নয়ন কর্মকান্ডে এক হয়ে কাজ
করার ঘোষণাকে পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে উঠার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক লক্ষণ
বলে মন্তব্য করেন৷
সর্বশেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, নবনির্বাচিত
চেয়ারম্যান জনাব মোশারফ হোসেন রানা৷ তিনি তার বক্তব্যে সুজন, প্রধান অতিথি ও জনাব
হাফিজ ফেরদৌস স্বপনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন৷ তিনি পৌর নির্বাচনের
পর পরই অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশের কথা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন৷ তিনি সকল ধরনের উন্নয়ন
কর্মকান্ড জনগণের মতামত নিয়ে করার ঘোষনা দেন৷ তিনি কিছু পরামর্শ প্রদানের জন্য
হাফিজ ফেরদৌস স্বপনের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিটি কাজে তার পরামর্শ প্রত্যাশা
করেন৷
পৌর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর সভার সভাপতি ক্যাপ্টেন (অবঃ) আজিজুল হক বীর প্রতীক
তার সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷
উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন ২০০৪-০৫
লালমনিরহাট পৌরসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় লালমনিরহাট পৌরসভার উন্মুক্ত
বাজেট অধিবেশন ২০০৪-০৫৷ এতে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান জনাব
মোশারফ হোসেন রানা৷ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন দি হাঙ্গার
প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, সুশাসনের জন্য
নাগরিক (সুজন) এর জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. বদিউল আলম মজুমদার৷ বিশেষ অতিথি
হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- সুজন লালমনিরহাট জেলা কমিটির আহবায়ক ক্যাপ্টেন (অবঃ) আজিজুল
হক বীর প্রতীক ও পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব
হাফিজ ফেরদৌস স্বপন৷ অনুষ্ঠানের
শুরুতেই বাজেট বক্তৃতা
দেন লালমনিরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান জনাব মোশারফ হোসেন রানা৷
বাজেট বক্তৃতার পর লালমনিরহাট পৌরসভার বাজেট ২০০৪-০৫ উপস্থাপন করেন পৌরসভার সচিব
জনাব কামাল হোসেন৷ মোট ১০ কোটি ১৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ১ শত ৮৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়৷
বাজেট সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন, মতামত ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন কলেজ শিক্ষিকা মিস্
লাবনী, ছাত্রনেতা সুরুজ্জামান ও কলেজ ছাত্র রাজু৷
এ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি ক্যাপ্টেন (অবঃ) আজিজুল হক বীর প্রতীক ও জনাব
হাফিজ ফেরদৌস স্বপন৷ তারা লালমনিরহাট পৌরসভার বাজেট প্রথম বারের মত উন্মুক্ত
অধিবেশনের মাধ্যমে ঘোষনা করায় পৌর চেয়ারম্যান সহ পৌর পরিষদের প্রতি সাধুবাদ
জ্ঞাপন করেন৷ জনাব হাফিজ ফেরদৌস স্বপন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও দরিদ্র
জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিত্সা সেবার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির আহবান জানান৷
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড.বদিউল আলম মজুমদার ভবিষ্যতেও উন্মুক্ত
অধিবেশনের মাধ্যমে বাজেট ঘোষনা করার প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখার এবং জনগণের
অংশগ্রহনের মধ্যদিয়ে স্থানীয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়নের জন্য পৌর পরিষদের
প্রতি আহবান জানান৷
পরিশেষে লালমনিরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান জনাব মোশারফ হোসেন রানা উপস্থিত সকলের
প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন পূর্বক সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷
অনুষ্ঠান দু'টি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের কর্মী দিলীপ কুমার
সরকার৷
রংপুর পৌরসভা
বিগত ০৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭:০০
টায়, টাউন হল রংপুরে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর সহযোগিতায়- সুশাসনের জন্য
নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় -কার্যকর পৌরসভা গঠনে
জবাবদিহিতামূলক অনুষ্ঠান "জনগনের মুখোমুখি" (নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ)৷ অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাপ্তাহিক অটল-এর সম্পাদক 'সুজন'- রংপুর জেলা
কমিটির আহবায়ক জনাব মুকুল মোস্তাফিজ৷ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে দি হাঙ্গার
প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, সুশাসনের জন্য
নাগরিক (সুজন) এর জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং বিশেষ অতিথি
হিসাবে রংপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব এ কে এম আব্দুর রউফ মানিক
উপস্থিত ছিলেন৷ এ ছাড়াও রংপুর পৌরসভার নবনির্বচিত কমিশনারবৃন্দও অতিথির আসন অলংকৃত
করেন৷

অনুষ্ঠানের শুরুতেই
নবনির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান-কমিশনারগণকে সুজনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক
দিয়ে অভিনন্দিত করা হয়৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব মুকুল মোস্তাফিজ এবং
অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব আকবর হোসেন৷
প্রধান অতিথি ড. বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে
স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন৷ তিনি পৌরবাসীর সমস্যা সমাধানে পৌরসভার ভূমিকা
সম্পর্কেও আলোচনা করেন৷
এ পর্যায়ে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি রংপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব এ কে
এম আব্দুর রউফ মানিক তার প্রারম্ভিক
বক্তব্য তুলে ধরেন৷ তিনি বক্তব্যের
শুরুতেই
তাকে নির্বাচিত করার জন্য পৌরবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন৷ তিনি তার
বক্তব্যে পৌরসভাকে ঘিরে তার প্রত্যাশা, রংপুর পৌরসভার পুঞ্জীভূত সমস্যা, বাজেট
ঘোষণা, নাগরিক সমস্যা, ট্রাক্স প্রদানে নাগরিকদের অনীহা ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন৷
তিনি নাগরিকদের নাগরিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট
সকলের সহযোগিতা কামনা করেন৷

পৌর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর প্রশ্নোত্তর পর্বে পৌর নাগরিকগণ নবনির্বাচিত পৌর
পরিষদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন- এডভোকেট হোসনে
আরা ডালিয়া, নবীউল্লাহ্
পান্না, মহিলা পরিষদ নেত্রী হাসনা চৌধুরী, শাহাদত হোসেন, শাহেদ হোসেন মারুফ, হাসান
আলী, প্রাক্তন ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল হক, শেখ মোঃ বাচ্চু মিয়া, জনপ্রতিনিধি
মোঃ ফতে আলী হোসেন, এনজিও কর্মকর্তা অনুপ কুমার সরকার, ফল ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন,
রংপুর উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম, আবু আহমেদ, দুলাল চোধুরী,
আকবর হোসেন, মোঃ মাসুদ, সিদ্দিকুর রহমান সোয়েব, ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু, মনোয়ারা
বেগম, এফ এম বিশ্বাস, মোঃ মানিক, বিপ্লব হোসেন, মনোয়ার হোসেন, আব্দুর রশিদ বাবু,
মিঃ জীবন, সৈয়দ নূরুল আলম প্রমুখ৷
নাগরিকগণের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পৌর কমিশনার ইদ্রিস আলী, নূর মোহাম্মদ, মোঃ
আযম এবং পৌর চেয়ারম্যান জনাব এ কে এম আব্দুর রউফ মানিক৷
প্রশ্নোত্তরের পর প্রধান অতিথি ড. বদিউল আলম মজুমদার এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার
জন্য সুজনের প্রতি আহবান জানান৷
এ পর্যায়ে অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন- পৌর চেয়ারম্যানের
সহধর্মিনী, মনোয়ারা বেগম, ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু, আব্দুর রশিদ বাবু ও সৈয়দ নূর
আহমেদ টুটুল৷ অধিকাংশ বক্তাই তাদের বক্তব্যে এই ধরনের অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা
উল্লেখ করেন৷
পরিশেষে সভার সভাপতি জনাব মুকুল মোস্তাফিজ উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা
জ্ঞাপন পূর্বক সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷ তিনি তার সমাপনী বক্তব্যে প্রতি ৬ মাস পর
পর পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পৌরবাসীদের মুখোমুখি করার উদ্যোগ গ্রহণের
প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন৷
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির সদস্য
বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব আকবর হোসেন৷