গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তথ্য মন্ত্রণালয়

প্রেস-২ শাখা বাংলাদেশ সচিবালয়,

ঢাকা।

 

বিষয়ঃ তথ্য অধিকার আইনের খসড়া প্রণয়ন প্রসঙ্গে।

গত ০৬.০১.২০০৮ তারিখের তম/প্রেস-২/সাংবাদিক-১/২০০৫/৩৯(৭) নং স্মারক মোতাবেক তথ্য অধিকার আইনের খসড়া প্রণয়ন এবং উক্ত খসড়া চূড়ান্- করে সরকারের নিকট পেশ করার নিমিত্ত তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন)-কে সভাপতি করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি গত ২৪.০১.২০০৮ তারিখে এক সভায় উপ-সচিব (প্রেস)-কে আহবায়ক করে তথ্য অধিকার আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করে। উপ-কমিটি ”তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ-২০০৮” নামে একটি খসড়া প্রণয়ন করে গত ০৫.০২.২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত মূল কমিটির সভায় উপস্থাপন করে। ”তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ-২০০৮” চূড়ান্- করার আগে কমিটি আইন কমিশনের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন এবং ভারতসহ কতিপয় দেশের ”তথ্য অধিকার আইন” পর্যালোচনা শেষে খসড়াটি চূড়ান্- করা হয়। উক্ত অধ্যাদেশে মোট ২৭টি ধারা সন্নিবেশিত হয়েছে।

৩। ০৬.০২.২০০৮ তারিখের উক্ত কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ”তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ-২০০৮” এর খসড়াটি অনুমোদিত হয়।

ফয়েজ আহমেদ ভূঁইয়া

উপ-সচিব (প্রেস), তথ্য মন্ত্রণালয়

সদস্য

সচিব তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি 

সানজিদা সোবহান

কোর্ডিনেটর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

সদস্য

তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি

জয়শ্রী সমদ্দার

সি. গবেষণা কর্মকর্তা, আইন কমিশন

তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি

মোঃ রফিকুল হাসান

সিনিয়র সহকারী সচিব (ড্রাফটিং)

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সদস্য

তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি

খুরশীদ আলম

উপ-সচিব (আইন ও শৃঙখলা অধিশাখা),

তথ্য মন্ত্রণালয়

সদস্য

তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি

বিজন লাল দেব

সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার

(চঃদাঃ)

তথ্য অধিদপ্তর

সদস্য

তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি

দিলদার আহমদ

উপ-সচিব (তগ), তথ্য মন্ত্রণালয়

সদস্য

তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি

 

 (কামাল উদ্দিন আহমেদ)

যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন)

সভাপতি

 তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কমিটি


তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৮

মুখবন্ধ

তথ্য জানার স্পৃহা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তথ্য জানার আগ্রহ ক্রমান্বয়ে তথ্য অধিকারে পরিণত হইয়াছে। যেহেতু তথ্য জানার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত এবং তথ্যাধিকার প্রয়োগের জন্য একটি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়ন প্রয়োজন;


এবং যেহেতু তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হইলে সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হইবে;


এবং যেহেতু দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে কিছু বিশেষ ধরনের তথ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে সংরক্ষিত হওয়া উচিৎ; এবং


যেহেতু একদিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং জনস্বার্থ এবং অপরদিকে মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা এই দুইটি বিষয় সমন্বয় করিয়া জনগণের তথ্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে;


সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি

নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিলেনঃ-

১. সংক্ষিপ্ত শিরোনামঃ-

(ক)এই অধ্যাদেশ তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৮ নামে অভিহিত হইবে।

(খ) পরিধি ও কার্যকারিতাঃ- এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে; এবং এই অধ্যাদেশ গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারীর ১২০ দিনের মধ্যে কার্যকর হইবে।

২. সংজ্ঞাঃ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হইলে এই অধ্যাদেশে,

(ক) “তথ্য” অর্থ কোনরূপে বিদ্যমান কোন সামগ্রী যাহার মধ্যে রহিয়াছে উপদেশ, সার্কুলার, আদেশ, চুক্তি, উপাত্ত, ই-মেইল, লগ বই, সামগ্রী, মডেল, স্মারক, মতামত, কাগজপত্র, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, রেকর্ড, রিপোর্ট, নমুনা, উপাত্ত, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় সম্পাদিত কোন কাজ, আদান-প্রদানকৃত চিঠিপত্র,   স্মারকলিপি, বই, পরিকল্পনা, মানচিত্র, ড্রইং, ডায়াগ্রাম, চিত্রে বা লেখচিত্রে বিধৃত কাজ, আলোকচিত্র, ফিল্ম, মাইক্রোফিল্ম, সাউন্ড রেকডিং, ভিডিও টেপ, মেশিনে পাঠযোগ্য রেকর্ড এবং অবস্থা ও চরিত্র নির্বিশেষে যে কোন প্রামান্য বস্তু এবং তাহার যে কোন প্রতিলিপি, এবং সমসাময়িক বলবৎ অন্য যে কোন আইনের দ্বারা কোন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যাদি।

(খ) “তথ্য কর্মকর্তা” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা যে কোন সরকারী কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী যিনি এই আইনে বর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন ও দায়িত্ব পালন করিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তৃপক্ষ; কোন শাখা, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, উইং, বিভাগ এবং তাহার কোন প্রশাসনিক ইউনিটের প্রধান ‘তথ্য কর্মকর্তা’ হিসাবে বিবেচিত হইবেন।
 

(গ) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ বুঝায়।-

(I) যে কোন মন্ত্রণালয় অথবা সরকারী বা আধা-সরকারী অফিস, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, ইনষ্টিটিউশন অথবা আইন বা অধ্যাদেশ বা প্রজ্ঞাপন দ্বারা গঠিত স্থানীয় বা অন্যান্য বিধিবদ্ধ সংস্থা বা অফিস বা সরকারী বা বেসরকারী মালিকানায় গঠিত বা সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত।
(
II) যে কোন কোম্পানী, কর্পোরেশন, ট্রাষ্ট, ফার্ম, সোসাইটি, কো-অপরেটিভ সোসাইটি, বেসরকারী সংস্থা, সমিতি, সংগঠন যাহা বাংলাদেশের প্রচলিত যে কোন আইনে নিবন্ধিত।
(
III) সরকারের পক্ষে অথবা সরকারী কোন সংস্থার সাথে চুক্তি মোতাবেক সরকারী কার্যক্রম পরিচালনা করে।
(
IV) সরকার কর্তৃক সময় সময় গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা প্রকাশিত অন্যান্য কর্তৃপক্ষ।

(ঘ) “তথ্য অধিকার”-

অর্থ কোন কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে তথ্য লাভ করিবার অধিকার; এবং ইহাতে অন্-র্ভুক্ত রহিয়াছে উদ্ধৃতি নেওয়া এবং ডকুমেন্ট বা রেকর্ডের ফটোকপি বা প্রত্যয়নকৃত কপি পাওয়া, কোন সামগ্রীর প্রত্যয়নকৃত নমূনা নেওয়া, তথ্য কম্পিউটার বা অন্য কোন ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকিলে ডিস্কেট, ফ্লপি, টেপ, ভিডিও ক্যাসেট অথবা অন্য কোন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তথ্য পাওয়া কিংবা প্রিন্ট আউট পাওয়া।

(ঙ) ”তৃতীয় পক্ষ“।- অর্থ নাগরিক নন এমন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যিনি তথ্য পাইতে আগ্রহী; এবং যে কোন সরকারী কর্তৃপক্ষ এর মধ্যে অন্-র্ভুক্ত।

৩। অধ্যাদেশের প্রাধান্যঃ- Official Secrets Act, 1923,  বা সমসাময়িক বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী কার্যকর হইবে।

৪। তথ্য অধিকারঃ-

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকিবে এবং রাষ্ট্রের যে কোন নাগরিক এর আবেদন বা অনুরোধক্রমে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্-, লিখিত কার্যবিবরণী অথবা সম্পাদিত বা সম্পাদনের জন্য যে কোন প্রস্-াবিত কার্যক্রম সম্পর্কে জানিতে পারিবে।

(খ) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হইবে তাহার সব রেকর্ডের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা এবং এই অধ্যাদেশ বা সমসাময়িক বলবৎ অন্য কোন আইনে কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে তথ্য চাহিবামাত্র তাহা যেন সহজে পাওয়া যায়; এ অধিকার তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি বা তথ্যের প্রাপ্যতাকে সীমিত করিবে না।

(গ) কোন কর্তৃপক্ষের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য তথ্য কমিশন সকলের জন্য অনুসরণীয় একটি নির্দেশনা (এঁরফবষরহব) প্রস্তুত করিবে।

৫। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য প্রকাশঃ-প্রত্যেক সরকারী কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই বৎসরে অন্-তঃপক্ষে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করিতে বাধ্য থাকিবে যাহাতে অন্-র্ভুক্ত থাকিবে-

(ক) উক্ত কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক বিবরণ, কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের দায়িত্বাবলী এবং সিদ্ধান্- গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিবরণ;
(খ) উক্ত কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের দ্বারা ব্যবহৃত সকল নিয়ম কানুন, আইন, রেগুলেশন, নির্দেশনা, ম্যানুয়্যালসমূহের তালিকাসহ তাহার নিকট রক্ষিত রেকর্ড সমূহের শ্রেণী বিন্যাস।
(গ) উক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে কোন নাগরিক যেই সকল শর্ত-সাপেক্ষে কোন লাইসেন্স, পারমিট, অনুদান, বরাদ্ধ, সম্মতি, অনুমোদন বা অন্য কোন সুবিধা গ্রহণ করিতে পারিবে-কিংবা যেই সকল শর্তের কারণে তাহার সাথে কোন প্রকার লেনদেন বা চুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজন হয় সেই সকল শর্তের বিবরণ;
(ঘ) জনসাধারণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করিবার জন্য প্রদত্ত সুবিধাদির বিবরণ; এবং
(ঙ) দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা যাহার বরাবরে তথ্যের জন্য আবেদন করিতে হইবে তাহার নাম, পদবী ও ঠিকানা।

৬। তথ্য চাওয়া ও পাওয়ার পদ্ধতিঃ-

(ক) এই অধ্যাদেশের অধীনে কোন কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে তথ্য লাভে আগ্রহী কোন ব্যক্তি দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অফিস প্রধান বরাবর তথ্যের প্রকৃতি এবং কী পদ্ধতিতে তথ্য পাইতে চান অর্থাৎ পরিদর্শন, অনুলিপি নেওয়া, নোট নেওয়া ইত্যাদি উল্লেখ করিয়া আবেদন করিবেন।
(খ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মুদ্রিত আবেদন ফরমে এবং নির্ধারিত ফি প্রদানের মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার জন্য আবেদন করিতে হইবে।
(গ) উক্ত তথ্য প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ (ক) উপ-ধারার অধীনে আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে আবেদনকৃত তথ্য সরবরাহ করিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদানের প্রকৃত খরচ এর উপর ভিত্তি করিয়া অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ করিবেন।
(ঘ) যদি দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অফিস প্রধান তথ্য প্রদানে সম্মত না হন তবে তিনি অসম্মতির কারণ উল্লেখ করিয়া আবেদন পাওয়ার ২০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে উহা অবহিত করিবেন।

৭। তথ্য প্রদানের পদ্ধতিঃ-

(ক) ৮ নং ধারার শর্তাবলী অক্ষুন্ন রাখিয়া, তথ্য কর্মকর্তা ৬ (ক) নং ধারা অনুযায়ী কোন আবেদন লাভের পর, বাস্-বিক পক্ষে যত দ্রুত সম্ভব হয়, আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে তথ্য প্রদান করিবেন অথবা (৮) নং ধারায় বর্ণিত কারণ অনুযায়ী আবেদন প্রত্যাখ্যান করিবেন যাহা করিতে কোন ক্ষেত্রেই ২০ (বিশ) দিনের অধিক কালক্ষেপন করা যাইবেনা।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি আবেদনকৃত তথ্য পাওয়ার সাথে কোন ব্যক্তির জীবন-মৃত্যু কিংবা কারাগার হইতে মুক্তি’র বিষয় জড়িত থাকে তাহা হইলে তথ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া আবেদন লাভের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উক্ত তথ্য আবেদনকারীকে সরবরাহ করিতে হইবে।
(খ) যদি তথ্য কর্মকর্তা (ক) নং উপধারায় বর্ণিত নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য সরবরাহ করিতে ব্যর্থ হন তবে তিনি আবেদন প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(গ) এই অধ্যাদেশের অধীনে যদি কোন তথ্য কর্মকর্তার কোন ইন্দ্রীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কোন রেকর্ড বা তাহার অংশ বিশেষ জানানোর প্রয়োজন হয় তবে তথ্য কর্মকর্তা তাহাকে তথ্য লাভে সহায়তা করিবেন এবং পরিদর্শনের জন্য যেই ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন তাহা প্রদান করাও এই সহায়তার মধ্যে অন্-র্ভুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(ঘ) যদি তথ্য মুদ্রিত বা কোন ধরণের ইলেক্ট্রনিক ফরমেটে যদি তথ্য প্রদান করা হয় তবে (চ) নং উপধারা অক্ষুন্ন রাখিয়া আবেদনকারী নির্ধারিত ফি প্রদান করিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, (৬) নং ধারার (ক) উপধারা এবং (৭) নং ধারার (ক) নং ও (ঙ) নং উপধারার অধীনে নির্ধারিত ফি হইবে যৌক্তিক এবং তথ্য প্রদানের প্রকৃত ব্যয় যেমন ফটোকপি করিতে বা প্রিন্ট আউট নিতে যেই ব্যয় হয় উহা হইতে অধিক হইবে না এবং ইহার সর্বোচ্চ অংক বিধি মোতাবেক নির্ধারিত হইবে।
(ঙ) সচরাচর যেইরূপে তথ্য চাওয়া হইয়াছে সেইরূপে উহা প্রদান করিতে হইবে।

 

১২। (ক) এই অধ্যাদেশের বর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্বাবলী পালনের জন্য সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে একটি সংস্থা গঠন করিবে যাহা “তথ্য কমিশন” নামে পরিচিত হইবে।

(খ) নিম্নলিখিত সদস্য সমন্বয়ে “তথ্য কমিশন” গঠিত হইবে-
(১) প্রধান তথ্য কমিশনার
(২) সর্বাধিক আরো দুইজন তথ্য কমিশনার।
(গ) প্রধান তথ্য কমিশনার ও অন্যান্য দুইজন তথ্য কমিশনার নিম্নলিখিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন। তবে প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারদের মধ্যে অন্-ত ১জন মহিলা হইবেন।
(ঘ) কমিটির সদস্যরা হইলেন-

 

১. প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আ্যপিলেট বিভাগের একজন বিচারপতি-যিনি হইবেন এই কমিটির চেয়ারম্যান; অন্যান্য সদস্যরা হইলেন-

২. চেয়ারম্যান, সরকারী কর্ম কমিশন;

৩. মন্ত্রিপরিষদ সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার;

৪. চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন;
(ঙ) প্রধান তথ্য কমিশনার, তথ্য কমিশনারদের সহযোগিতায় তথ্য কমিশনের কার্যক্রমের সাধারণ তত্ত্বাবধান, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিবেন এবং সেই ধরণের ক্ষমতা, কার্য, ব্যবহার এবং বিষয় সম্পাদন করিবেন যা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের পরিচালনাধীন না থাকিয়া স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ন্যায় তথ্য কমিশন পরিচালিত হইবে-।
(চ) প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারগণ জাতীয় সংসদের সদস্য-বা সরকারী লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বা রাজনৈতিক-দলের সাথে সম্পৃক্ত হইবেন না।
(ছ) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগণের নিয়োগের শর্তাবলীঃ-

(১). প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণ নিয়োগ লাভের তারিখ হইতে ৪(চার) বৎসর এর জন্য নিয়োগ লাভ করিবেন কিংবা ৬৫ বছর বয়স (যেইটি আগে প্রযোজ্য) পর্যন্- দায়িত্বে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পুনরায় নিয়োগ লাভ এর জন্য যোগ্য বিবেচিত হইবেন না। তবে, কোন তথ্য কমিশনার প্রধান তথ্য কমিশনারের পদশূণ্য হইলে প্রধান তথ্য কমিশনার হিসাবে নিয়োগ লাভ করিতে পারিবেন তবে উভয় পদে তাহার কর্মকাল ৪(চার) বৎসরের অধিক হইবে না।
(২) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগণ হইবেন আইন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য, সমাজকর্ম, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও শাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অধিকারী।

১৩। প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন তথ্য কমিশনারগণের পদত্যাগঃ-

প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন তথ্য কমিশনার যে কোন সময় রাষ্ট্রপতি বরাবর লিখিত পদত্যাগ পত্র দ্বারা দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি নিতে পারিবেন।
তবে- প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারগণকে এই অনুচ্ছেদ এর ১৬ ধারায় বর্ণিত প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব-হইতে অপসারণ করা যাইবে।

১৪। বেতন ভাতাঃ-

(ক). প্রধান তথ্য কমিশনার এর বেতন ভাতা সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারপতির সমপরিমাণ এবং
(খ). তথ্য কমিশনার এর বেতন ভাতা সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির সমপরিমাণ হইবে।

 

১৫। তথ্য কমিশনের কর্মচারীঃ-এই অধ্যাদেশের অধীন গঠিত তথ্য কমিশন ফলপ্রসুভাবে পরিচালনার জন্য যেই রকম কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রয়োজন হইবে সরকার সেই পরিমাণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ব্যবস্থা করিবেন। কমিশন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ করিবেন।


১৬। প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের অপসারণঃ-

ক. ৩নং উপধারায় বর্ণিত বিধানাবলী অক্ষুন্ন রাখিয়া, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারপতিকে যেই পদ্ধতিতে অপসারণ করিতে পারেন প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন তথ্য কমিশনারকে সেই পদ্ধতিতে অপসারণ করিতে পারিবেন।

(খ) (ক) নং উপধারা অনুযায়ী প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন তথ্য কমিশনার সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের অভিমত জানিতে চাওয়া হইলে সেই অভিমত প্রাপ্তি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কোন আদেশ জারী না করা পর্যন্- তাহাদেরকে দায়িত্ব হইতে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দিতে পারিবেন।

(গ) (ক)নং উপধারায় যাই থাকুক না কেন রাষ্ট্রপতি আদেশ জারীর মাধ্যমে প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন কমিশনারকে দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি দিতে পারিবেন যদি- উক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারদের ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি প্রযোজ্য হয়-

(১). দেউলিয়া ঘোষিত বা কোন অপরাধ সংঘটিত করেন যাহা রাষ্ট্রপতির নিকট নৈতিক স্খলন বলিয়া বিবেচিত ;

(২). মানসিক বা শারীরিক কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম;

(৩). গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী হন।


তথ্য কমিশনের ক্ষমতা, কার্যাবলী এবং আপীল

১৭। (ক). তথ্য কমিশনের কার্যাবলী ও ক্ষমতাঃ- এই অধ্যাদেশের আওতায় তথ্য কমিশনের দায়িত্ব হইবে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্- করা এবং অভিযোগ নিষপত্তি করা যদি কোন ব্যক্তি -নিম্নলিখিত কারণে অভিযোগ দায়ের করেন-

(১) এই অধ্যাদেশের অধীন কোন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ না করায় কিংবা সরকারী কর্তৃপক্ষ তাহার আবেদন গ্রহণ না করায় তিনি আবেদন পত্র দাখিল করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা

(২) তিনি এই অধ্যাদেশের আওতায় কোন তথ্য চাহিয়া প্রত্যাখ্যাত হইয়াছেনন; বা

(৩) তথ্যের জন্য আবেদন করিয়া এই অধ্যাদেশে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ে তিনি কোন জবাব বা তথ্য লাভে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা

(৪) এমন অংকের ফি প্রদানে বাধ্য হইয়াছেন যাহা তাহার বিবেচনায় যৌক্তিক নয়;

(৫) এই অধ্যাদেশের আওতায় তাহাকে যেই তথ্য দেওয়া হইয়াছে তাহা অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্-িকর ও ভ্রান্- বলিয়া মনে করিবেন; বা

(৬) এই অধ্যাদেশের আওতায় তথ্যের আবেদন বা তথ্য প্রাপ্তি সম্পর্কিত অন্য যে কোন বিষয়।

(খ) যদি তথ্য কমিশন এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, অভিযোগের বিষয়টি নিয়া তদন্- করিবার মত যুক্তিসংগত কারণ আছে, তাহা হইলে কমিশন বিষয়টি নিয়া তদন্- পরিচালনার উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করিবেন।

(গ) প্রয়োজনীয ক্ষেত্রে কোন তথ্য কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হইলে বা প্রয়োজনে কমিশন স্ব-প্রণোদিত হয়ে তদন্- করিতে পারিবে।

(ঘ) এই ধারার অধীন কমিশন নিম্নলিখিত বিষয়গুলি তদন্- করিবার ক্ষেত্রে “কোড অব সিভিল প্রসিডিউর ১৯০৮” এ প্রদত্ত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন-

(১) কাউকে কমিশনে হাজির করা, সমন জারী এবং তাহা বলবৎ করা এবং শপথপূর্বক মৌখিক বা লিখিত প্রমান দাখিল এবং দলিল বা কোন কিছু হাজির করিতে বাধ্য করা;

(২) ডকুমেন্ট অনুসন্ধান এবং তাহা নিবিড়ভাবে দেখার নির্দেশ প্রদান করা;

(৩) হলফনামাসহ প্রমান গ্রহণ করা;

(৪) কোন আদালত বা অফিসের কোন পাবলিক রেকর্ড বা তাহার কপি ফরমান দিয়া আনয়ন করা;

(৫) কোন সাক্ষী বা দলিল তলব করিয়া সমন জারী করা; এবং

(৬) অন্য যে কোন বিষয় যাহা সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করা হইবে।

(ঙ) তথ্য কমিশন এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী পরিচালনার জন্য অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন জারী করিয়া পূর্বে বর্ণিত ক্ষমতার সাধারণত্ব ক্ষুন্ন না করিয়া প্রয়োজনীয় যে কোন প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবেন।


১৮। রেকর্ড যাচাইঃ- অন্য যে কোন আইনে অন্যরূপ যাহাই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন কোন অভিযোগ তদন্-কালে তথ্য কমিশন কোন কর্তৃপক্ষের অধীন যেই সব রেকর্ডের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ প্রযোজ্য তাহার যে কোনটি পরীক্ষা করিতে পারিবেন।

 

১৯। আপীলঃ- (ক) ধারা-(৭) উপধারা (ক) অনুযায়ী নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে তথ্য লাভে ব্যর্থ হইয়াছেন কিংবা তথ্য কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্তে সংক্ষুদ্ধ হইয়াছেন এমন কোন ব্যক্তি উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্- হওয়ার কিংবা সিদ্ধান্- লাভ করিবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত কর্তৃপক্ষ, তথ্য কর্মকর্তার উর্দ্ধতন পদে কর্মরত প্রশাসনিক ইউনিটের প্রধান কোন কর্মকর্তার নিকট আপীল করিতে পারিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত উর্ধতন কর্তৃপক্ষ যদি এই ব্যাপারে সন্তুষ্ট হন যে, আপীলকারী যুক্তি সংগত কারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপীল করিতে পারেন নাই তাহা হইলে তিনি ৩০(ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আপীল আবেদন গ্রহণ করিতে পারিবেন।

তবে, সেই ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ইউনিট প্রধান তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করিয়াছেন সেইক্ষেত্রে তাহার সিদ্ধান্তে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরাসরি তথ্য কমিশনে আপীল দায়ের করিতে পারিবেন।

আপীলকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে প্রশাসনিক ইউনিট প্রধান, আপীল গ্রহণযোগ্য হইলে, আপীল আবেদন গ্রহণের ১৫(পনের) দিনের মধ্যে তথ্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দিবেন অথবা গ্রহণযোগ্য না হইলে আপীল আবেদন খারিজ করিয়া দিবেন।

(খ) উপধারা (ক) এর অধীন গৃহীত কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উক্ত সিদ্ধান্- যেই তারিখে গ্রহণ করিবার কথা ছিল কিংবা প্রকৃতপক্ষে যেই তারিখে তাহাকে জানানো হইয়াছিল সেই তারিখ হইতে ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে তথ্য কমিশনে দ্বিতীয় বারের মত আপীল করা যাইবে।

শর্ত থাকে যে, কমিশন যদি এই ব্যাপারে সন্তুষ্ট হন যে, আপীলকারী যুক্তিসংগত কারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপীল করিতে পারেন নাই তবে ৬০(ষাট) দিন অতিবাহিত হইবার পরও আপীল আবেদন গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(গ) তথ্য কর্মকর্তার এমন কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যদি আপীল করা হয় যাহার সাথে তৃতীয় পক্ষ জড়িত তবে তথ্য কমিশন তৃতীয় পক্ষকেও বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগ প্রদান করিবেন।

(ঘ) আবেদনের তথ্য নাকচের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন আপীল চলাকালে, নাকচের সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি তুলিয়া ধরিবার দায়িত্ব যেই তথ্য কর্মকর্তা আবেদন নাকচ করিয়াছেন তাহার উপরই বর্তাইবে।

(ঙ) উপধারা (ক) অথবা (গ) উপধারার অধীন দায়েরকৃত আপীল গ্রহণের ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে অভিযোগ লিখিতভাবে রেকর্ড করিবার জন্য যেই পরিমাণ বর্ধিত সময় প্রয়োজন সেই সময়ের মধ্যে নিষপন্ন করিতে হইবে। তবে সর্বমোট সময়সীমা ৪৫(পঁয়তাল্লিশ) দিনের অধিক হইবে না।

(চ) তথ্য কমিশনের সিদ্ধান্- মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক হইবে।

(ছ) সিদ্ধান্- গ্রহণের ক্ষেত্রে তথ্য কমিশন ক্ষমতা রাখেন-

(১) কোন কর্তৃপক্ষকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার যাহা এই অধ্যাদেশে বর্ণিত বিধি মোতাবেক গ্রহণ করা প্রয়োজন; এর মধ্যে রহিয়াছে-
(
I) আবেদনকৃত কোন তথ্য সুনির্দিষ্ট কোন রূপে প্রদান করা;
(
II) তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া;
(
III) বিশেষ কোন তথ্য বা বিশেষ ধরণের তথ্যাবলী প্রকাশ করা;
(
IV) তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিতরণের ক্ষেত্রে উক্ত কর্তৃপক্ষের  অনুশীলনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়ন করা;
(
V) উক্ত কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের তথ্য অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণের
বিধান সম্প্রসারিত করা;
(
VI) কমিশনকে ২৬ নং ধারার (খ) নং উপধারা অনুযায়ী বার্ষিক প্রতিবেদন প্রদান করা;
(
VII) কোন ধরণের ক্ষতি বা অন্যকোন প্রকার দুর্ভোগের জন্য
অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ
দেওয়া;


(২) এই অধ্যাদেশে বর্ণিত কোন জরিমানা আরোপ করা;
(৩) আবেদন প্রত্যাখ্যান করা;

(জ) তথ্য কমিশন তাহার সিদ্ধান্- (কোন ধরণের আপীলের অধিকার থাকিলে তাহা উল্লেখপূর্বক) অভিযোগকারী এবং কর্তৃপক্ষ উভয়কেই অবহিত করিবেন।

(ঝ) যেই রকম নির্ধারণ করা থাকিবে তথ্য কমিশন সেই রকম পদ্ধতিতে আপীল সম্পর্কে সিদ্ধান্- গ্রহণ করিবেন।

 

২০। আপীলের প্রতিনিধিত্বঃ- আপীলের পক্ষসমূহ কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করিবার জন্য স্বশরীরে হাজির হইবেন অথবা এক বা একাধিক আইনজীবি বা তাহাদের কোন অফিসারকে মনোনীত করিবেন। কমিশন যতদূর সম্ভব তদন্- কমিশনের ন্যায় পরিচালিত হইবে যাহাতে অপ্রীতিকর বিতর্কের চাইতে সত্য উৎঘাটনই বেশী গুরুত্ব লাভ করিবে।

২১। অপরাধ ও দন্ডঃ- (ক) যদি তথ্য কমিশন কোন অভিযোগ বা আপিল নিষপত্তির ক্ষেত্রে মনে করেন যে, তথ্য কর্মকর্তা কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই তথ্যের জন্য কোন আবেদন গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিয়াছেন কিংবা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য প্রদান করেন নাই কিংবা অসদুদ্দেশ্যে কোন আবেদন প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন কিংবা সজ্ঞানে যাহা চাওয়া হইয়াছিল তাহা না দিয়া ভুল বা অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্-িকর বা বিকৃত তথ্য প্রদান করিয়াছেন কিংবা কোন ভাবে তথ্য পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়াছেন, তবে তথ্য কমিশন তথ্য কর্মকর্তার উপর আবেদনের তারিখ হইতে প্রতিদিনের জন্য নির্ধারিত হারে জরিমানা আরোপ করিবেন, তবে এই জরিমানার মোট পরিমাণ ২৫,০০০/-(পঁচিশ হাজার) টাকার বেশী হইবে না।

তবে শর্ত থাকিবে যে, দায়িত্ব কর্মকর্তার উপর জরিমানা আরোপের পূর্বে তাহাকে তাহার বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।

আরও শর্ত থাকিবে যে, তিনি যাহা করিয়াছেন তাহা যে যুক্তিসঙ্গত এবং সচেতনতা প্রসূত তাহা প্রমাণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব কর্মকর্তার উপরই বর্তাইবে।
(খ) যদি তথ্য কমিশন কোন অভিযোগ বা আপিল নিষপত্তির ক্ষেত্রে মনে করেন যে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ব্যতিরেকে এবং অব্যাহতভাবে কোন তথ্যের জন্য আবেদন পত্র গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন কিংবা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য প্রদান করেন নাই কিংবা অসদুদ্দেশ্যে কোন আবেদন প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন কিংবা সজ্ঞানে যাহা চাওয়া হইয়াছিল তাহা না দিয়া ভুল বা অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্-িকর বা বিকৃত তথ্য প্রদান করিয়াছেন কিংবা কোনভাবে তথ্য পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়াছেন তবে তথ্য কমিশন প্রয়োজন মনে করিলে উক্ত কর্মকর্তার জন্য প্রযোজ্য সার্ভিস রুল অনুযায়ী তাহার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করিবেন।

২২। তামাদি আইন ১৯০৮ এর প্রয়োগঃ-এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী সাপেক্ষে, এই অধ্যাদেশের অধীন কোন আপীলের ক্ষেত্রে তামাদি আইন ১৯০৮ (১৯০৮ সালের ৯ নং আইন) এর বিধানাবলী যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য হইবে।