|
প্রার্থীকে ৮ তথ্য দিতে হবে
সুনামগঞ্জ উপনির্বাচন থেকে কার্যকর করবে নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব
প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের
নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস, ব্যাংক ঋণের অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা,
সম্পত্তির বিবরণসহ আট দফা তথ্য দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন গত
বৃহস্পতিবার এবং গতকাল শনিবার এ ব্যাপারে দুই দফা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে
এ তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং কেউ তা না মানলে শাস্তির বিধান করার পক্ষে
মত দেয়। একই সঙ্গে আগামী ২০ জুলাই সুনামগঞ্জ-৩ আসনের উপনির্বাচন থেকে
এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এম এ আজিজ প্রথম আলোকে বলেন,
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারেই আমরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রার্থী নিজেই যদি তার সম্পর্কে সব তথ্য
নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেন তাহলে সবার জন্য স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোটারের জানার অধিকার আছে, কেমন ব্যক্তিকে তিনি
ভোট দিচ্ছেন। জনগণ যাতে সৎ, যোগ্য এবং তাদের আশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম
ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারেন সে জন্যই এসব তথ্য ভোটারদের জানানোর ব্যবস্থা
করবে নির্বাচন কমিশন।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের কথা শিগগিরই সব নির্বাচনী
অফিস, জেলা প্রশাসকদের কার্যালয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে এ অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। এসব তথ্য দেওয়ার
জন্য একটি ফরম তৈরি করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র নেওয়ার সময় ওই ফরমটিও দেওয়া
হবে। আর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে ওই ফরমটি পূরণসহ। একই সঙ্গে এর সঙ্গে
প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও দিতে হবে। এসব তথ্য পূরণ না করলে বা ভুল তথ্য
দিলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল
করতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্যাদি নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং
কর্মকর্তার অফিসে টাঙিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে আগ্রহী ভোটাররা
তাদের প্রার্থী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই জানতে পারেন। এ ছাড়া
প্রার্থীর ব্যাংক ঋণের সর্বশেষ অবস্থা কী তা-ও জানাতে হবে। তার ওপর
নির্ভরশীল সদস্যদের সংখ্যাও জানাতে হবে কমিশনকে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে একটি জনস্বার্থ মামলার রায়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ
সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়ের উৎস ও
ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত আট ধরনের তথ্য নির্বাচন
কমিশনকে সরবরাহ করার নির্দেশ দেন।
কিন্তু রায়ের কপি না পাওয়ায় গত তিন সপ্তাহ এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর
ব্যবস্থা নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। কপি পাওয়ার পর গত সপ্তাহে প্রথম
নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে কাজ শুরু করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি
এম এ আজিজের সভাপতিত্বে কমিশনের বৈঠকে পরপর দুদিন আলোচনা করে এ
নির্দেশনা কার্যকর করা এবং কেউ তা না মানলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আট দফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস,
শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পত্তির বিবরণ, ব্যাংক ঋণের বর্তমান পরিস্থিতি,
আয়ের উৎস, ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, নির্ভরশীলদের সংখ্যা
ইত্যাদি। |