|
ফরিদপুর-১
উপনির্বাচন
তথ্য গোপন করেছেন বিএনপি প্রার্থী কাজী সিরাজ
প্রণব সাহা
ফরিদপুর-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী কাজী সিরাজুল ইসলাম তথ্য
গোপন করে হলফনামা (এফিডেভিট) দিয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশিত
প্রার্থীদের আট দফা তথ্যের হলফনামায় তিনি ঢাকার মিরপুর থানায় তার
বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কথা উল্লেখ করেননি। নিজের পরিবারের ২৯ কোটি
২২ লাখ টাকা দায়দেনা আছে বলে উল্লেখ করেছেন। ৩০ বিঘা জমির সঙ্গে
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন আমিন জুয়েলার্স, সিটি হাসপাতাল
ও এশিয়ান ওয়াচ কোম্পানি লিমিটেডের নাম।
হাইকোর্টের নির্দেশের অন্যতম বিষয় হচ্ছে হলফনামার তথ্যে অতীতে কোনো
ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকলে সেই মামলার ফলাফল জানাতে হবে। কিন্তু কাজী
সিরাজুল ইসলাম এ সংক্রান্ত কলামে কোনো মামলা নেই বলে ‘প্রযোজ্য নহে’
উল্লেখ করেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৩ সালের অক্টোবরে ইসলাম
ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হিসেবে কাজী সিরাজুল ইসলামের নামে
স্কুলব্যাগ সরবরাহের নামে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভুয়া বিল উত্তোলনের
অভিযোগে মিরপুর থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা
বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম
বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছিলেন। মিরপুর থানায় মামলা নম্বর ১০০, তারিখ
২১-১০-২০০৩। মামলাটি এখন সিআইডির তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কাজী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মোবাইল ফোনে
কথা বলা যায়নি। বোয়ালমারী উপজেলার চাঁদপুর ও সাতৈরে গণসংযোগে ব্যস্ত
থাকার কারণে কথা বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী
মোশাররফ হোসেন মুছা।
এদিকে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলেও নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা
নির্বাচন কমিশন থেকে তা যাচাই-বাছাই করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে
কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে গতকাল ফরিদপুর উপনির্বাচনের রিটার্নিং
কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাসিরউদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে
প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আমরা এফিডেভিটের তথ্য যাচাই করব না। তবে মিথ্যা
তথ্য থাকলে এ ব্যাপারে প্রাক-নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যে কেউ মামলা করতে
পারেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীরা হলফনামার মাধ্যমে যেসব
তথ্য দিয়েছেন, তা ১৪ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর জনসমক্ষে প্রচার
করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব তথ্য গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল বারী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের
নির্দেশ অনুসারে এসব তথ্য জনসাধারণকে জানানোর জন্য পোস্টার ও লিফলেট
ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা
গেছে, ফরিদপুর উপনির্বাচনে সাতজন প্রার্থী হলফনামার মাধ্যমে যেসব তথ্য
দিয়েছেন, তা সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হবে। কিন্তু এসব হলফনামার ফটোকপি
সাংবাদিকদের দিতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর উপনির্বাচনের সাতজন প্রার্থীই
তাদের হলফনামায় নিজেদের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে জানিয়েছেন।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ মোঃ আবু জাফর তার পেশা হিসেবে রাজনীতির
কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি তার আয়ের উৎস হিসেবে ‘কৃষি ও ঘর ভাড়া’ বলে
জানিয়েছেন। আর সম্পদের বিবরণে উল্লেখ করেছেন বাড়ি, সরকারি প্লট,
বাণিজ্যিক ভবন, কৃষিজমি, গাড়ি, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা।
ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি শরাফত হোসেন নিজেকে
ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জমি, টিনের ঘর
ও স্বর্ণালঙ্কারের কথা।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কাজী সিরাজুল ইসলাম, এ কে এম জামাল উদ্দিন
নান্নু ও শাহ মোঃ আবু জাফর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্মাতক বলে জানিয়েছেন।
মুফতি শরাফত হোসেন শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিজেকে শাহাদাতুল ফেরাগ, মাওলানা
মজিবুর রহমান দাওরায়ে হাদিস (তাফসির), নূরুল আবেদিন এসএসসি এবং কৃষক
মোঃ সাদেক নবম শ্রেণী পাস বলে উল্লেখ করেন।
হলফনামার ছকে একটি প্রশ্ন ছিল− ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন কি
না? এ প্রশ্নের জবাবে দু বার আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে গত
জুন মাসে দলত্যাগ করার কথা জানাননি কাজী সিরাজ। এই কলামে তার দেওয়া
তথ্য হচ্ছে− ‘হ্যাঁ। যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছি।’ অন্যদিকে শাহ মোঃ
আবু জাফর লিখেছেন, ‘হ্যাঁ। ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৮ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য
ছিলাম। জনগণের নিকট এককভাবে কোনো প্রতিশ্রুতিতে ওয়াদাবদ্ধ ছিলাম না।
সমষ্টিগতভাবে এলাকা তথা দেশের জন্য পার্লামেন্টে কথা বলেছি। এলাকার
ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ইত্যাদি উন্নয়নের জন্য
কাজ করেছি।’
|