|
|
আসন্ন নির্বাচন
ও নাগরিক প্রত্যাশা” শীর্ষক ‘সুজন’-এর গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত
গত ১৪
অক্টোবর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে এক বিশেষ
গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ ুআসন্ন নির্বাচন ও নাগরিক প্রত্যাশা” শীর্ষক এই
গোলটেবিল বৈঠকে ‘সুজন’ সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর
আহমদ-এর সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘সুজন’ সম্পাদক
ড. বদিউল আলম মজুমদার৷ এছাড়া আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন
জনাব এম হাফিজ উদ্দিন খান, জনাব এএসএম শাহজাহান, জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ,
এ্যডভোকেট রহমত আলী, ড. দিলারা চৌধুরী, জনাব মোঃ সানোয়ার হোসেন সানু, জনাব
আবুল কালাম আজাদ, জনাব তালেয়া রেহমান, অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক কাজী
ফারুক আহমেদ, জনাব শারমিন মুরশিদ, জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার, জনাব এমএন
ইসলাম তপন, জনাব সাদেক খান, আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ৷
অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া যেন বিনষ্ট না হয়ে যায়, নাগরিকদের প্রত্যাশার
ভিত্তিতে যেন মনোনয়ন দেয়া হয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন,
ভোটাররা যেন প্যাসিভ এজেন্ট না হয়ে একটিভ এজেন্ট হয়ে উঠতে পারে এটা আমাদেরকে
মনে রাখতে হবে৷ মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে নাম আসবে, কিন্তু
প্রকৃত অর্থে যেন এটা একটা প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে আসে এবং মূল্যায়িত হয়৷ তিনি
বলেন, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অনেক বেশি৷ সামনে যে নির্বাচন
আসছে সে নির্বাচন নিয়ে অনেক সংশয় থাকলেও একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি
নির্বাচন হবে এবং এক্ষেত্রে সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে৷ তিনি বলেন,
আমলাতান্ত্রিক ধারা পরিবর্তিত হয়ে অংশগ্রহণমূলক ধারা আনার জন্যই আমরা কাজ
করছি৷
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে ড. বদিউল আলম মজমুদার বলেন, গণতান্ত্রিক
প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রেখে এটিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় এবং রাষ্ট্রে সুশাসন
কায়েম করতে হলে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক ঘোষিত নির্ধারিত দিনে
নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই৷ তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম যে, সকল
অস্পষ্টতা দূরীকরণের লক্ষ্যে দণ্ডপ্রাপ্তদের, আপিল দায়ের সত্ত্বেও,
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার বিধান সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব
আদেশে অন্-র্ভুক্ত করা হবে৷ দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ
ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি৷ সরকারও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়
নি৷ এ ধরনের বিধান আমাদের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখতো বলে তিনি উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা
আশা করি যে, সরকার বিচারাধীন মামলাগুলো নিষপত্তি করার ব্যাপারে
জরুরিভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যার মাধ্যমে কিছু দণ্ডপ্রাপ্ত
দুর্বৃত্তদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে৷ তবে নিশ্চিত করতে হবে যে,
বিচার প্রক্রিয়া যেন স্বচছ ও নিরপেক্ষ হয় এবং অভিযুক্তরা যেন ন্যায়বিচার
থেকে বঞ্চিত না হন৷ তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দু’মাস বাকী৷
এই সময় রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ সকলের কাম্য৷ আমরা আশা করি
যে, আর কালক্ষেপণ না করে দলগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিবন্ধিত হবে, যাতে
তারা একটি আইনী কাঠামোর মধ্যে আসে৷ তিনি বলেন, দলের সাথে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসী
ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন দলই এখন পর্যন্- ব্যবস্থা নেয় নি৷ আশা করি,
তারা এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে৷ আমরা আরো আশা করি যে, তারা চিহ্নিত
দুর্বৃত্তদের, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হোক আর না হোক, মনোনয়ন দেবে না৷
তারা মনোনয়ন বাণিজ্য এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্ম থেকে বিরত থাকবে৷
আগামী নির্বাচন হলে আমরা নির্বাচিত সরকার পাবো, কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকার
পাবো কি না এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে উল্লেখ করে জনাব আসিফ নজরুল বলেন,
রাজনৈতিক দলগুলিই এক্ষেত্রে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন প্রদানের মাধ্যমে
ইতিবাচক গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে৷ ড. দিলারা চৌধুরী সম্মিলিত প্রচেষ্টার
ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য
প্রার্থীদেরকে নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার ক্ষেত্রে
নির্বাচন কমিশনের আরো সাহসি ভূমিকা প্রত্যাশিত৷ তিনি বলেন এক্ষেত্রে
রাজনৈতিক দলের ভূমিকাও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ৷ বিশিষ্ট সাংবাদিক জগলুল
আহমেদ চৌধুরী প্রার্থীদের মানে গুণগত পরিবর্তন ও নাগরিকদের অধিকারের ওপর
বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধুমাত্র একটি সরকার আসলেই আর একটি
গণতান্ত্রিক রূপরেখা থাকলেই জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হবে না৷ নির্বাচন কি হবে?
এ বিষয়ে দেশের জনগণ সংশয়, অবিশ্বাস ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে উল্লেখ করে
সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সক্রিয় করে
তুলতে না পারলে সুষ্ঠু, ভালো নির্বাচনের ব্যাপারে সংশয় থেকেই যায়৷ এক্ষেত্রে
রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করণীয় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন৷
এ নির্বাচন থেকে বেশি কিছু আসবে না, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই দুর্নীতিবাজ
প্রার্থীরাই আবার ফিরে আসবেন এবং সেই সরকারই আবার প্রতিষ্ঠিত হবে যারা
গণতন্ত্রের নামে আবারো জনগণকে শোষণ করবেন উল্লেখ করে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক
ড. গোলাম মুরশিদ বলেন, আমি চাই তিনিই যেন নির্বাচিত হন, যিনি গণতন্ত্র মনা,
যিনি গণতন্ত্রকে তুলে ধরবেন৷ জনাৰ এনাম আহমেদ চৌধুরী রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রকাশ্য সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো বিগত নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন
দিয়েছিল তাদের অনেকেই জনসমাজে ধিকৃত ছিল৷ নাগরিক প্রত্যাশার ওপর ও পার্টির
মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মনোনয়ন
বাণিজ্য দূর করতে না পারলে আমাদের আর বিশেষ কোন আশা থাকবে না৷ ড. আব্দুর
রাজ্জাক বলেন, অভিযুক্ত যারা তারা কেন নির্বাচন করতে পারবে না৷ অভিযুক্তদের
মনোনয়ন দেবার ক্ষেত্রে দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের৷ আর যারা সাজাপ্রাপ্ত তাদের
ক্ষেত্রে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত৷ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ
তৃণমূল পর্যায় থেকে এবার প্রার্থী মনোনয়ন দেবার চিন্তা-ভাবনা করছে৷
কোন সংস্কারই পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সরকার আসলে টিকে থাকবে না এবং যে
আইনগুলি করা হচেছ তাও টিকে থাকবে না এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে জনাব শেখ শহিদুল
ইসলাম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা বারেবারেই হোঁচট খায়, এবারেও তাই যেন ঘটতে
চলেছে৷ তিনি বলেন, এটাকে ঘটতে দেয়া ঠিক হবে না৷ জনাব ইব্রাহিম খালিদ বলেন,
আমি মনে করি নির্বাচন হবে৷ কারণ নির্বাচন না হওয়ার কোন পরিস্থিতি ও সুযোগ
আমি দেখি না৷ জনগণের সচেতনতার ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে আসন্ন
নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভীত না
হয়ে আরো সাহসি ও সোচচার হওয়ার আহবান জানান৷ জনাব আবুল হাসনাত চৌধুরী বলেন,
আগে উপজেলা নির্বাচনটা করা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয় নি৷ এটা করা হলে
গণতন্ত্রের ভিত শক্ত হতো৷ দুই প্রধানমন্ত্রীর একত্রে বসাতে সকল কিছুর
সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না, এটা একেবারেই ভ্রান্- বলে তিনি উল্লেখ করেন৷
এক্ষেত্রে তিনি সংসদে বিজনেস এডভাইজরি কমিটিকে কার্যকর করে তোলা ও দুই
নেত্রীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যাপারে পরামর্শ দেন৷
এছাড়া গোলটেবিল আলোচনায় উত্থাপিত সুজন-এর প্রস্-াবসমূহের সাথে উপস্থিত
সকলেই ঐক্যমত পোষণ করেন৷
|
|