|
নবম
সংসদে কারা নির্বাচিত হলেন |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের
ওপর দাঁড় করাতে এবং রাষ্ট্রে সুশাসন কায়েম করতে হলে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে
নিবেদিত ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসা অত্যন্- গুরুত্বপূর্ণ৷
নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামা ও আয়কর
রিটার্নে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার জন্য
প্রার্থীদের তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করেছি৷ প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণও আমরা
গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছি৷ একইসাথে আমরা তুলনামূলক চিত্রগুলো সারা দেশে
বিতরণের ব্যবস্থ্ াকরেছি৷ বিতরণের একটি মাধ্যম ছিল প্রায় শ’ খানেক
নির্বাচনী এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটারদের ‘মুখোমুখি’
অনুষ্ঠান৷ নবম সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে৷ এতে কারা নির্বাচিত হলেন? তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আজ আমরা তুলে ধরছি৷ একইসাথে আমরা প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণও তুলে ধরছি৷ একথা সুস্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন যে, আজকের উপস্থাপিত সকল তথ্যই প্রার্থীদের নিজেদের প্রদত্ত হলফনামা ও আয়কর রির্টান থেকে নেয়া৷ সংগৃহীত তথ্যগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রসেসিং করা ছিল একটি দুরূহ কাজ৷ তা সত্ত্বেও আমরা তথ্যগুলো একত্রিতকরণের ক্ষেত্রে সর্বোচচ সতর্কতা অবলম্বন করেছি৷ অসংখ্য তথ্য একত্রিত করার ক্ষেত্রে কিছু ভুল থাকা স্বাভাবিক - মানুষের করা কাজে ভুল থাকবেই - যার জন্য আমরা আন্-রিকভাবে দুঃখিত৷ আপনাদের চোখে কোন ভুল ধরা পড়লে এবং জানালে আমরা সাথে সাথে তা সংশোধন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করব৷ আমাদের ওয়েবসাইট এর ঠিকানা হলো: |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
wbe©vPbx djvdj
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
দি ডেইলী স্টার প্রাপ্ত সূত্রে, এবার ৮৭ শতাংশ
দেয় ভোট পড়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচচ৷ দেয় ভোট প্রদানের হার ১৯৯১ সালে
ছিল ৫৫.৪৫ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ৭৫.৬০ শতাংশ এবং ২০০১ সালে ৭৫.৫৯ শতাংশ৷ কিছু কিছু আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘না’ ভোট পড়েছে৷ কোনো কোনো আসনে ‘না’ ভোটের অবস্থান ছিল তৃতীয়৷ প্রায় ৪ লক্ষ বা ১ শতাংশের কিছু কম ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন৷ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪৯.০২ শতাংশ, বিএনপি ৩২.৭৪ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ৬.৬৫ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৪.৫৫ শতাংশ এবং অবশিষ্টরা ৭.০৪ শতাংশ (০১ জানুয়ারি, ২০০৯ দি ডেইলী স্টার)৷ .....শতাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে৷ বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, মহাজোট মোট ২৬২টি আসনে জয়ী হয়েছে৷ আওয়ামী লীগ নিজেই ২৩০টি, অর্থাৎ তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে৷ ঢাকা ও সিলেট বিভাগে বিএনপি’র কোনো প্রার্থী জয়ী হয় নি৷ জোট সরকারের মোট ৫ জন সাবেক মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি ছাড়া সবাই পরাজিত হয়েছেন৷ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে এমন ২২ জন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন৷ তাদের মধ্যে মাত্র ২ জন নির্বাচিত হয়েছেন৷ এদের ১ জন আওয়ামী লীগ, আরেকজন বিএনপি দলভুক্ত৷ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১৪ জন সংখ্যালঘু ও আধিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত৷ এদের সবাই আওয়ামী লীগের অন্-র্ভুক্ত৷ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নির্বাচিতদের মধ্যে ৩ জন ঋণখেলাপী রয়েছেন, যারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন৷ তাদের মধ্যে ২ জন বিএনপি’র এবং ১ জন আওয়ামী লীগের৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
Avmb Abyhvqx ivR‰bwZK `jmg~‡ni djvdj, 1991-2008
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
গত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি
পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় গিয়েছে৷ বিজয়ী দলের আসন সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি
পেয়েছে৷ ১৯৯১ সালে বিএনপি পেয়েছিল ১৪০টি আসন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল
১৪৬টি আসন, ২০০১ সালে বিএনপি পেয়েছিল ১৯৩টি আসন এবং বর্তমান সংসদে আওয়ামী
লীগের আসন সংখ্যা ২৩০৷ অর্থাৎ ভোটাররা ক্রমাগতভাবে ক্ষুব্ধ হচেছ এবং
ব্যর্থতা ও অপশাসনের জন্য ক্ষমতাসীনদেরকে আরো জোরালোভাবে প্রত্যাখান করেছেন৷
ক্রমাগতভাবে প্রধান দু’টি দলের শক্তি ও সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
Aóg msm` m`m¨‡`i g‡a¨ hviv wbe©vP‡b cÖwZØw›ØZv K‡i‡Qb Ges wR‡Z‡Qb
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
বিকল্পধারা ও এলডিপি’র সকল প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রার্থীই অষ্টম সংসদে বিএনপি’র সংসদ সদস্য ছিলেন৷ স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৫
জনের মধ্যে ১১ জন বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন৷ বাকি ৪ জন অষ্টম জাতীয়
সংসদে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং এবার
স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন৷ বিএনপি’র টিকেট নিয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদের ৯৮ জন সদস্য নবম জাতীয় সংসদের ১০২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন৷ এদের মধ্যে ১৪ জন ১৬টি আসনে জিতেছেন৷ আওয়ামী লীগ টিকেট নিয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদের ৪১ জন সদস্য নবম জাতীয় সংসদে ৪৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন৷ এর মধ্যে সকলে সবকয়টি আসনেই জিতেছেন৷ তবে আওয়ামী লীগের ২ জন সাবেক সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন৷ নির্বাচনে বিএনপি’র বিপর্যয়ে একটি বড় কারণ হলো ‘এন্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর’ বা পদে অধিষ্ঠিত থাকার কারণজনিত সুনাম-বদনাম৷ বিএনপি’র মোট ১২৯ জন সাবেক সংসদ সদস্য ১৩৭ টি আসনে বিভিন্ন টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১৫টি আসনে জয়লাভ করেছেন৷ বিএনপি-জামায়াতের সাবেক এমপি’দের এমন গণহারে পরাজয়ের একটি বড় কারণ এদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য অপকর্মের ব্যাপক বদনাম রয়েছে, তাদের অনেকেই সাধারণ ভোটারের মুখোমুখি হতে পারেন নি এবং নির্বাচনে প্রত্যাখাত হয়েছেন৷ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে জয়ের একটি বড় কারণ হলো তাদের মাত্র ৪১ জন সাবেক সংসদ সদস্য ৪৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন৷ তাই আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে ‘এন্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর’ ব্যাপক ভূমিকা রাখে নি৷ ২৯৯টি আসনের মধ্যে যে ২৯৩ জন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে ১৬৩ জন বা ৫৬ শতাংশই নতুন মুখ, যারা প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৩২ জন বা ৫৮ শতাংশ, বিএনপি’র ১৩ জন, জাতীয় পার্টির ১৪ জন, জামায়াতের ২ জন এবং স্বতন্ত্র ২ জন রয়েছেন৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
wbe©vwPZ‡`i wk¶vMZ †hvM¨Zv
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
নির্বাচিতদের মধ্যে অধিকাংশই উচচশিক্ষিত৷ আওয়ামী
লীগের ৮২ শতাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে৷
বিএনপি’র এমপি’দের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে ৭৯ শতাংশের৷
সার্বিকভাবে ৮২ শতাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি
রয়েছে৷ প্রায় ৭ শতাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধির শিক্ষাগত যোগ্যতা এস.এস.সি ও
তার কম৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
wbe©vwPZ‡`i †ckv
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
পেশাগত দিক থেকে অধিকাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধিই
ব্যবসায়ি৷ আওয়ামী লীগের ৫৩ শতাংশ ব্যবসায়ি ও বিএনপি’র ৬৯ শতাংশ ব্যবসায়ি৷
সার্বিকভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৫৭ শতাংশ ব্যবসা তাদের পেশা বলে
হলফনামায় ঘোষণা দিয়েছেন৷ তবে আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে সংসদ সদস্যদের
মধ্যে ব্যবসায়িদের হার আরো বেশি হবে বলে আমাদের ধারণা৷ নির্বাচিতদের মধ্যে হলফনামায় ১০ জন প্রার্থী রাজনীতিকে পেশা বলে দাবি করেছেন৷ উল্লেখ্য যে, অতীতে অনেক ব্যক্তি সংসদে নির্বাচিত হয়ে ব্যবসায়ি হয়েছেন৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
wbe©vwPZ‡`i gvgjv msµvš— Z_¨ (eZ©gvb/AZxZ)
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৪২
শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ২৭ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে
মামলা রয়েছে৷ বিএনপি’র নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৭৬ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ৫৯ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে৷ জাতীয় পার্টি’র নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৪১ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ৩৭ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে৷ জামায়েত ইসলামী’র নির্বাচিত ২ জন সংসদ সদস্যদের ১ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং এখনও রয়েছে৷ সার্বিকভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৪৬ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ৩১ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে৷ প্রার্থীদের মধ্যে ৩ জন ছিলেন হত্যার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং রাষ্ট্রপতির কর্তৃক ক্ষমাপ্রাপ্ত, যার দুই জন বিএনপি মনোনীত৷ এদের কেউই নির্বাচিত হন নি৷ নির্বাচিতদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে হত্যার মামলা রুজু আছে৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
`yb©xwZi Awf‡hv‡M Awfhy³ cÖv_©x I wbe©vwPZ msm` m`m¨ (msL¨v)
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
আওয়ামী লীগের তুলনায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত
বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি৷ তাই গুণগত দিক থেকে আওয়ামী লীগের
মনোনয়ন অপেক্ষাকৃত ভালো ছিল৷ দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি’র অধিকাংশ প্রার্থীকে ভোটাররা প্রত্যাখান করেছে৷ একইসাথে প্রত্যাখান করেছে তাদের কিছু প্রার্থীকে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ নেই৷ আমাদের জানামতে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১ জন দণ্ডপ্রাপ্ত রয়েছেন, যিনি আদালতের হস্-ক্ষেপে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
bvixi Ae¯’vb
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
মোট ২৩টি আসনে ১৯ জন নারী বিজয়ী হয়েছেন৷ এদের
মধ্যে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া তিনটি করে আসনে বিজয়ী হন৷ অর্থাৎ
প্রায় ৮ শতাংশ আসনে নারীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং নব-নির্বাচিত ২৯৩ জন সংসদ
সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ নারী৷ মহাজোটের ১৬ জন নির্বাচিত নারীর মধ্যে ১৫ জনই আওয়ামী লীগের৷ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর্থিক তথ্য এনবিআর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের টিআইএন নম্বর নেই, অর্থাৎ তারা আয়করদাতা নন৷ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জীবনযাত্রা প্রণালীর তথ্য অত্যন্- প্রণীধানযোগ্য৷ নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ কোটিপতি, যাদের নিজ ও নির্ভরশীলদের নামে নূন্যতম ১ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে৷ তবে যেক্ষেত্রে সম্পদের বর্ণনা দেয়া আছে কিন্তু মূল্য উল্লেখ নেই সেগুলো গণনা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়াও যৌথ্য মালিকানার সম্পদও আমাদের হিসাবে অন্-র্ভুক্ত করা হয় নি৷ উপরন্তু অনেকে সম্পদের তথ্য গোপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ সকল ঘোষিত-অঘোষিত সম্পদের বর্তমান মূল্য হিসাব করলে নির্বাচিতদের তালিকায় কোটিপতির সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে৷ অর্থাৎ আমাদের সংসদ সত্যিকারার্থেই কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হতে পারে, যা হবে প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ধারণার পরিপন্থি৷ মোট ১২৮ জন কোটিপতির মধ্যে আওয়ামী লীগের ৯২ জন, জাতীয় পার্টির ১৪ জন, বিএনপির ১৯ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১ জন, বিজেপি’র ১ জন ও ১ জন স্বতন্ত্র৷ নিজেদের ঘোষণানুযায়ী ১০ কোটির টাকার ওপর সম্পদ আছে ২১ জনের৷ সর্বোচচ সম্পদের অধিকারী গোলাম দস্-গীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-১ আসন (৬৯,২৩,৭৪,৪২৪/- টাকার সম্পদ, দায় রয়েছে ২৩,৭৩,৬৭,০৪৭/-) সর্বনিম্ন সম্পদের অধিকারী শেখ আব্দুল ওহাব, যশোর-৬৷ ৪,১০,০০০/- টাকার সম্পদ৷ এর পরের অবস্থানে আছেন রণজিত কুমার রায়, যশোর-৪; মোট সম্পদ ৪,৯৫,০০০/-) প্রশ্ন থেকে যায়, কোটিপতিরা কীভাবে কোটিপতি হলেন? উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে? মধ্যস্বত্ত্বভোগীর ভূমিকা পালন করে, না রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে? পরিশেষে আমরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আন্-রিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করি৷ একইসাথে আমরা তাদেরকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচছা জানাই৷ আমরা তাদের সফলতা কামনা করি, কারণ তাদের সফলতাই হবে পুরো জাতির সফলতা৷ এক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব, তবে ওয়াচডগের অবস্থান থেকে৷ আমরা আশা করি যে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে৷ ইতিহাসের শিক্ষা হলো যে, ক্ষমতা দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চরম যথেচছাচারের জন্ম দেয়৷ এছাড়াও আমরা আশা করি যে, বিজয়ীরা এখনই কিছু আস্থা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ নেবেন৷ একটা আস্থা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ হতে পারে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত, অভিযুক্ত এবং বদনাম রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরকে মন্ত্রীসভা থেকে দূরে রাখা৷ কলা গাছে যেমন কাঁঠাল হয় না, তেমনি দুর্নীতিবাজ-দুর্বৃত্তরা নীতি-নির্ধারক হলে তাদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক আচরণ ও সুশাসন আশা করা যায় না৷ |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||