নবম সংসদে কারা নির্বাচিত হলেন
ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (০১ জানুয়ারি, ২০০৯)


 

আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে এবং রাষ্ট্রে সুশাসন কায়েম করতে হলে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসা অত্যন্- গুরুত্বপূর্ণ৷ নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রার্থীদের তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করেছি৷ প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণও আমরা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছি৷ একইসাথে আমরা তুলনামূলক চিত্রগুলো সারা দেশে বিতরণের ব্যবস্থ্‌ াকরেছি৷ বিতরণের একটি মাধ্যম ছিল প্রায় শ’ খানেক নির্বাচনী এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটারদের ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান৷

নবম সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে৷ এতে কারা নির্বাচিত হলেন? তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আজ আমরা তুলে ধরছি৷ একইসাথে আমরা প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণও তুলে ধরছি৷ একথা সুস্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন যে, আজকের উপস্থাপিত সকল তথ্যই প্রার্থীদের নিজেদের প্রদত্ত হলফনামা ও আয়কর রির্টান থেকে নেয়া৷

সংগৃহীত তথ্যগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রসেসিং করা ছিল একটি দুরূহ কাজ৷ তা সত্ত্বেও আমরা তথ্যগুলো একত্রিতকরণের ক্ষেত্রে সর্বোচচ সতর্কতা অবলম্বন করেছি৷ অসংখ্য তথ্য একত্রিত করার ক্ষেত্রে কিছু ভুল থাকা স্বাভাবিক - মানুষের করা কাজে ভুল থাকবেই - যার জন্য আমরা আন্-রিকভাবে দুঃখিত৷ আপনাদের চোখে কোন ভুল ধরা পড়লে এবং জানালে আমরা সাথে সাথে তা সংশোধন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করব৷ আমাদের ওয়েবসাইট এর ঠিকানা হলো:

wbe©vPbx djvdj

 

`jmg~n

ewikvj

PÆMÖvg

XvKv

ivRkvnx

Lyjbv

wm‡jU

†gvU

gnv‡RvU

AvIqvgx jxM

16

32

87

48

30

17

230

RvZxq cvwU©

2

2

5

14

2

2

27

evsjv‡`‡ki IqvK©vm cvwU©

-

-

1

1

-

-

2

RvZxq mgvRZvwš¿K `j (Rvm`)

-

2

-

-

1

-

3

†gvU

 

 

 

 

 

 

 

262

Pvi `jxq HK¨ †RvU

weGbwc

2

17

-

8

2

-

29

evsjv‡`k Rvgvqv‡Z Bmjvgx

-

2

-

-

-

-

2

Bmjvgx HK¨ †RvU

-

-

-

-

-

-

-

evsjv‡`k RvZxq cvwU© (we‡Rwc)

1

-

-

-

-

-

1

†gvU

 

-

-

-

-

-

-

32

 

Ab¨vb¨ `j/¯^Zš¿

-

2

1

1

1

 

5

 

†gvU

21

57

94

72

36

19

299

 

দি ডেইলী স্টার প্রাপ্ত সূত্রে, এবার ৮৭ শতাংশ দেয় ভোট পড়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচচ৷ দেয় ভোট প্রদানের হার ১৯৯১ সালে ছিল ৫৫.৪৫ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ৭৫.৬০ শতাংশ এবং ২০০১ সালে ৭৫.৫৯ শতাংশ৷
কিছু কিছু আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘না’ ভোট পড়েছে৷ কোনো কোনো আসনে ‘না’ ভোটের অবস্থান ছিল তৃতীয়৷ প্রায় ৪ লক্ষ বা ১ শতাংশের কিছু কম ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন৷
সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪৯.০২ শতাংশ, বিএনপি ৩২.৭৪ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ৬.৬৫ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৪.৫৫ শতাংশ এবং অবশিষ্টরা ৭.০৪ শতাংশ (০১ জানুয়ারি, ২০০৯ দি ডেইলী স্টার)৷ .....শতাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে৷
বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, মহাজোট মোট ২৬২টি আসনে জয়ী হয়েছে৷ আওয়ামী লীগ নিজেই ২৩০টি, অর্থাৎ তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে৷ ঢাকা ও সিলেট বিভাগে বিএনপি’র কোনো প্রার্থী জয়ী হয় নি৷
জোট সরকারের মোট ৫ জন সাবেক মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি ছাড়া সবাই পরাজিত হয়েছেন৷
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে এমন ২২ জন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন৷ তাদের মধ্যে মাত্র ২ জন নির্বাচিত হয়েছেন৷ এদের ১ জন আওয়ামী লীগ, আরেকজন বিএনপি দলভুক্ত৷
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১৪ জন সংখ্যালঘু ও আধিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত৷ এদের সবাই আওয়ামী লীগের অন্-র্ভুক্ত৷
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নির্বাচিতদের মধ্যে ৩ জন ঋণখেলাপী রয়েছেন, যারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন৷ তাদের মধ্যে ২ জন বিএনপি’র এবং ১ জন আওয়ামী লীগের৷
 

Avmb Abyhvqx ivR‰bwZK `jmg~‡ni djvdj, 1991-2008

 

 

RvZxq msm` wbe©vPb

`jmg~n

cÂg

1991

(27 †deª“qvwi)

mßg

1996

(1 †deª“qvwi)

Aóg

2001

(1 A‡±vei)

beg

2008

(29 wW‡m¤^i)

gnv‡RvU

AvIqvgx jxM

88

146

62

230

RvZxq cvwU©

35

32

14

27

evsjv‡`‡ki IqvK©vm cvwU©

1

-

-

2

RvZxq mgvRZvwš¿K `j (Rvm`)

-

1

-

3

MYZš¿x cvwU©

1

-

 

-

Pvi `jxq HK¨ †RvU

weGbwc

140

116

193

29

evsjv‡`k Rvgvqv‡Z Bmjvgx

18

3

17

2

Bmjvgx HK¨ †RvU

1

1

2

-

evsjv‡`k RvZxq cvwU© (we‡Rwc)

-

-

-

1

 

Ab¨vb¨ `j/¯^Zš¿

16

1

12

5

 

†gvU

300

300

300

299

¶gZvmxb `j

weGbwc

AvIqvgx jxM

Pvi`jxq HK¨ †RvU

gnv‡RvU

 

গত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় গিয়েছে৷ বিজয়ী দলের আসন সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ১৯৯১ সালে বিএনপি পেয়েছিল ১৪০টি আসন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ১৪৬টি আসন, ২০০১ সালে বিএনপি পেয়েছিল ১৯৩টি আসন এবং বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা ২৩০৷ অর্থাৎ ভোটাররা ক্রমাগতভাবে ক্ষুব্ধ হচেছ এবং ব্যর্থতা ও অপশাসনের জন্য ক্ষমতাসীনদেরকে আরো জোরালোভাবে প্রত্যাখান করেছেন৷ ক্রমাগতভাবে প্রধান দু’টি দলের শক্তি ও সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে৷
 

Aóg msm` m`m¨‡`i g‡a¨ hviv wbe©vP‡b cÖwZØw›ØZv K‡i‡Qb Ges wR‡Z‡Qb

`j

cÖwZØw›ØZv Kiv Avmb msL¨v

weRqx Avmb msL¨v

cÖwZØ›Øx mvsm` msL¨v

weRqx mvsm` msL¨v

AvIqvgx jxM

43

43

41

41

weGbwc

114

15

110

13

RvZxq cvwU©

9

5

8

5

RvgvqvZ

11

-

11

-

weKíaviv*

5

-

2

-

GjwWwc*

3

1

2

1

K…lK kªwgK RbZv jxM

2

-

1

-

¯^Zš¿*

17

-

17

-

 

বিকল্পধারা ও এলডিপি’র সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই অষ্টম সংসদে বিএনপি’র সংসদ সদস্য ছিলেন৷ স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৫ জনের মধ্যে ১১ জন বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন৷ বাকি ৪ জন অষ্টম জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং এবার স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন৷
বিএনপি’র টিকেট নিয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদের ৯৮ জন সদস্য নবম জাতীয় সংসদের ১০২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন৷ এদের মধ্যে ১৪ জন ১৬টি আসনে জিতেছেন৷
আওয়ামী লীগ টিকেট নিয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদের ৪১ জন সদস্য নবম জাতীয় সংসদে ৪৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন৷ এর মধ্যে সকলে সবকয়টি আসনেই জিতেছেন৷ তবে আওয়ামী লীগের ২ জন সাবেক সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন৷
নির্বাচনে বিএনপি’র বিপর্যয়ে একটি বড় কারণ হলো ‘এন্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর’ বা পদে অধিষ্ঠিত থাকার কারণজনিত সুনাম-বদনাম৷ বিএনপি’র মোট ১২৯ জন সাবেক সংসদ সদস্য ১৩৭ টি আসনে বিভিন্ন টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১৫টি আসনে জয়লাভ করেছেন৷ বিএনপি-জামায়াতের সাবেক এমপি’দের এমন গণহারে পরাজয়ের একটি বড় কারণ এদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য অপকর্মের ব্যাপক বদনাম রয়েছে, তাদের অনেকেই সাধারণ ভোটারের মুখোমুখি হতে পারেন নি এবং নির্বাচনে প্রত্যাখাত হয়েছেন৷
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে জয়ের একটি বড় কারণ হলো তাদের মাত্র ৪১ জন সাবেক সংসদ সদস্য ৪৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন৷ তাই আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে ‘এন্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর’ ব্যাপক ভূমিকা রাখে নি৷
২৯৯টি আসনের মধ্যে যে ২৯৩ জন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে ১৬৩ জন বা ৫৬ শতাংশই নতুন মুখ, যারা প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৩২ জন বা ৫৮ শতাংশ, বিএনপি’র ১৩ জন, জাতীয় পার্টির ১৪ জন, জামায়াতের ২ জন এবং স্বতন্ত্র ২ জন রয়েছেন৷

wbe©vwPZ‡`i wk¶vMZ †hvM¨Zv

 

 

`jmg~n

GmGmwmi bx‡P

GmGmwm

GBPGmwm

mœvZK

mœvZ‡KvËi

D‡j­L †bB

†gvU

gnv‡RvU

AvIqvgx jxM

5

(2.17%)

9

(3.92%)

27

(11.74%)

98

(42.61%)

90

(39.13%)

1

(0.43%)

230

(100%)

RvZxq cvwU©

-

2

(7.41%

2

(7.41%)

17

(62.96%)

6

(22.22%)

-

27

(100%)

evsjv‡`‡ki IqvK©vm cvwU©

-

-

-

-

2

(100%)

-

2

(100%)

RvZxq mgvRZvwš¿K `j(Rvm`)

-

-

-

3

(100%)

-

-

3

(100%)

†gvU

 

5

(1.91%)

11

(4.20%)

29

(11.07%)

118

(45.04%)

98

(37.40%)

1

(0.38%)

262

(100%)

Pvi `jxq HK¨ †RvU

weGbwc

-

3

(10.34%)

1

(3.45%)

12

(41.38%)

8

(27.59%)

5

(17.24%)

29

(100%)

Rvgvqv‡Z Bmjvgx

-

-

-

-

2

(100%)

-

2

(100%)

Bmjvgx HK¨ †RvU

-

-

-

-

-

-

-

evsjv‡`k RvZxq cvwU© (we‡Rwc)

-

-

-

-

1

(100%)

-

1

(100%)

†gvU

 

-

3

(9.38%)

1

(3.13%)

12

(37.40%)

11

(34.38%)

5

(15.62%)

32

(100%)

 

Ab¨vb¨ `j/¯^Zš¿

-

-

-

4

(80.00%)

1

(20.00%)

-

5

(100%)

 

†gvU

5

(1.67%)

14

(4.68%)

30

(10.03%)

134

(44.82%)

110

(36.79%)

6

(2.01%)

299

(100%)

 

নির্বাচিতদের মধ্যে অধিকাংশই উচচশিক্ষিত৷ আওয়ামী লীগের ৮২ শতাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে৷ বিএনপি’র এমপি’দের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে ৭৯ শতাংশের৷ সার্বিকভাবে ৮২ শতাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে৷ প্রায় ৭ শতাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধির শিক্ষাগত যোগ্যতা এস.এস.সি ও তার কম৷
 

wbe©vwPZ‡`i †ckv

 

 

`jmg~n

K…wl

e¨emv

PvKzix

AvBb

Ab¨vb¨

†gvU

gnv‡RvU

AvIqvgx jxM

14

(6.09%)

121

(52.61%)

21

(9.13%)

38

(16.52%)

36

(15.65%)

230

(100%)

RvZxq cvwU©

1

(3.70%)

19

(70.38%)

3

(11.11%)

3

(11.11%)

1

(3.70%)

27

(100%)

evsjv‡`‡ki IqvK©vm cvwU©

-

2

(100%)

-

-

-

2

(100%)

RvZxq mgvRZvwš¿K `j (Rvm`)

-

1

(33.33%)

-

1

(33.33%)

1

(33.33%)

3

(100%)

†gvU

 

15

(5.73%)

143

(54.58%)

24

(9.16%)

42

(16.03%)

38

(14.50%)

262

(100%)

Pvi `jxq HK¨ †RvU

weGbwc

2

(6.90%)

20

(68.96%)

-

2

(6.90%)

5

(17.24%)

29

(100%)

evsjv‡`k Rvgvqv‡Z Bmjvgx

-

2

(100%)

-

-

-

2

(100%)

Bmjvgx HK¨ †RvU

-

-

-

-

-

-

evsjv‡`k RvZxq cvwU© (we‡Rwc)

-

1

(100%)

-

-

-

1

(100%)

†gvU

 

2

(6.25%)

23

(71.88%)

-

2

(6.25%)

5

(15.62%)

32

(100%)

 

Ab¨vb¨ `j/¯^Zš¿

2

(40.00%)

3

(60.00%)

-

-

-

5

(100%)

 

†gvU

19

(6.35%)

169

(56.52%)

24

(8.03%)

44

(14.72%)

43

(14.38%)

299

(100%)

 

পেশাগত দিক থেকে অধিকাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধিই ব্যবসায়ি৷ আওয়ামী লীগের ৫৩ শতাংশ ব্যবসায়ি ও বিএনপি’র ৬৯ শতাংশ ব্যবসায়ি৷ সার্বিকভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৫৭ শতাংশ ব্যবসা তাদের পেশা বলে হলফনামায় ঘোষণা দিয়েছেন৷ তবে আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে সংসদ সদস্যদের মধ্যে ব্যবসায়িদের হার আরো বেশি হবে বলে আমাদের ধারণা৷
নির্বাচিতদের মধ্যে হলফনামায় ১০ জন প্রার্থী রাজনীতিকে পেশা বলে দাবি করেছেন৷
উল্লেখ্য যে, অতীতে অনেক ব্যক্তি সংসদে নির্বাচিত হয়ে ব্যবসায়ি হয়েছেন৷

wbe©vwPZ‡`i gvgjv msµvš— Z_¨ (eZ©gvb/AZxZ)

 

 

`jmg~n

eZ©gvb gvgjv

AZx‡Zi gvgjv

†gvU

gnv‡RvU

AvIqvgx jxM

61 (26.52%)

96 (41.74%)

230

 

RvZxq cvwU©

10 (37.04%)

11

(40.74%)

27

 

evsjv‡`‡ki IqvK©vm cvwU©

1 (50.00%)

2

(100.0%)

2

 

RvZxq mgvRZvwš¿K `j (Rvm`)

2 (66.67%)

2

(66.67%)

3

MYZš¿x cvwU©

-

-

-

Rv‡Ki cvwU©

-

-

-

†gvU

 

74 (28.24%)

111 (42.37%)

262

 

Pvi `jxq HK¨ †RvU

weGbwc

17 (58.62%)

22 (75.86%)

29

 

evsjv‡`k Rvgvqv‡Z Bmjvgx

1 (50.00%)

1

(50.00%)

2

 

Bmjvgx HK¨ †RvU

-

-

-

evsjv‡`k RvZxq cvwU© (we‡Rwc)

-

-

1

 

†gvU

 

18 (56.25%)

23 (71.88%)

32

 

 

Ab¨vb¨ `j/¯^Zš¿

-

3

(60.0%)

5

 

 

†gvU

92 (30.77%)

137 (45.82%)

299

 

 

আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৪২ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ২৭ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে৷
বিএনপি’র নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৭৬ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ৫৯ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে৷
জাতীয় পার্টি’র নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৪১ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ৩৭ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে৷
জামায়েত ইসলামী’র নির্বাচিত ২ জন সংসদ সদস্যদের ১ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং এখনও রয়েছে৷
সার্বিকভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৪৬ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং প্রায় ৩১ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে৷
প্রার্থীদের মধ্যে ৩ জন ছিলেন হত্যার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং রাষ্ট্রপতির কর্তৃক ক্ষমাপ্রাপ্ত, যার দুই জন বিএনপি মনোনীত৷ এদের কেউই নির্বাচিত হন নি৷
নির্বাচিতদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে হত্যার মামলা রুজু আছে৷
 

`yb©xwZi Awf‡hv‡M Awfhy³ cÖv_©x I wbe©vwPZ msm` m`m¨ (msL¨v)

 

weGbwc

AvIqvgx jxM

RvZxq cvwU©

Ab¨vb¨

†gvU

cÖwZØ›ØxZvKvix cÖv_©x

29 Rb

17 Rb

2 Rb

6 Rb

54 Rb

wbe©vwPZ msm` m`m¨

6 Rb

17 Rb

1 Rb

 

24 Rb

 

আওয়ামী লীগের তুলনায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি৷ তাই গুণগত দিক থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন অপেক্ষাকৃত ভালো ছিল৷
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি’র অধিকাংশ প্রার্থীকে ভোটাররা প্রত্যাখান করেছে৷ একইসাথে প্রত্যাখান করেছে তাদের কিছু প্রার্থীকে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ নেই৷
আমাদের জানামতে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১ জন দণ্ডপ্রাপ্ত রয়েছেন, যিনি আদালতের হস্-ক্ষেপে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন৷
 

bvixi Ae¯’vb

 

cÖwZØw›ØZvKvix bvix

wbe©vwPZ bvix

`‡ji bvg

Avmb

msL¨v

Avmb

msL¨v

gnv‡RvU

22

19

18

16

Pvi`j

15

13

5

3

Ab¨vb¨

25

26

 

 

†gvU

62

58

23

19

 

মোট ২৩টি আসনে ১৯ জন নারী বিজয়ী হয়েছেন৷ এদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া তিনটি করে আসনে বিজয়ী হন৷ অর্থাৎ প্রায় ৮ শতাংশ আসনে নারীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং নব-নির্বাচিত ২৯৩ জন সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ নারী৷
মহাজোটের ১৬ জন নির্বাচিত নারীর মধ্যে ১৫ জনই আওয়ামী লীগের৷

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর্থিক তথ্য

এনবিআর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের টিআইএন নম্বর নেই, অর্থাৎ তারা আয়করদাতা নন৷
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জীবনযাত্রা প্রণালীর তথ্য অত্যন্- প্রণীধানযোগ্য৷
নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ কোটিপতি, যাদের নিজ ও নির্ভরশীলদের নামে নূন্যতম ১ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে৷ তবে যেক্ষেত্রে সম্পদের বর্ণনা দেয়া আছে কিন্তু মূল্য উল্লেখ নেই সেগুলো গণনা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়াও যৌথ্য মালিকানার সম্পদও আমাদের হিসাবে অন্-র্ভুক্ত করা হয় নি৷ উপরন্তু অনেকে সম্পদের তথ্য গোপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ সকল ঘোষিত-অঘোষিত সম্পদের বর্তমান মূল্য হিসাব করলে নির্বাচিতদের তালিকায় কোটিপতির সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে৷ অর্থাৎ আমাদের সংসদ সত্যিকারার্থেই কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হতে পারে, যা হবে প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ধারণার পরিপন্থি৷
মোট ১২৮ জন কোটিপতির মধ্যে আওয়ামী লীগের ৯২ জন, জাতীয় পার্টির ১৪ জন, বিএনপির ১৯ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১ জন, বিজেপি’র ১ জন ও ১ জন স্বতন্ত্র৷
নিজেদের ঘোষণানুযায়ী ১০ কোটির টাকার ওপর সম্পদ আছে ২১ জনের৷ সর্বোচচ সম্পদের অধিকারী গোলাম দস্-গীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-১ আসন (৬৯,২৩,৭৪,৪২৪/- টাকার সম্পদ, দায় রয়েছে ২৩,৭৩,৬৭,০৪৭/-)
সর্বনিম্ন সম্পদের অধিকারী শেখ আব্দুল ওহাব, যশোর-৬৷ ৪,১০,০০০/- টাকার সম্পদ৷ এর পরের অবস্থানে আছেন রণজিত কুমার রায়, যশোর-৪; মোট সম্পদ ৪,৯৫,০০০/-)
প্রশ্ন থেকে যায়, কোটিপতিরা কীভাবে কোটিপতি হলেন? উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে? মধ্যস্বত্ত্বভোগীর ভূমিকা পালন করে, না রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে?

পরিশেষে আমরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আন্-রিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করি৷ একইসাথে আমরা তাদেরকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচছা জানাই৷ আমরা তাদের সফলতা কামনা করি, কারণ তাদের সফলতাই হবে পুরো জাতির সফলতা৷ এক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব, তবে ওয়াচডগের অবস্থান থেকে৷

আমরা আশা করি যে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে৷ ইতিহাসের শিক্ষা হলো যে, ক্ষমতা দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চরম যথেচছাচারের জন্ম দেয়৷ এছাড়াও আমরা আশা করি যে, বিজয়ীরা এখনই কিছু আস্থা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ নেবেন৷ একটা আস্থা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ হতে পারে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত, অভিযুক্ত এবং বদনাম রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরকে মন্ত্রীসভা থেকে দূরে রাখা৷ কলা গাছে যেমন কাঁঠাল হয় না, তেমনি দুর্নীতিবাজ-দুর্বৃত্তরা নীতি-নির্ধারক হলে তাদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক আচরণ ও সুশাসন আশা করা যায় না৷