|
|
|
||
|
শেষ পর্যন্- সকল জল্পনা কল্পনার অবসান
ঘটিয়ে গত ২৩ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজ এবং ৩১ জানুয়ারি
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ পদত্যাগ
করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আরো একজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, কেবলমাত্র ব্যক্তির পরিবর্তন করে তদস্থলে দক্ষ ও যোগ্য লোকদের দায়িত্ব দিলেই এই সমস্যার পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এতে হয়ত একটি সাময়িক সমাধান আসতে পারে, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার, যার মাধ্যমে কমিশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রনমুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। একইসাথে কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান করতে হবে। একটি শক্তিশালী, স্বাধীন, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই স্বল্পতম সময়ে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে। নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই হবে না, এটি হতে হবে দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য কল্যাণকর। আর এমন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার দরকার। আরো দরকার রাজনৈতিক দলের সংস্কার। নির্বাচনী সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয় হ্রাস করতে হবে, নির্বাচনী বিরোধ দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে এবং কালো টাকা ও পেশী শক্তির মালিক তথা চিহ্নিত দুর্বৃত্তদেরকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না, কারণ রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি। তাই আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বৃত্তমুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক দলের জরুরি সংস্কার আবশ্যক। সংস্কারের লক্ষ্য হবে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্-রে গণতন্ত্রের চর্চা, এর আর্থিক লেন-দেনে স্বচ্ছতা ও এর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলের প্রাথমিক সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন। তবে আমরা আশা করি যে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি শুদ্ধি অভিযান শুরু করবে। বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। সরকারের আইন উপদেষ্টার বক্তব্যেও একই ধরনের আভাস পাওয়া গেছে। আমরা আনন্দিত, কারণ ‘সুজন’র পক্ষ থেকে আমরা বহুদিন ধরেই এই দাবি করে আসছি।
সম্পাদনা |
“চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের উপায়:
কার কী করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে গত ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৬ সিরডাপ মিলনায়তনে “চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের উপায়: কার কী করণীয়” শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সুজন সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ-এর সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। গোলটেবিল বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জনাব রেহমান সোবহান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব মোঃ হাফিজ উদ্দিন খান ও জনাব এ এসএম শাহজাহান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী জনাব আবদুল মতিন খসরু ও শেখ শহিদুল ইসলাম, সাবেক সাংসদ জনাব জি এম কাদের, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুসলেহউদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ বি এম মূসা ও সৈয়দ আবুল মকসুদ, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব খোন্দকার ইব্রাহীম খালিদ, নিজেরা করি’র নির্বাহী প্রধান খুশী কবির, সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হান্নান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব বদরে আলম খান, ব্যাবসায়ি মঈনউদ্দিন মোমেন, ‘নাগরিক উদ্যোগে’র জাকির হোসেন প্রমুখ। আলোচনার শুরুতে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচন দেশবাসীর আকাঙক্ষা। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোই যেন আজ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্- তাৎপর্যপূর্ণর্ বলে তিনি মন্-ব্য করেন। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ ও বিরাজমান অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান করার মধ্য দিয়ে যথাসময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য, আর সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য দরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। এ জন্য প্রয়োজন প্রতি কেন্দ্রে নাগরিকের ভিজিলেন্স টীম, যাতে প্রকৃত জনমত ছিনতাই হয়ে না যায়। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই হবে না, এটি অর্থবহও হতে হবে। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের নির্বাচনকে সফল করার জন্য ছয়টি উপাদান সহায়তা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এগুলো হলো: (১) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতা; (২) নির্বাচন কমিশনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সকলের আস্থা; (৩) প্রশাসন ও আইন-শৃঙখলা বাহিনীর পক্ষপাতহীনতা (৪) স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সর্বস্-রের জনগণের একতা; (৫) কালোটাকা ও পেশীশক্তির মালিক তথা দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায় অনুপস্থিতি এবং (৬) সুষ্ঠু নির্বাচন তথা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসমূহের সুষপষ্ট অঙ্গীকার। কিন্তু এ সকল অবস্থা কি বর্তমানে বিরাজ করছে? আসন্ন নির্বাচনকে নিয়ে আমাদের দেশে আজ এক অশুভ অনৈতিক খেলা শুরু হয়েছে। প্রবন্ধে জনগণের ভূমিকাকে অত্যন্- গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলা হয়, আমরা আজ ‘একদিনের গণতন্ত্র’ তথা নির্বাচনের দিনের গণতন্ত্র চর্চায় লিপ্ত। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি চর্চা এবং শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে জনগণের সক্রিয় ভূমিকার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে। নাগরিকদের মাঝ থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের যে সাংবিধানিক ধারা রয়েছে তা অনুসরণ না করে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রধান উপদেষ্টার পদটি গ্রহণ করে সংবিধান অমান্য করেছেন বলে সাবেক বিচারপতি জনাব কাজী এবাদুল হক দাবি করেন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে জনাব রেহমান সোবহান বলেন, তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা ছিল নির্দলীয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন কি তা আছে? জনাব এএসএম শাহজাহান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ‘একলা চল’ নীতির কারণে অন্যান্য উপদেষ্টারা কাজ করতে পারছেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে সমন্বিতভাবে যেমন কোন কাজ সম্ভব হবে না, তেমনি সংকটেরও সমাধান হবে না। জনাব হাফিজ উদ্দিন খান গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কানসাট, শনির আখড়ার মত গণজাগরণ আজ সারা দেশেই প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, চলমান সংকট নিরসনে কোন শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ সেনাবাহিনীকে স্বাগত জানাবে - এটা আমি মনে করি না। সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ বি এম মূসা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। ইতোপূর্বে দেশে ভোটের মাধ্যমে কোন বড় পরিবর্তন আসে নি, এসেছে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য গণ-অভ্যুত্থান প্রয়োজন বলে তিনি মন্-ব্য করেন। খুশী কবির গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুজন-এর নিরপেক্ষ ভূমিকার কথা গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করে বলেন, দলীয় ব্যক্তি তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এজন্য তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবি করেন। সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, প্রতিদিনই নতুন নতুন সংকটের আবির্ভাব হচ্ছে। সার্বিক সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন সম্ভব নয়।
শেখ শহিদুল ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদটি ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন করে
নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার আহবান রেখে বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য
নির্বাচন প্রয়োজন, এজন্য নির্বাচন বিলম্বেও করা যেতে পারে। মুসলেহউদ্দিন
আহমদ বলেন, দেশ আজ নানা দলে বিভক্ত। তৃতীয় একটি দল রাষ্ট্রদূতরা তৈরি
করেছেন বলে তিনি মন্-ব্য করে বলেন - এর ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন
হচ্ছে। |
||
|
|
||||||
|
“নির্বাচনী আইন ও বিধি সংস্কার” শীর্ষক মতবিনিময় সভা |
||||||
|
“নির্বাচনী আইনগুলির এমন কিছু দুর্বল দিক রয়েছে যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিবন্ধক। একটি কার্যকর সংসদ, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আইনের দুর্বলতাগুলো দূরীকরণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নিজেই সংশোধন ও পরিবর্তন করতে পারে এবং অনেকগুলোর জন্য সংসদে বিল উত্থাপন প্রয়োজন”- বক্তব্যটি উত্থাপতি হয় গত ৫ নভেম্বর, ২০০৬ ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব-এ “নির্বাচনী আইন ও বিধি সংস্কার” শীর্ষক মতবিনিময় সভায়। সুজন সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংস্কার প্রস্-াবের সার সংক্ষেপ উত্থাপন করেন ‘সুজন’র কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব বদরে আলম খান। মতবিনিময় সভায় বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, ড. কামাল হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ও এএসএম শাহজাহান, সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব আবুল আহসান, ড. হামিদা হোসেন, অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বামাসপ’র সভাপতি জনাব এ এইচ এম নোমান, এডভোকেট সাইদুর রহমান, এডভোকেট এ বি এম গোলাম মোস্-ফা, এডভোকেট শাহ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন-এর প্রেসিডেন্ট জনাব অজয় রায় প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী বিধি-বিধানসমূহের আমূল সংশোধনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে মূল প্রবন্ধকার বদরে আলম খান বলেন, আমাদের সংবিধানসহ মোট ১৩টি আইন ও বিধি সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসব আইনসমূহ বার বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিবারই কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছে বলে এগুলো সহজতর হওয়ার পরিবর্তে আরো জটিল ও দুর্বোধ্য হয়েছে, ফলে এগুলোতে জনগণের আশা-আকাঙক্ষা ও স্বার্থের প্রতিফলন ঘটে নি। মূল প্রবন্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে নির্বাচনী আইনসমূহের সংস্কারের সুপারিশ করা হয়। সংবিধানে যে সকল সংস্কার জরুরি ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয় সেগুলো হচ্ছে, সংসদ সদস্যগণের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য অনুচ্ছেদ ৭০(১)-এর সংশোধনী আনা; দুই জন ডেপুটি স্পীকার নিয়োগ করা, যার মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন; সংসদীয় কমিটিগুলোকে আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে বিরোধী দল থেকে সভাপতি নির্বাচিত করা। এছাড়াও রাজনৈতিক দলসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং সকল লেন-দেন ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনার বিধান করা; জঘন্য কোন অপরাধের জন্য আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ব্যাংক ঋণ খেলাপী ও সরকারি বিল খেলাপী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ অবসরের তিন বৎসর অতিক্রম না হলে এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ দুর্নীতি বা অন্য কোন কারণে চাকরি থেকে বরখাস্-, অপসারিত বা বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশোধনের প্রস্-াব করা হয়। সভায় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, আমাদের নির্বাচন সংক্রান্- আইন ও বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন আসা জরুরি। যে সকল আইন পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেগুলো অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সহজেই আইনে পরিণত করে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘সুজন’ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই আইন ও বিধিসমূহের সংস্কারের খসড়া প্রস্-াব তৈরি করেছে। গণমাধ্যম ও আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় উদ্যোগের ফলে এ সকল সংস্কারের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকগুলো প্রস্-াব গণদাবিতে রূপ নিয়েছে। ড. কামাল হোসেন মতবিনিময় সভায় ‘সুজন’ প্রস্-াবিত সংবিধান সংস্কারের বিষয়কে সমর্থন জানিয়ে বলেন, যোগ্য এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদেরকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে কমিশনকে পুনর্গঠন করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, প্রার্থীর আচরণবিধি কিভাবে বাস্-বায়ন হবে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিনিয়তই আইন লঙঘন করে চলেছেন যার ফলে মূল সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। জনাব আবুল আহসান বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানো, ভোটার তালিকা সংশোধন করে একে নির্ভুল করা ইত্যাদি সংস্কার আজ জরুরি। এছাড়াও নির্বাচনী মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষপত্তির জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ গঠন করা এবং আপীলের ক্ষেত্রেও দ্রুত বিরোধ নিষপত্তি করা; ২০০৫ সালের মে মাসে হাইকোর্ট প্রার্থীদের ৮ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্যাদি প্রদানের জন্য যে নির্দেশ প্রদান করেন, তা আইনে অন্-র্ভুক্তির জন্য মতবিনিময় সভা থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। |
||||||
|
|
‘প্রার্থী সম্পর্কে ভোটারের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার হরণের প্রচেষ্টা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত |
|||||
|
গত ২০ ডিসেম্বর, ২০০৬ ‘সুজন-সুশাসনের
জন্য নাগরিক’-এর আয়োজনে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি হল রুমে ‘প্রার্থী সম্পর্কে
ভোটারের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার হরণের প্রচেষ্টা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন
অনুষ্ঠিত হয়। সুজন সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত
সংবাদ সম্মে'লনে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব
হাফিজউদ্দিন খান, ‘সুজন’ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিশিষ্ট লেখক ও
গবেষক জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ, এডভোকেট কে এম জাবের, এডভোকেট জেয়াদ আল মালুম
প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত ২৪ মে, ২০০৫ তারিখে তিনজন আইনজীবীর জনস্বার্থে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে মাননীয় হাইকোর্ট জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকারের সপক্ষে একটি ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। কিন্তু অত্যন্- দুঃখজনক যে, গত ১৯ ডিসেম্বর মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে উক্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করার মধ্যদিয়ে সুস্থ রাজনীতি চর্চা তথা সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের স্বপক্ষে গড়ে ওঠা চলমান আন্দোলনকে ব্যাহত করা হয়েছে। ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রশ্ন রাখেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের দুই দিন পূর্বে এ যুগান্-কারী রায়ের উপর স্থগিতাদেশ প্রদানের রহস্য কি? ‘সুজন’ গত কয়েকবছর থেকে এ রায় বাস্-বায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে একটি আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে। রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেও তাদের মনোনীত প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য প্রাপ্তির জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভোটারদেরকে তথ্য দিয়ে ক্ষমতায়িত করা, যাতে তারা নির্বাচনের সময় সঠিক সিদ্ধান্- নিতে পারে। ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের মতে, তথ্য প্রাপ্তির অধিকার মানুষের বাক্ স্বাধীনতা সম্পর্কিত মৌলিক অধিকারের অন্-র্ভুক্ত। কিন্তু মামলাটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে ছুটির মধ্যে অত্যন্- গোপনে অবকাশকালীন বেঞ্চের মাননীয় চেম্বার জজ মোঃ জয়নাল আবেদিন হাইকোর্টের রায়টির ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার সঙ্গে ব্যক্তিগত আটটি তথ্য দেয়ার আর প্রয়োজন হবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর ফলে আমাদের দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি কি চলমান থাকবে? জনাব হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংক্রান্- হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্-বায়নের ক্ষেত্রে রায়ের কপি হাতে না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রক্রিয়াটিকে বিলম্বিত করেছিল। কিন্তু আপিল বিভাগ কর্তৃক স্থগিতাদেশ প্রদানের সাথে সাথে অত্যন্- দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচন কমিশন তা বাস্-বায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সৈয়দ আবুল মকসুদ স্থগিতাদেশের সমালোচনা করে প্রশ্ন রাখেন, কার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন এ কাজ করছে? তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র কি কালোটাকার মালিকদের পক্ষে, সন্ত্রাসীদের পক্ষে, দুর্বৃত্তদের পক্ষে, জনগণের অধিকারের বিপক্ষে? রিট আবেদনকারী এডভোকেট কে এম জাবের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও আপিল গ্রহণের এবং স্থগিতাদেশ প্রদানের শুনানিকালে কোন নোটিশই আমাদেরকে দেয়া হয় নি। |
||||||
|
|
||||||
|
|
||||||
|
For technical
information contact:
webmaster |