|
|
পরিচ্ছেদ ১
মুক্তিযুদ্ধ ও
স্বাধীনতা- উত্তর বাংলাদেশ
১.১ স্বধীনতার প্রেক্ষাপট,
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান:
১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসান
হলেও এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানী আমলে শুরু হয়
নিপীড়ন, নির্যাতন ও শোষনের এক নতুন অধ্যায়। প্রতিবাদে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে
প্রতিরোধের আণ্দোলন।১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন,
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতার
সংগ্রাম।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যখন এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর বর্বরের মতো
ঘৃণ্য হামলা চালায় তখন এর আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সবোর্স্তরের জনগণ।
সেই সমস্যা একটি নেতৃত্ব, একটি আহ্বানের বড়ই প্রয়োজন ছিল। সেই ঐতিহাসিক
মুহুর্তে ভেষে এল একটি কন্ঠ: " আমি মেজর জিয়া বলছি" এবং সেই সঙ্গে ঘোষণা
এল বাংলাদেশের স্বাধীনতার, আহ্বান এল সর্বশক্তি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ
দেয়ার। এই আহ্বানে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ-কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র,
যুবক, বুদ্ধিজীবি, সৈনিকসহ আপামর জনসাধারন- ঝাঁপিয়ে পড়ল
মুক্তিযুদ্ধে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা জেলার কিয়দংশে
মেজর জিয়া সংগঠিত করেন সংগঠিত করেন মুক্তিপাগল সকল
শ্রেণীর মানুষকে এবং পরবর্তীতে বিখ্যাত 'জেড ফোর্সের' অধিনায়ক হিসেবে
সিক্রয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেনসেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে। দীর্ঘ
নয় মাস মরণপণ লড়াই করে অজির্ত হল সবুজ জমিনে ওপর রক্তলাল সূর্যখচিত
পতাকাসমৃদ্ধ স্বাধীন বাংলাদেশ- আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। লাখো শহীদের পবিত্র
রক্ত আর হাজার হাজার মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অজির্ত হল এদেশের স্বাধীনতা।
গণতন্ত্র এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, শোষন বঞ্চনার অবসান ঘটবে, অর্থনৈতিক
সমৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমরা
বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব- এই ছিল সেদিনের স্বপ্ন, মহান
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। |
| লাখো শহীদের
পবিত্র রক্ত আর হাজার হাজার মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অজির্ত হল এদেশের
স্বাধীনতা। গণতন্ত্র এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, শোষন বঞ্চনার অবসান ঘটবে,
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাসম্পন্ন জাতি
হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব- |
১.২ স্বাধীনতা পরবর্তী দুঃশাসন:
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে
মুক্তিযুদ্ধের এই চেতনা, দেশবাসীর সেদিনের স্বপ্ন কিছু দিনের মধ্যেই
ধুলিসাৎ হয়ে গেল। সীমাহীন দুর্নীতি, অনাচার, স্বজনপ্রীতি, অযোগ্যতা আর
অপশাসনের ফলে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে দেশের ভাগ্যে জোটে 'তলাহীন ঝুড়ির' মতো
লজ্জাজনক খেতাব। হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হল।
ক্ষুব্ধ জনগণকে দমন করার জন্য রক্ষীবাহিনী, সেচ্ছাসেবক বাহিনী, লালবাহিনীসহ
নানা দলীয় বাহিনী গঠন করা হল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক দেশপ্রেমিক
স্বতস্ত্র বাহিনীকে উপেক্ষা ও অবজেলা করা হল, প্রতিষ্ঠা করা হল সমান্তরাল
নতুন বাহিনী। এই সব দলীয় বাহিনীর হাতে সিরাজ শিকদারসহ প্রায় ৩০ হাজার
রাজনৈতিক নেতা- কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ হারাল। অবাধ চোরাচালানী,
মজুদদারি, দূর্নীতি ও অযোগ্য শাসনের ফলে দেশে সৃষ্টি হল শতাব্দীর ভয়াবহতম
মানবসৃষ্ট দুভিক্ষ। রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাটে তখন অভুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকত
হাজার হাজার বিবস্ত্র নরকঙ্কাল।
এই অসহনীয় পরিস্থিতিতে দেশের
সমগ্র জনগোষ্ঠী যখন প্রতিবাদে মুখর, ঠিক সেই সময় ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার
জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সংবিধান পরিবর্তন করে মহান স্বাধীনতার ফসল
গণতন্ত্রকে হত্যা রকরা হল, প্রতিষ্ঠা করা হল 'বাকশাল' অর্থাৎ এক ব্যাক্তির
শাসন। মাত্র ৪টি সংবাদপত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ
করে দেয়া হল। সরকারি কর্মচারি, পুলিশ, বিডিঅআর এবং স্বতস্ত্র বাহিনীর
সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে বাকশালের সদস্য করে নিয়ে আসা হল দলীয় রাজনীতিতে।
বিচারপতিদের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সবোর্চ্চ আদালতের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে
সরকারের নির্বাহী প্রধান রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ন্যম্ত করার
মাধ্যমে হরণ করা হল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
১.৩ আওয়ামী লীগের একাংশ কর্তৃক
জারিকৃত সামরিক আইন ও সিপাহী-জনতার বিপ্লব:
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ক্ষমতার লড়াই যখন চরম
পর্যায়ে পৌঁছে তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট প্রেসিডেন্ট শেখ
মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও তার
মন্ত্রিসভায় জোষ্ঠ মন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমেদ ঐ মন্ত্রীসভার অধিকাংশ
সদস্যসহ সরকার গঠন করেন। আওয়ামী লীগের এই বিদ্রোহী অংশই দেশে প্রথমবারের মত
সামরিক আইন জারি করে। অল্পদিন পরে ৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে আওয়ামী লীগ
সমর্থক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে
খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারকে উৎখাত করেন। সেই সঙ্গে স্বগ্রহে অন্তরীন
করেন স্বাধীনতার ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম-কে। এই
পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ার আশংকা দেখা
দিলে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতার এক অভুতপূর্ব বিপ্লব
সংগঠিত হয়। সিপাহী-জনতা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর
রহমানকে যার ওপরে পরবর্তিতে অর্পিত হয় রাষ্ট্র পরিচালনার গুরু দায়িত্ব।
|
| এই ছিল
সেদিনের স্বপ্ন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কিন্তু
আওয়ামী
লীগের রক্ষক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াইয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন
তখন ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সংগঠিত হয় দেশপ্রেমিক সিপাহী জনতার এক অভূতপূর্ব
বিপ্লব।
সিপাহী-জনতা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে যার
ওপরে পরবর্তিতে অর্পিত হয় রাষ্ট্র পরিচালনার গুরু দায়িত্ব।
একদলীয় বাকশাল প্রথার স্থলে বহুদলীয় বহুদলীয় গণতন্ত্র
পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল। |
১.৪. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
দলের অভ্যুদয়, আদর্শ ও উদ্দেশ্য:
স্বাধীনতার পরবর্তি সময়ে যখন
একনায়কতন্ত্র দেশে স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও
ধর্মপরায়ণতার সমাধি রচনা করতে উদ্যত হয়েছিল তখন জিয়াউর রহমানের সামনে
প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখা দেয় ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সুসংহত করা এবং একদলীয় ও একনায়কীয় বাকশাল
প্রথার স্থলে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। এই উদ্দেশ্যকে সামনে
রেখে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গণতন্ত্র ও জাতীয়
ঐতিহ্যের ধারক এই দলের মূল চালিকা শক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।সকল
ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠির মানুষকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে সমবেত করে
দেশ গড়ার সংগ্রামে পরিচালিত করাই হচ্ছে বিএনপির লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের
ভাগ্যোন্নয়নের উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক প্রচেষ্টায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,
সকল মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার সমুন্নত রাখা
এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি 'তলাহীর ঝুড়ি' থেকে আত্মমর্যাদাশীল
উন্নত দেশে পরিণত করার আদশের্ উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপি তার সকল কর্মকাণ্ড
পরিচালনা করে আসছে। সস্তা, চটুল, ভাওতাবাজি ও ধ্বংসের রাজনীতির স্থলে এদেশে
উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির প্রবর্তন করে বিএনপি।
১.৫.. শহীদ জিয়ার আমলে - দেশের
স্বর্ণযুগ (নভেম্বর ১৯৭৫- মে ১৯৮১):
জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার
দায়িত্ব গ্রহণ করার কিছু দিনের মধ্যেই দেশে আইনের শাসন পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়।
দেশ গড়ার এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য
প্রান্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। নিজ চোখে তিনি মানুষের সমস্যা দেখেছেন,
দেশের সমস্যা অনুধাবন করেছেন। দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছেন। জনগণকে
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। দেশবাসী তার ডাকে
সাড়া দিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়া গড়ে তুলেছিলেন সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। উন্নয়ন
কার্যক্রমে সঞ্চারিত হয়েছিল দূর্বার গতি। সন্ত্রাসের করাল ছায়া থেকে মুক্ত
স্বদেশে প্রথমবারের মত বইল শান্তির সুবাতাস, অস্থিতিশীলতা থেকে উত্তোরণ হলো
স্থিতিশীলতায়। অবসান হল রাজনৈতিক শূণ্যতার। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব
গ্রহণ করার পর প্রায় ১০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে কারাগার থেকে মুক্তি
দিয়েছিলেন। জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। |
| |
জিয়া
প্রবর্তিত উন্নয়নের রাজনীতির কতিপয় সাফল্য:
সকল দলের অঃশগ্রহণের মাধ্যমে
রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান; জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি;
বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া; দেশে কৃষি বিপ্লব,
গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব; সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের
লেক্ষ্য স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারী সহায়তায়র সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও
পুনর্খনন; গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে
অক্ষরজ্ঞান দান; গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও
গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)
গঠন; গ্রামাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধ করা; হাজার হাজার মাইল
রাস্তা-ঘাট নির্মাণ; ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ কের গ্রামীণ জনগণের
চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ; নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে
অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত দূরীকরণ; কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন
বৃদ্ধি; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশকে খাদ্য রপ্তআনীর পর্যায়ে উন্নীতকরণ; যুব
উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন
কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ; ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্টা করে
সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ; বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃইষ্ট করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন; তৃণমূল
পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে
সম্পৃক্ত করণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার
লেক্ষ্য গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন; জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে
নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ; তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে
বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি; দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে 'সার্ক' প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ
গ্রহণ; বেসরকারিখাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ; জনশক্তি রপ্তানি, তৈরী পোশাক,
হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সকল অপ্রচলিত পণ্যোর রপ্তানীর দ্বার উন্মোচন;
শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের
সম্প্রসারণ। |
| ১৯৮০-এর
দশকের গণআন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে সাধারণ
নির্বাচনের পর যখন সরকার গঠন করেন তখন রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে আওয়ামী লীগ
১৭৩ দিন হরতাল পালনসহ নানাভাবে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে।
নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের নামে তারা ক্রমাগত অন্যদের
গণতান্ত্রিক অধিকার অগ্রাহ্য ও ক্ষুন্ন করেছে। |
১.৬. সরকার পরিচালনায় বি এন
পি'র পাঁচ বছর (১৯৯১-১৯৯৬):
রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের
সাফল্য, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের দ্রুত উন্নতি এবং দেশে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতা দেশী-বিদেশী একদল চক্রান্তকারী বরদাশত করতে পারে নি। সেই সব
চক্রান্তকারীর হাতে ১৯৮১ সালে ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ
করেন। অতঃপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী বিচারপতি আব্দুস
সাত্তার বিপুল ভোটে জয়লাভ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু মাত্র পাঁচ
মাস পর এই নির্বাচিত সরকারকে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করে লেঃ
জেঃ এইচ, এম, এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখল করেন। গণতন্ত্রের এই
সংকটকালে বাঙলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী বেগম খালেদা জিয়াকে দলীয়
প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় পৌনে নয় বছর হোসেন
মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতাসীন থাকাকালে গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেগম
খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে দেশব্যাপি বিরামহীন গণআণ্দোলন চালিয়ে যান। তিনি
ছিলেন এই গণআন্দোলনের অবিসংবাদিত আপোষহীন নেত্রী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ
অন্যান্য অনেক রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময়ে এরশাদের সাথে গোপন আঁতাত করে তার
অবৈধ সরকারকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য নীল নকশার সাধারণ নির্বাচনে
অংশগ্রহণ করলেও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই নয় বছর স্বৈরাচার
বিরোধী আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান নি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অবশেষে ১৯৯০ মালের
ডিসেম্বর মাসে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ২৭ শে
ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
বিপুলভাবে জয়লাভ করে এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা
প্রধানমন্ত্রীরূপে সরকার গঠন করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের নির্বাচন একটি
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে দেশে-বিদেশে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা লাভ করে।
বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করে বহু
ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্র সুসংহত করার দায়িত্ব
লাভ করেন, রাস্ট্রীয় তহবিল তখন ছিল প্রায় শূন্য। জাতীয় উন্নয়ন বাজেট ছিল
শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ বিদেশী ঋণ ও সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। অথর্নৈতিক
ক্ষেত্রে বিরাজ করছিল চরম বিশৃঙ্খলা। প্রশাসনের সর্বস্তরে ছিল সীমাহীন
দূনীতি ও অব্যবস্থা।
১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের
মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি সরকারকে বিরাজমান এই
পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শৃংঙ্খলা ফিরিয়ে আনা,
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক
প্রতিষ্ঠানসমূহকে চাঙ্গা করার কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে নির্বাচিত
বিএনপি সরকারকে। জনস্বার্থে এসব দায়িত্ব পালনে দেশের প্রধান বিরোধী দল
আওয়ামী লীগের নিকট থেকে যেরূপ সহযোগীতা পাওয়া স্বাভাবিক ছিল,
দুর্ভাগ্যক্রমে কোন ক্ষেত্রেই তা পাওয়া যায় নি। বরঞ্চ রাজনৈতিক বিরোধীতার
নামে আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল পালনসহ নানাভাবে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায়
বাধা সৃষ্টি করেছে। নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের নামে তারা ক্রমাগত
অন্যদের গণতান্ত্রিক অধিকার অগ্রাহ্য ও ক্ষুন্ন করেছে।
১৯৯১ সালে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব বিএনপি'র
ওপর অর্পিত হবার পর বৈদেশিক সাহায্য ও নির্ভরশীলতা হ্রাস করে বার্ষিক
উন্নয়ন কর্মসূচীতে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করার নীতি গ্রহণ করা
হয়। সে নীতি সফল হয়েছে। ১৯৯০-৯১ সালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ প্রাপ্তির
প্রাক্কলিত পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮শ ২২ কোটি টাকা। ১৯৯৫-৯৬ সালে তা বৃদ্ধি
পেয়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪শ ৫০ কোটি টাকায়। বার্ষিক উন্নয়ন। বার্ষিক
উন্নয়ন কর্মসূচীতে ১৯৯০-৯১ সালে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭শ ৯১
কোটি টাকা। ১৯৯৫-৯৬ সালে তা ৪ হাজার ৮শ ৭৭ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পায়। "কাজের
বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী", ভিজিপি, জিআর, টিআর, কর্মসূচীর মাধ্যমে গ্রামীণ
জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য ১৯৯৫-৯৬ সালে ১ হাজার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ
করা হয়। ঐ সময় নগর ও গ্রামাঞ্চলে সড়ক ও সেতু নির্মাণে বিপ্লব সংগঠিত
হয়েছিল। এইসব উন্নয়নমূলক কাজে প্রতি বছর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০
লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রথম বছরে
অর্থাৎ ১৯৯০-১৯৯১ সালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ১শ ২৬
কোটা টাকা।১৯৯৪-৯৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ১শ ৫০ কোটি টাকা অর্থাৎ এ
বরাদ্দ ৮২ শতাঙশ বৃদ্ধি পায়। ১৯৯০-৯১ সালে দেশের রপ্তানী আয়ের পরিমাণ ছিল
মাত্র ৬,০২৭ কোটি টাকা। ১৯৯৫-৯৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৪,৪৫২ কোটি
টাকায়। নানা বাধা-বিপত্তি এবং পুনঃ পুনঃ বন্যা, খরা, সাইক্লোন, সামুদ্রিক
জলোচ্ছ্বাসে উন্নয়ন প্রয়াস বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও
অপ্রত্যাশিত বাধা-বিপত্তি এবং পরিকল্পিত নাশকতামূলক রাজনৈতিক কার্যকলাপ
সত্ত্বেও বিএনপি আমলের ৫ বছরে অর্জিত সাফল্য দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। |
|
সংবিধান
সংশোধনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করা এবং
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান
বিএনপি সরকারের আমলের দু'টি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক আইনশৃং্খলা পরিস্থিতি
স্বাভাবিক রেখে উন্নতি সাধন করা হয় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও টেলিফোন ব্যবস্থার।
দেশে প্রথমবারের মত বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিল্প, পরিবহন ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে
বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেয়া হয়। |
এই সাফল্যগুলির মধ্যো উল্লেখযোগ্য হল:
আইন-শৃঙ্খলা:
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করে সরকারের
প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন করা হয়। দেশে সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ
ইত্যাদি মারাত্মক অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং জনজীবনে স্বস্তি
ফিরে আসে।
সাঃবিধানিক ও রাজনৈতিক:
সংসদীয় পদ্ধতি:
জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাশের
মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। দেশ পরিচালনায়
বিরোধী দলের অঙশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সমূহ গঠন করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা:
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশের মাধ্যমে সকল
সাধারণ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হয়। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বাংলাদেশের
ইতিহাসে প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
মেয়র নির্বাচন:
সকল পৌর কর্পোরেশনে প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র
নির্বাচনের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় এবং দেশে প্রথমবারের মত প্রত্যক্ষ ভোটে
মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটার পরিচয়পত্র:
নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক ভোটারকে
পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য সংসদে বিল পাশ এবং এজন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা
বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ:
সংবাদপত্র ও সংবাদ প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা
নিশ্চিত করা হয়। এই সময়ে দেশে প্রথমবারের মত অনেকগুলি জাতীয় ও স্থানীয়
পর্যায়ে পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বিবিসি, সিএনএন ও স্যাটেলাইট টিভি
অনুষ্ঠান প্রচারের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়।
চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ টিভি স্টেশন এবং ঝিনাইদহে টিভি রীলে স্টেশন স্থাপন
করা হয়। রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারে রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ বরাদ্দ
করা হয়।
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক:
উন্নয়ন বাজেট:
১৯৮৯-৯০ সালের শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ বিদেশী ঋণ
নির্ভর ৫ হাজার ১ শ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট প্রণয়ন করা হয়, যার ৪৩ ভাগ
অর্থ নিজস্ব সম্পদ থেক যোগান দেয়া হয়। উল্লেখ্য, বিএনপি ক্ষমতা লাভের
পূর্বে উন্নয়ন বাজেটগুলিতে নিজস্ব সম্পদের যোগান ছিল শতকরা মাত্র ২ থেক ৩
ভাগ।
মুদ্রাস্ফীতি:
মুদ্রাস্ফীতির গড় ৩% এর নীচে রাখা হয়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও টাকার মান:
৩০.০৬.৯৫ তারিখে বিএনপি সরকারের আমলে বৈদেশিক
মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩,০৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা একটি সর্বকালীন রেকর্ড।
১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপি সরকারের ক্ষমতা ত্যাগের পূর্বে বিরোধীদল কর্তৃক
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটানা নানাবিধ বাধা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও এই মজুতের
পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩ শ মিলিয়ন ডলারের মত। ১৯৯৫-৯৬ সালে টাকার গড়
বিনিময় হার ছিল ১ মার্কিন ডলার= ৪০.২০ টাকা।
শিল্প-বাণিজ্যে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ:
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে ও
বিদ্যুৎ, টেলিফোন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি মাধন করে কৃষি, শিল্প,
পরিবহন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি
করা হয়। এভাবে দেশে প্রথমবারের মত ব্যাপক বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার
ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেয়া হয়।
দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত এবং নতুন
কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সকল নতুন শিল্পকে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য 'ট্যাক্স
হলিডে' মঞ্জুর করা হয়।
কৃষি, সমবায়, কৃষক ও তাঁতী:
কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ
সুদসহ মওকুফ করা হয়। এ বাবদ মোট কৃষিঋণ মওকুফের পরিমাণ ছিল প্রায় আড়াই
হাজার কোটি টাকা।
তাঁতী ও সমবায়ীদের ঋণের সুদ ও দণ্ডসুদ মওকুফের
সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কিন্তু পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তা বাস্তবায়িত
হয়নি। কৃষকদের ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করা হয়। কৃষকদের মাঝে সহজ
শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ পদ্ধতি চালু করা হয়। কৃষি ও সেচকাজের সুবিধার্থে সার,
বীজ, কীটনাশক, ডিজেল, সেচপাম্পসহ যাবতীয় কৃষি উপকরণের মূল্য হ্রাস করে
কৃষকদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়। নদী ভাঙ্গনের পর ৩০ বছরের মধ্যে লুপ্ত
জমি জেগে উঠলে তা জমির মালিককে ফেরত দেয়ার আইন প্রণয়ন করা হয়। |
| ৩৩০টি থানায় পল্লী
বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম শুরু ও ১৫ হাজার গ্রাম বিদ্যূতায়িত, যমুনা সেতুর
নির্মাণ কাজ শুরু এবং প্রায় ৭০% কাজ সম্পন্ন, তিন লক্ষ নতুন টেলিফোন সংযোগ
প্রদান, দেশে সর্বপ্রথম কার্ড ফোন, সেলুলার ফোন, গ্রামীণ আইএসডি ফোন চালু,
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, উপবৃত্তি কর্মসূচী, 'শিক্ষার জন্য খাদ্য'
কর্মসূচী, প্রতিবছর শিক্ষাখাতে সবোর্চ্চ বাজেট |
বিদ্যুৎ:
বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করে
লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা হয়।
শিল্প-কলকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা
হয়। ৩৩০টি থানায় পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম শুরু করে ১৫ হাজার গ্রাম
বিদ্যুতায়িত করা হয়। ৫৮১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন মোট ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র
যথা: বাঘাবাড়ি (৭১ মে.ও.), চট্টগ্রাম রাউজান-১ (২১০ মে.ও.), ঘোড়াশাল (২১০
মে.ও.) এবং সিলেট কম্বাইণ্ড সাইকেল (৯০ মে.ও.) চালু করা হয়। এছাড়া
৭৯৯ মে. ও. বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫টি নতুন কেন্দ্রের কাজ শুরু করা হয় এবং
আরো ১০২০ মে. ও. উৎপাদনের জন্য ৪টি কেন্দ্রের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
হাঁস-মুরগী, গবাদিপশু ও মৎস্যচাষ:
সহজ শর্তে ঋণ ও ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রদানের
মাধ্যমে দেশে হাঁস মুরগী, মৎস্য ও গবাদি পশুর খামার প্রতিষ্ঠার বিপুল সুযোগ
সুষ্টি করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ বেকার নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি
করা হয়। দেশে সরকারি সহায়তায় গবাদিপশু পালন উৎসাহিত হওয়ায় বিদেশ থেকে গুঁড়া
দুধ আমদানির পরিমাণ টাকার অংকে ছয়শত কোটি থেকে প্রায় একশত কোটিতে নেমে আসে।
উন্মুক্ত জলমহাল ইজারা প্রথা বাতিল করে প্রকৃত জেলে ও দরিদ্র গ্রামবাসীদের
মৎস আহরণের অবাধ সুবিধা প্রদান করা হয়। 'জাল যার জলা তার' নীতি অনুসরণ করে
প্রকৃত মৎসজীবিদেরকে জলমহাল ইজারা দেয়া হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা:
প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫
কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু এবং প্রায় ৭০% কাজ সম্পন্ন
করা হয়। মেঘনা, গোমতী, মহানন্দা, আত্রাই, শেওলা, ধলেশ্বরী-১ এবং ধলেশ্বরী-২
প্রভৃতি সেতুসহ সারা দেশে তিন শতাধিক ছোট-বড় সেতু ও হাজার হাজার কালভার্ট
নির্মাণ করা হয়। কয়েক হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও পাকাকরণ হয়, যার
মধ্যে ছিল জেলা সদরের সঙ্গে আর্ন্তজাতিক মানের কয়েক হাজার মাইল জনপথ এবং
প্রত্যেকটি উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগসাধনকারী রাস্তা। ২য় বুড়িগঙ্গা সেতু
নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। রূপসা সেতু, শীতলক্ষা সেতু ও ভৈরব বাজারে মেঘনা
সেতু নিমার্ণের যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়। আধুনিক ইঞ্জিন
ও বগি আমদানি এবং রেল লাইনসমূহের সংস্কার করে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
সাধন করা হয়। চট্টগ্রামে দেশের আধুনিকতম ও বৃহদায়তনের রেলওয়ে স্টেশন
নির্মাণ করা হয়।
টেলিযোগাযোগ:
পাঁচ বছরে সারা দেশে তিন লক্ষ নতুন টেলিফোন
সংযোগ প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে দু'হাজার সালের মধ্যে ৮ লক্ষ নতুন টেলিফোন
সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
দেশে সর্বপ্রথম কার্ড ফোন, সেলুলার ফোন, গ্রামীণ
আই এস ডি ফোন চালু করা হয়।
শিক্ষা:
আইন প্রণয়ন করে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক করা হয়। মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার
সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। মেয়েদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশে
সর্বপ্রথম উপবৃত্তি কর্মসূচী চালু করা হয়। দরিদ্র শিশুদের মধ্যে শিক্ষা
বিস্তারের উদ্দেশ্যে 'শিক্ষার জন্য খাদ্য' কর্মসূচীর প্রচলন করা হয়। হাজার
হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা নির্মাণ ও পুননির্মাণ করা হয়। জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হয়। দেশে সর্বপ্রথম
বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু সঙখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ
প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আরু কিছু সঙখ্যক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়। শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানসমূহে কম্পিউটার শিক্ষা কোর্স চালু করা হয়। স্বাধীনতার পর
প্রথমবারের মত বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে সম্বর্তন উৎসব চালু করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সেশনজট দূর করা হয়। গণশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে
সম্প্রসারিত করা হয়। বেসরকারি স্কুল শিক্ষকদের বেতনের অনুদান ৮০ ভাগে
বৃদ্ধি ও তাদেরকে টাইমস্কেল দেয়া হয়। প্রতিবছর শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট
বরাদ্দ রাখা হয়। |
|
'দুঃস্থ মহিলাদের
ঋণদান' কর্মসূচী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য পে-কমিশন গঠন
ও তার সুপারিশ বাস্তবায়ন করে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে
প্রদান, অবসর গ্রহনের সঙ্গে সঙ্গে পেনশন পাওয়া এবং প্রথমবারের মত
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারিদের মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রী এবং
প্রতিবন্ধি সন্তানদেরও আজীবন পেনশন পাওয়ার ব্যবস্থা, সরকারি
চাকুরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছরে উন্নীতকরণ |
স্বাস্থ্য:
বৃহত্তর জেলা সদরে ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০
শয্যায় এবং ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। থানা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সগুলির শয্যা সংখ্যা ৩১ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। বহু সংখ্যক
হাসপাতাল ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। এক বছরের
কম বয়সী শতকরা ৮৫ ভাগ শিশুকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়।
শতকরা ৯০ ভাগ জনগণের জন্য ইবশুদ্ধ খাবার পানি প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করা
হয়।
দুঃস্থ মহিলা:
দু:স্থ মহিলাদের স্বাবলম্বী করার জন্য
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে 'দুস্থ মহিলাদের ঋণদান'
কর্মসূচী চালু করা হয়।
খনিজ সম্পদ:
বড়পুকুরিয়ার কয়লা এবং মধ্যপাড়ার কঠিন শিলা
উত্তোলন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ভোলা ও বঙ্গোগোপসাগরে নতুন গ্যাস
ক্ষেত্র ও দিনাজপুরে কয়লা ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের
লক্ষ্যে প্রতি বছর দু'টি করে অনুসন্ধান কুপ খননের উদ্যেগ নেয়া হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়ন:
পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত
আইনসমূহ দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। দেশব্যাপি বৃক্ষরোপন ও বনায়ন কর্মসূচী
বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলন শুরু করা হয়। সমুদ্র- উপকূল অঞ্চলে বনায়ন
কর্মসূচীর মাধ্যমে উপকূলীয় বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। সহজ শতের্ ঋণ প্রদান করে
বেকার নারী ও পুরুষদের জন্য বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
করা হয়।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা:
১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্নিঝড় এবং পরবর্তীতে
বন্যা ও খরা সফলভাবে মোকাবেলা করে মুলত বিদেশ থেকে সাহায্য না নিয়ে সঠিক
পূনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। উপকুলীয় এলঅকা এক হাজারের বেশী
'বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার' নির্মাণ করা হয়।
ব্যাংক ও বীমা:
বেসরকারী খাতে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাঙ্ক ও বীমা
কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেসরকারি খাতের
অংশগ্রহণ জোরদার করা হয়। ব্যাঙ্কিং খাতের উন্নয়নের জন্য সংস্কার কর্মসূচী
গ্রহণ করা হয়, যার ফলে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা বহুলাংশে দূর হয়। আনসার-ভিডিপি
ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জন্য এ ব্যাঙ্ক থেকে
আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে
মুক্তবাজার অর্থনীতি বিকাশের সহায়ক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
প্রশাসন:
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পে-কমিশন গঠন
ও তার সুপারিশ বাস্তবায়ন করে প্রাপ্য আথির্ক সুবিধা এক সঙ্গে দেয়া হয়।
তদুপরি অতিরিক্ত ১০% বেতনবৃদ্ধি মঞ্জুর করা হয়। সরকারি
কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পেনশন জটিলতা নিরসন ও সহজীকরণ করে অবসর গ্রহণের
সঙ্গে সঙ্গে পেনশন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রথমবারের মত অবসরপ্রাপ্ত
সরকারি কর্মচারিদের মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রী এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদেরো
আজীবন পেনশন পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সরকারি কর্মচারিদের জন্য ৩
হাজার বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়। সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে
বাড়িয়ে ৩০ বছরে উন্নীত করা হয়। ফলে বিলম্বে শিক্ষাজীবন সমাপ্তির কারণে লক্ষ
লক্ষ হতাশাক্রান্ত যুবক ও যুবমহিলার কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হয়।
পুলিশ, বিডিআর ও আনছার বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হয়।
সশস্ত্র বাহিনী:
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী
সশস্ত্র বাহিনীকে সম্প্রসারিত ও সুসজ্জিত করে একটি যুগোপযোগী আধুনিক
বাহিনীরূপে গড়ে তোলা হয়।
মজুরি কমিশন:
মজুরি কমিশন গঠন করে শ্রমিকদের জন্য মজুরি ও
সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। এতদ্ব্যতীত, অতিরিক্ত ১০% মজুরি বৃদ্ধি করা
হয়। গার্মেন্টসসহ ব্যিক্তখাতে ১৭টি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ
করা হয়। |
| হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট,
বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাষ্ট ও খৃষ্টান কল্যাণ ট্রাষ্টে সরকারি অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি
এবং তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। তফসীলি সম্প্রদায়ের
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তফসীলি বৃত্তি পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। দূর্গাপূজাসহ
অন্যান্য পূজা ও জন্মাষ্টমী প্রর্ভতি অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে
রেডিও-টিভিতে প্রচার করা হবে। |
ইসলাম ধর্মীয় বিষয়াদি:
ঢাকায় স্থায়ী হাজি ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়।
টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার জন্য ৩০০ একরেরও বেশী জমি তবলীগ জামায়াতকে প্রদান
করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় মাদ্রাসা ট্রেনিং
ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এবতেদায়ী মাদ্রাসাকে বেসরকারি প্রাইমারী
স্কুলের সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা প্রদাণ করা হয়। মসজিদ, ঈদগাঁ ও অন্যান্য
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের কাজে ব্যাপকহারে আর্থিক অনুদান প্রদাণ করা
হয়।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক:
হিন্দু কল্যাণ ট্রাষ্ট, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাষ্ট,
খ্রীষ্টান কল্যাণ ট্রাষ্টে সরকারি অর্থ বৃদ্ধি এবং তাদের কার্যক্রম
সম্প্রসারণ করা হয়। তফসীলি সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তফসীলি বৃত্তি
পুনঃ প্রবর্তন করা হয়। দূর্গা পুজাসহ অন্যান্য পুজা, জন্মাষ্টমী, শ্রী শ্রী
হিরচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি প্রভৃতি অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্ব সহকারে
রেডিও টিভিতে প্রচার করা হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন রোধের আইন:
নারী ও শিশু নির্যতন রোধে সবোর্চ্চ শাস্তি
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করে নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ
বিধান) আইন প্রণয়ন করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা গ্যালান্ট্রি এওয়ার্ড ও
বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ:
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গ্যালান্ট্রি এওয়ার্ড
প্রদান করা হয়। রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ
নিমার্ণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
কোষ্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা:
দেশের জলসীমা পাহারা, নৌ ও সমুদ্রপথে জলদস্যুতা
দমন ও চোরাচালান রোধের লক্ষ্যে কোষ্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিন বিঘা করিডোর:
ভারতের কাছ থেকে তিন বিঘা করিডোর ব্যবহারের
অধিকার অর্জন করা হয়।
ফারাক্কা সমস্যা:
ফারাক্কা সমস্যা জাতিসংঘে উত্থাপন এবং গঙ্গার
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতকে রাজি করানোর জন্য আর্ন্তজাতিক ফোরামের
মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করার করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
পাহাড়ী জনগণ ও চাকমা শরনার্থী:
পাহাড়ী জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
উন্নয়নের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ গ্রহণ করা হয়।
সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা
শরনার্থীদের দেশে ফেরার এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। |
|
ক্ষমতা কুক্ষিগত ও চিরস্থায়ী
করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে হত্যা করলেন গণতন্ত্রকে। তিনি সকল
রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণে মাত্র চারটি
সংবাদপত্র রেখে, বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন
ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। |
পরিচ্ছেদ ২
আওয়ামী শাসনামলে
বাংলাদেশ: সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, পারিবারিকিকরণ
- এক কথায়
সর্বগ্রাসী আওয়ামীকরণ
২.১. ১৯৭২-৭৫ সালের আওয়ামী
দুঃশাসনের বেদনাদায়ক স্মৃতি:
স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামী
দুঃশাসেনর সময় রাষ্ট্রযন্তের সর্বস্তরে আওয়ামীলীগ কেবলমাত্র অযোগ্য,
অপদার্থ ও দূর্নীতিবাজ দলীয় লোকদের নিয়োজিত করেছিল। ফলে দেশকে ঠেলে দেয়া হয়
দ্রুত অর্থনৈতিক ধ্বংসের মুখে। ১৯৭৪ সালের মনুষ্যসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে
তৎকালীর সরকারি হিসেবেই ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যদিও ঐ সময়ে
০২.১১.৭৪ তারিখের দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদ শিরোনাম ছিল "দুর্ভিক্ষে লক্ষাধিক
লোকের মৃত্যু"। শুধু অন্ন নয়, বস্ত্রের অভাবে লক্ষ লক্ষ কূলবধু আব্রু রক্ষা
করতে হয় অসমর্থ। ঐ সময়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর গ্রামবাংলা বাশন্ত্রীর মাছধরা
জাল পিরহিত আলোকচিত্র বিশ্ব বিবেককে প্রচন্ডভাবে নাড়া দেয়। ঐ দুর্ভিক্ষের
সময় শাসকরা কোটি কোটি টাকার চাল, গম, কাপড় আত্মসাৎ করে মানুষের ঘৃণ্য ও
কুখ্যাতি অর্জন করে।
সম্পূর্ণ নিজেদের ক্যাডার নিয়ে
আওয়ামী সরকার গঠন করে রক্ষী বাহিনী। এই বাহিনীকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ
দেশব্যাপি চালিয়েছিল ব্যাপক হত্যাকাণ্ড। এছাড়া গঠন করা হয়লুটপাটের
সেচ্ছাসেবক বাহিনী, লাল বাহিনী ও নীল বাহিনী। শিল্প- কারখানা পাইকারিভাবে
জাতীয় করণ করে সেগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় নিজেদের অযোগ্য,
দুর্নীতিবাজ আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের। শত শত কোটি টাকার
যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য লুট করা হয়। ধ্বংস করা হয় ঐতিহ্যবাহী
পাটশিল্প। বন্ধ হয়ে যায় ছোটবড় অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান।
ক্ষমতা কৃক্ষিগত ও চিরস্থায়ী
করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে হত্যা করলেন গণতন্ত্রকে। তিনি সকল
রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেন এবং চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব সংবাদপত্র
বন্ধ করে দিয়ে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। বিশেষ
ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর মত কালো আইন ও কৃখ্যাত রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৯-ও তিনিই
জারি করেন। বিচার বিভাগকে করেন নির্বাহী বিভাগের অধীন।
২.২. হাসিনা সরকারের আমলে
(১৯৯৬-২০০১) আওয়ামীকরণের কতিপয় নমুনা:
১। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি:
প্রতিদিন
খুন-ধর্ষণ-ছিনতাই-রাহাজানি-চাঁদাবাজি-দখলবাজির মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা
পরিস্থিতির চরম অবনতি ছিল আওয়ামী সরকারের আমলে গণমানুষের বড়প্রাপ্তি।
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ কাজঅ আরেফ,
সাংবাদিক মুকুল ও শামসুর রহমান, আইনজীবি হাবিবুর রহমান মন্ডল, আইনজীবি
কালিদাস বড়াল, এডভোকেট নুরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শিপু, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র
রুবেল, কলেজ ছাত্রী বুশরা, ছাত্রদল কর্মী সজল, ব্যবসায়ী তারাজউদ্দিন,
আদিবাসি নেতা আলফ্রেড সরেন, যুগ্মসচিব নিকুঞ্জবিহারীসহ সারা দেশের হাজার
হাজার মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাসমূহের প্রতিবেদনানুযায়ী এ ধরনের হত্যার
সংখ্যা বিশ হাজার। আর এসব খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জিগত থেকে
যেসব আওয়ামী নেতা মাসুষের ঘৃণ্য ও ধিক্কার কুড়িয়েছেন তাদের মধ্যে সাবেক
এমপি হাজী মকবুল, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক এমপি ডাঃ ইকবাল, সাবেক এমপি
কামাল মজুমদার ও তার পুত্র জুয়েল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন
চৌধুরী মায়া ও তার পুত্র দীপু চৌধুরী, দখলদারী সন্ত্রাসী পুরত্রদের পিতা
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ,
গফরগাঁওয়ের সাবেক এমপি আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ,ফেনীর ত্রাস সাবেক এমপি জয়নাল
হাজারী, ছাতকের সাবেক এমপি 'বোমা' মানিক, নারায়নগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম
ওসমান, লক্ষীপুরের আবু তাহের, অবৈধ জি-৩ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক
মন্ত্রী ইঞ্জিঃ মেশাররফ হোসেনের পুত্র সুমু, ব্যাংক দখলদারী আওয়ামী নেতা
আখতারুজ্জামান বাবু প্রমুখদের নাম আজ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত সন্ত্রাসীদের
নামের সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত।
আওয়ামী লীগ আমলে নারী নির্যাতন
একটি প্রাত্যহিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ
শাখার সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন মানিক ক্যাম্পাসে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে তা
উদযাপন করে।
সাংবাদিকদের ওযর চালানো হয়
অত্যাচারের স্টিম রোলার। শামসুর রহমান ও মুকুল হত্যা, টিপুকে পিটিয়ে পঙ্গু
করা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিমের অশ্লীল দম্ভোক্তি 'এই কুত্তার বাচ্চা
সাংবাদিককে আমি দেখ নেব', সাবেক সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক
সাংবাদিকদের দৈহিক নির্যাতনের হুমকি প্রদান, চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ
অফিসে সাংবাদিকদের মারপিট ও ভাংচুর এবং পরবর্তীতে দু'জন আওয়ামী মন্ত্রী
আব্দুল মান্নান ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কর্তৃক দুই আসামীকে নিরাপদ
আশ্রয় প্রদান ইত্যাদি ঘটনা এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছে।
|
| দূনীতির শীর্ষে ছিলেন শেখ
হাসিনা, তোফায়েল, মঞ্জু, আমু, মোঃ নাসিম, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ড. ম.খ.
আলমগীর, রাশেদ মোশাররফ, মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, আব্দুল জলিল, ডা.
মোজাম্মেল হোসেন, সাবের হোসেন চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ফায়জুল হক,
শেখ হেলাল, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, হাজী সেলিম, আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, ডা.
এইচ বি এম ইকবাল, মেয়র হানিফ, মেয়র মহিউদ্দিন প্রমূখ। |
২। সীমাহীন দূর্নীতি:
আর্ন্তজাতিক সংস্থা
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল- এর জরিপে বাংলাদেশকে বর্তমান বিশ্বে ১নং
দূর্নীতি পরায়ন দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর জন্য দায়ী বাংলাদেশের
জনগণ নয়, দায়ী দূর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত আওয়ামী সরকার, তার প্রধানমন্ত্রী
ও তার নেতা কর্মীরা। আওয়ামী আমলের দূর্নীতির কিছু কিছু নমুনা নীচে তুলে ধরা
হল:
সাড়ে সাতশ কোটি টাকা ব্যয়ে
সাতটি অচলপ্রায় মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করে দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ
রেহানার বিপুল পরিমাণ কালো টাকা উপার্জন; নৌ-বাহিনীর জন্য ফ্রিগেট ক্রয়েও
বড় রকমের দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ; পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্যান্যদের স্মৃতি
রক্ষার্থে শেখ হাসিনা কর্তৃক শুধু একটি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটেই
(১৯৯৯-২০০০) খরচ ৩২০ কোটি টাকারও বেশী; ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় পিতার
মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য শেখ হাসিনা কর্তৃক সরকারি তহবিলের কোটি কোটি
টাকা আত্মসাত; রাষ্ট্রীয় টাকায় দলীয় জনসভা অনুষ্ঠান; নাতনীর জনসভা উপলক্ষে
রাষ্ট্রীয় অর্থে দীর্ঘদিনের জন্য সাঙ্গপাঙ্গসহ শেখ হাসিনার আমেরিকা সফর;
হাসিনা সরকারের মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ কর্তৃক
ঢাকা শহরে সরকারি খাস জমি, দালানকোঠা, পার্ক, লেক ও নদী দখল; দলীয় ব্যক্তি
ও আত্মীয়দের নামে বনানী-গুলশানে ৪০টি প্লট বরাদ্দকরণ, নিজস্ব লোকদের নামে
শত শত 'ন্যাম' ফ্লাটের মালিকানা প্রদান; ঢাকা ও চট্টগ্রামে দলীয় লোক ও
আত্মীয়দের মধ্যে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দকরণ; সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল
আহমেদ কর্তৃক বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে কোটা প্রদানের প্রতিশ্রতি দিয়ে বিপুল
অংকের ঘুষ গ্রহণ; বেনামিতে চট্টগ্রাম সিমেন্ট ক্লিংকার ফ্যাক্টরীর মালিকানা
দখল; টেলিফোন মন্ত্রী হিসেবে মোঃ নাসিম কর্তৃক ৫৮ জেলা সদরে টেলিফোন
প্রকল্প থেকে প্রায় ৭শ কোটি টাকা আত্মসাত; মোহাম্মদ নাসিম-এর অবৈধভাবে
হেলিকপ্টার ভ্রমণের কারণে ৫ বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকা খেসারত; নাসিমের স্ত্রী
ও বান্ধবী ঢাকার পুলিশ কমিশনারের স্ত্রী কর্তৃক ঢাকা মহানগরের ২১টি থানায়
ওসি বদলীর জন্য ৪ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ; ব্যাংক প্রতি ৫ কোটি টাকা এবং বীমা
কোম্পানী প্রতি দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাংক ও বীমা
কোম্পানীর অনুমতি প্রদান; সরকারি টাকায় পরিবার-পরিজন ও সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে
দূরদেশে দীর্ঘ ব্যক্তিগত সফর ও একের পর এক ডক্টরেট ডিগ্রি ক্রয়; দেশবাসীকে
নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রেখে শেখ হাসিনা কর্তৃক নিজের নিরাপত্তার মিথ্যা
অজুহাতে সকল প্রকার অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি নিবাস 'গণভবণ' দখল এবং পদস্থ কর্মকর্তাগণ সমৃদ্ধ
বিভিন্ন পদের ১৯৭৫ জনের এসএসএফ বাহিনীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা সুবিধা লাভের
জন্য আইন পাশ। অন্যান্য
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও নেতাদের মধ্যে দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিলেন আনোয়ারর
হোসেন মঞ্জু, আমির হোসেন আমু, মো: নাসিম, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ড. ম. খা.
আলমগীর, রাশেদ মোমাররফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আব্দুল জলিল, ডা.
মোজাম্মেল হোসেন, সাবের হোসেন চৌধুরী, শেখ ফজলুল কিরম সেলিম, ফায়জুল হক,
শেখ হেলাল, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, হাজী সেলিম, আলহাজ্ব মকবুল হোসেন,
ডা.এইচ বি এম ইকবাল, মেয়র হানিফ, মেয়র মহিউদ্দিন প্রমুখ।
৩। বিদ্যুৎ:
বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী সরকারের হিমালয়সম ব্যর্থতার
কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন, সেচ যন্ত্রের ব্যবহার ছাত্র-ছাত্রীদের
লেখাপড়া, হাসপাতাল-অফিস-আদালত ইত্যাদিতে কাজকর্মসহ জনজীবন সম্পূর্ণ
বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত শেখ হাসিনা যখন
বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলতেন তখন দেশবাসীর কাছে তা শোনাত পরিহাসের মত।
৪। প্রশাসনের দলীয়করণ:
আওয়ামীপন্থী অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের
রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে বসিয়ে প্রশাসনকে অচল করা হয়। পুলিশ বাহিনীকে
ব্যবহার করা হয় দলীয় ক্যাযার বাহিনীর মতো। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য
দাবিকে জেল-জুলুম, চাকুরিচ্যুতি ও 'ডগ-স্কোয়াড' লেলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে করা
হয় স্তব্ধ। ফায়দা লুটে নেয় শুধু তথাকথিত 'জনতার মঞ্চের' কুখ্যাত আমলা
মহিউদ্দিন খান আলমগীল, সফিউর রহমান, রিবউল মোক্তাদির, শেখ হাসিনার ফুপাতো
বোনের স্বামী রশিদুল আলম গংরা।
৫। বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ ও চাপ সৃষ্টি:
মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে রাজপথে
লাঠিমিছিল, তাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে হামলা, জাতীয় সংসদে ও সাংবাদিক
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী কর্তৃক বিচারপতিদের উদ্দেশে
অশালীন ভাষায় কটুক্তি এবং সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে রাতের অন্ধকারে বস্তি
বসিয়ে আওয়ামী লীগ এক ন্যাক্কারজনক অধ্যায় রচনা করে। সুপ্রীম কোর্ট শেখ
হাসিনাকে বিচারকদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্যের জন্য দই দুইবার কঠোরভাবে
সতর্ক করে দেয়। |
|
জনতার মঞ্চের' নেতা আওয়ামী
লীগের সেবাদাস সুবিধাবাদী আমলা সফিউর রহমানকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ
দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এই প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করেছে। আওয়ামী
আমলের সকল উপনির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ, আওয়ামী সন্ত্রাস ও ফলাফল
নিয়ে কারচুপি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে বিতর্কিত করে তোলে। |
৬। জাতীয়
সংসদকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণতকরণ:
বিরোধী দলকে কথঅ বলার সুযোগ না দেয়া, অসত্য
বক্তব্য ও ভুল তথ্য প্রদান করা, শেখ হাসিনা ও তার দলীয় সংসদ সদস্যদের
অশালীন ও আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ এবং স্পীকার কর্মীসুলভ অআচরণ ও
পক্ষপাতিত্ব বস্তুতপক্ষে জাতীয় সংসদকে আওয়ামী লীগের ইনজস্ব কার্যালয়ে পরিণত
করেছিল। ৭। মুক্তিযুদ্ধকে
দলীয়করণ: যদিও মুষ্টিমেয়
ভিন্ন মতাবলম্বী ব্যতীত দল, মত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষ নির্বিশেষে
প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিল, আওয়ামী লীগ নিজ দল ছাড়া অন্য
কাউকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শিক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না। শেখ
মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় হানাদার বাহিনীর নিকট ধরা দিয়ে সমগ্র জাতিকে চমর
বিভ্রান্তি ও বিপর্যয়ের মুখে ফেল রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। অন্যদিকে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্রুত স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে জীবন বাজি রেখে
রণক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়া এবং বঙ্গবীর জেনারেল
ওসমানীসহ অএনক বীর মুক্তিযোদ্ধার ভুমিকাকে ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ৮।
নির্বাচন কমিশন: 'জনতার
মঞ্চের' নেতা আওয়ামী লীগের সেবাদাস সুবিধাবাদি আমলা শফিউর রহমানকে নির্বাচন
কমিশন পদে নিয়োগ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এই প্রতিষ্ঠনের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট
করেছে। আওয়ামী আমলের সকল উপনির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ, আওয়ামী
সন্ত্রাস ও ফলাফল নিয়ে কারচুপি
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে বিতর্কিত করে তোলে।
৯। পাবলিক সার্ভিস কমিশন:
আওয়ামী লীগ নেতা ড. মোস্তফা
চৌধুরীকে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য দলীয় ব্যক্তিদের সদস্যসহ নানাপদে বসিয়ে
কমিশনকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে। বিগত ২০তম বি সি
এস পরীক্ষার ফলাফল তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
১০। প্রতিরক্ষা:
প্রচলিত নিয়মনীতি ভঙ্গ করে শেখ
হাসিনা তার ফুপা মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানকে এলপিআর থেকে ফিরিয়ে এনে
দীর্ঘ চার বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান সিহেবে নিয়োগদান করেন। পরে জেনারেল
হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে চাকুরী শেষ হোয়ার আগেই রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ
দেন।
মিগ-২৯ ও
ফ্রিগেট ক্রয়ে পর্বতপ্রমাণ দুর্নীতি, বড়াইবাড়ি ও পাদুয়ায় শেখ হাসিনার
নতজানু বিদেশ নীতি, ভাওতাবাজির পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত তথাকথিত
শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি শেখ হাসিনা ও তার সরকারের
দুর্নীতি ও দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের প্রমাণ বহন করে।
১১। কুক্ষিগত রেডিও টিভি:
আওয়ামী আমলে সরকারি রেডিও-টিভির
স্বায়ত্বশাসনের নামে এয আইন পাশ করেছে তাকে রেডিও-টিভি শতকরা ১০০ ভাগ দলীয়
প্রচার মাধ্যমে পরিণত হয়। বিটিভিতে শেখ হাসিনা, তার পিতা ও আওয়ামী
নেতা-কর্মীদের প্রচার এত অধিক হারে ও নগ্নভাবে হয় যে জনগণ বিটিভির নামকরণ
করে 'বাপ বেটির টিভি', আট্টার সংবাদের নাম দেয় 'ঠাট্টার সংবাদ'।
গদিচ্যুত হোয়ার পূর্ব মুহূর্তে
আওয়ামী সরকার রেডিও-টিভির স্বায়ত্বশাসন না বলে বলা যায় 'আয়ত্বশ্বাসন'। অথচ
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল রেডিও-টিভির পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন প্রদান।
১২। অর্থনৈতিক দুরবস্থা:
আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের
অর্থনীতি ধসে পড়ার কয়েকটি নমুনা নিম্নরূপ:
টাকার অবমূল্যায়ন:
টাকার অবমূল্যায়ন করা হয় ১৮ বার
যার ফলে টাকার মূল্য কমে যায ডলার প্রতি ১৭ টাকা।
শেয়ার মার্কেট:
শেয়ার মার্কেট ধ্বংস করা হয়
অর্থমন্ত্রীর পুত্রবধূ, আওয়ামী ফায়দাভোগকারিগণ ও ভারতীয় মাড়োয়ারী বেনিয়াদোর
ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। পথের ফকির হয়ে যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ। |
| বিদেশী পণ্যের অবাধ
চোরাচালানের কারণে দেশীয় পন্য প্রচন্ডভাবে মার খেয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে শত শত
শিল্প কারখানা। বৈধ-অবৈধ পথে আসা হাজার হাজার কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য
বাংলাদেশকে পরিণত করেছে ভারতের একটি বৃহৎ একচেটিয়া বাজারে। |
রাজস্ব আয়:
রাজস্ব আয় বাড়াতে চরমভাবে
ব্যর্থ আওয়ামী সরকার শুধুমাত্র ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে
ঋণ নেয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের। চাটার্ড
ব্যাংকের মতে, এ অংক ৯ হাজার কোটি টাকা। পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম
বেড়েছে দফায় দফায়, নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের ওপর বসেছে উচ্চ হারের শুল্ক।
বীজ, সার, কীটনাশক, ডিজেল এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়
ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়েছে অস্বাভাবিক মাত্রায় অথচ উৎপাদিত ফসলের
ন্যায্যমূল্য পায় নি কৃষক।
চোরাচালান:
বিদেশী পণ্যের অবাধ চোরাচালানের কারণে দেশীয়
পণ্য প্রচন্ঢভাবে মার খেয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে শত শত শিল-প কারখানা।
বৈধ-অবৈধ পথে আসা হাজার হাজার কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশকে পরিণত
করেছে ভারতের একটি বৃহৎ একটি বাজারে।
প্রবৃদ্ধির হার:
জনগণের আয় বৃদ্ধি পায় নি অথচ
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দফায় দফায় বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের দাম বাড়ানোতে
ব্যায়ের বোঝা বেড়েছে অনেক। বেকার সমস্যা হয়েছে প্রকট। এতদসত্বেও মিথ্যার
আশ্রয় নিয়ে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি দেখিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর অপচেষ্টা
করেছে সরকার।
১৩। নামকরণ ও পারিবারিকরণ:
বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ,
হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, রাস্তাঘাট, সেতু, ক্রীড়া প্রতিযোগীতা,
পদক ইত্যাদি সব কিছুর নামের সঙ্গে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম
যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানাদিতে শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি প্রদর্শণ
বাধ্যতামূলককরণ ও তার কোন সমালোচনা করা চলবে না- এই মর্মে আইন, "জাতির
পিতার পরিবারের নিরাপত্তা আইন ২০০১", শেখ হাসিনাকে গণভবন ও এসএসএফ দ্বারা
সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদান, শেখ রেহানাকে ধানমন্ডীতে বিশাল বাড়ি বরাদ্দ
করার সিদ্ধান্ত প্রভৃতি ঘটনা সারা দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করে।
১৪। ধর্ষণ:
আওয়ামী শাসনামলে মহিলাদের
মান-সম্ভ্রম নিরাপদ ছিল না। ০৮.১০.২০০০ তারিখের দৈনিক ইএত্তফাকের
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের জুলাই থেক ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
ধষির্তা হন ৮১৩৭ জন এবং নির্যাতনের শিকার হন ২৬০৭৯ জন নারী ও শিশু। এরূপ
কয়েকটি লোমহর্ষক ঘটনার শিকার ছিল: টঙ্গীর পাগার মধ্যপাড়ার চার বছরের শিশু
মিষ্টি, ঢাকার আদালত ভবনে ধষির্তা শিশু তানিয়া, নারায়নগঞ্জ আদালত এলাকায়
গণধর্ষনের শিকার গৃহবধু শিল্পী আক্তার, পটুয়াখালীর অন্ত:স্বত্ত্বা হনুফা
বেগম, গুলশান থানার অভ্যন্তরে গণধষির্তা ব্রিটিশ মহিলা ও একজন মার্কিন
কূটনীতিকের স্ত্রী, চাটমোহর থানার দিলালপুর গ্রামের রোমানা খাতুন, ডেমরা
থানার নাজমা বেগম, ঝিনাইদহে ধর্ষনের ফলে নিহত অজিফা ও তার মা, রাউজানে
ধর্ষিতা ও পরে প্ুড়িয়ে মারা গার্মেন্টস কর্মী সীমারানী প্রভৃতি।
১৫। শিক্ষাঙ্গন:
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই দেশের
প্রায় সব ক'টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিষ্টারসহ শীর্ষ
পদগুলোতে এবং সিণ্ডিকেটসহ নীতি নির্ধারনী সকল পরিষদে দলীয় লোকদের বসায়।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে যোগ্যতা বিচার না করেই
শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।
বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলো ছাত্রলীগ
ক্যাডারদের খুন, ধর্ষণ, টেণ্ডারবাজি ও চাৎদাবাজির আখড়াতে পরিণত হয়।
ছাত্রলীগ ব্যতীত অন্যান্য দলের প্রকৃত ছাত্রদের হল থেক বের করে দিয়ে ছাত্র
নামধারী আওয়ামী পন্থী বহিরাগত গুণ্ডাদের আশ্রয় দেয়া হয়।
শেখ হাসিনা সরকার পরীক্ষায়
নকলবাজিতে এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করে। নকল প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়ার
পরিবর্তে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী দ্বারা ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে লাঞ্চনা ও
প্রহার করা হয়। এই সরকার পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনা ও বিতরণের ক্ষেত্র নজিরবিহীন
ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা-জীবনকে
অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তোলে। শেখ হাসিনা হয়তো জানেন না যে, এসব শিশু তার মত
পাইকারি দরে ডক্টরেট ডিগ্রি ক্রয়ের রেকর্ড সৃষ্টি করাকে ঘৃণা করে; তারা চায়
লেখাপড়া করে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে।
১৬। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিসমূহ: কথা ও কাজের গরমিল
১৯৯৬ সালে নির্বাচনের
প্রাক্কালে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী নেতারা প্রকাশ্যে বারবার অতীতের
ভুলসমূহের জন্য ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে সদাচারণের মুচলেকাসরূপ জাতিকে অনেক
গালভরা প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন। ঐসব প্রতিশ্রুতি যে, ভাওতাবাজি ছাড়া
আর কিছুই ছিল না তা পরবর্তীতে তাদের শাসনামলে প্রমাণিত হয়। স্বচ্ছ ও
জবাবদিহিতা মূলক সরকার প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, দেশ থেকে দুর্নীতির
মূলোৎপাটন, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের প্রসার, প্রচার মাধ্যমের স্বায়ত্বশাসন,
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সম্পদের উন্নয়ন সাধন, শিক্ষক
কর্মচারী, ও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ, পাটের দাম মণপ্রতি ৫০০/- টাকা
করা ইত্যাদি অসংখ্য অঙ্গীকারের কোনটিই পালন করেনি আওয়ামী সরকার। জনগণের
কাছে এগুলো ইজ প্রহসনের মত মনে হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ কালো
আইন, অর্থাৎ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন তো বাতিল করেইনি, বরং জননিরাপত্তা
আইন নামে আরেকটি নতুন কালো আইন জারি করেছে। |
| আল্লাহর মেহেরবানীতে সরকার
গঠনে সক্ষম হলে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম কাজ হবে দলমত নির্বিশেষে
সকলের সমর্থন ও সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে জনগণের জান-মাল ও সম্ভ্রম নিশ্চত করা
এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যে আমরা যে কোন মূল্যে দেশে
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। |
পরিচ্ছেদ-৩
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার: সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধশালী
বাংলাদেশ গড়ার শপথ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক
রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং জনগণের ইচ্ছার সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে।
বিএনপি মনে করে যে, বর্তমানে প্রতিযোগীতমূলক বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি আধুনিক
রাষ্ট্রে সরকারের দায়িত্ব কেবলমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং গতানুগতিক
উন্নয়ন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাস্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার,
সবোর্ত্তম ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের সামগ্রীক ও স্থায়ী কল্যাণসাধনো এই
দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ এই দায়িত্বের পরিধি
বিস্তৃত করেছে এবং এক নতুন মাত্রা যোগ করার দাবি নিয়ে এসেছে। এই বহুমাত্রিক
দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে সময়ের প্রয়োজনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ
ভাবে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
বিগত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা
পরিস্থিতির যে মারাত্মক অবনতি হয়েছে, আত্মীয়করণ-দলীয়করণের সর্বগ্রাসী নীতি
অনুসরণ করে যেভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সার্বিক প্রশাসনিক কাঠামো, তাতে
সন্ত্রাস দমন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, দুর্নীতি দূরীকরণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ
ব্যবস্থার উন্নতি, জলাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যার সমাধান, কৃষিপণ্যের
ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ প্রভৃতিকে অগ্রাধিকার সময়ের দাবি।
এই বিশ্বাস ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে আমরা ঘোষনা
করছি যে-
৩.১. আইন-শ | |