বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি

 
 
 

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি এ দেশের শ্রমিক শ্রেনী ও শ্রমজীবী জনগণের বিপ্লবী রাজনৈতিক দল।
সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এই পার্টির লক্ষ্য।
বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা তার সকল কর্মকান্ড পরিচালনায় ও নীতিসমূহ রচনায় সচেষ্ট থাকবে। সেক্ষেত্রে পার্টি মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিনের চিন্তার বৈজ্ঞানিক মর্মবাণী ও বিষয়বস্তুকে অনুসরণ ও বিকশিত করে অগ্রসর হওয়ার ধারাকে পার্টির মতাদর্শগত ভিত্তিরূপে বিবেচনা করবে। মতাদর্শের ক্ষেত্রে পার্টি সঠিক মার্কসীয় চিন্তা অনুসরণে যে কোন প্রকার মতান্ধতা, গোঁড়ামী, শাস্ত্রবদ্ধ চিন্তার প্রবণতা প্রভৃতি হতে মুক্ত থাকবে এবং তত্ত্ব ও প্রয়োগের আন্ত:সম্পর্ক বিষয়ে মার্কসীয় সূত্র অনুসারে তত্ত্ব ও প্রয়োগকে সকল সময় সৃজনশীলভাবে অগ্রসর ও বিকশিত করতে সচেস্ট থাকবে।
 
 এই পার্টি সমাজ বিকাশের বিপ্লবী শক্তি হিসেবে সমাজ ও সভ্যতার প্রগতিশীল বিকাশের জন্য সকল সময়ে এবং বিভিন্নমুখী ধারায় প্রগতির সচেতন উপাদান হিসেবে ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকবে।
পার্টি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।
দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃত, সমাজ বিকাশের ধারার বিশিষ্টতা ও জনগণের সামাজিক মনস্তত্ত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুনির্দিষ্ট বাস্তবতাকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে এই পার্টি চূড়ান্ত লক্ষ্যের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য মার্কসবাদী-লেনিনবাদী নীতি অনুসারে সুনির্দিষ্ট  সময়ের সুনির্দিষ্ট কর্তব্য নির্ধারণ করবে। পার্টি দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা ও জনগণের জীবনে বিদ্যমান দারিদ্র্য মোচনের জন্য, দেশবাসীর বৈষয়িক সম্পদের ও আত্মিক শক্তির বিকাশ সাধন করার জন্য, সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে সর্বোত্তম গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে যাবে।
 
বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, গণতন্ত্রের মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং বিকশিত করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম পরিচালনা করবে। বাক-শক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত ক্ষেত্রে বিভিন্নমুখী ধারায় আন্দোলন ও সংগ্রাম পরিচালনায় পার্টি সর্বতোভাবে নিয়োজিত থাকবে। পার্টি জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রয়াস চালাবে।
 
এই পার্টি প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অবাধ অধিকার ও প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বিবেকের স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকবে। পার্টি কূপমন্ডূকতা, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, সঙ্কীর্ণতা, আঞ্চলিকতা, স্বৈরতান্ত্রিকতা প্রভৃতি পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণা ও এসবের ধারক প্রতিক্রিয়শীল শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে সংগ্রাম করবে এবং সুসভ্য, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মূল্যবোধ এবং শক্তিসমূহকে দৃঢ়ভিত্তিক করতে সচেষ্ট থাকবে।
 
পার্টি সকল ধর্মমতের মানুষ ও সকল জাতিসত্তার সমমর্যাদার জন্য এবং দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ও জাতীয় সংখ্যালঘু তথা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ন্যায্য অধিকারসমূহ সুরক্ষা করতে এবং সকল প্রকার জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্য-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে সংগ্রাম করবে।
১০ পার্টি দেশের নারী সমাজের বিরুদ্ধে অত্যাচার, নিপীড়ন, বৈষম্য অবসানে ও  নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাবে।
১১ সমাজের সকল দুর্বল অংশ ও সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, অগ্রগতি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পার্টি সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।
১২ পার্টি পরিবেশ, জীববৈচিত্র, মানুষ ও প্রকৃতি রক্ষায় বিকল্প উন্নয়ন ধারা প্রতিষ্ঠাসহ বহুমুখী ও সামগ্রিক প্রয়াস চালাবে।
১৩  এই পার্টি সারা দুনিয়ার মানব সভ্যতার সাধারণ স্বার্থ রক্ষা ও তা অগ্রসর করার জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকবে। মানব মুক্তির মহতি আদর্শ সাম্যবাদে উদ্বুদ্ধ এই পার্টি প্রাণের অস্তিত্ব বিলোপের আশঙ্কামুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য সংগ্রাম করে যাবে। এই লক্ষ্যে পার্টি আণবিক ও তাপ পারমানবিক যুদ্ধের বিপদের সম্পূর্ণ অবসান, সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ প্রভৃতির জন্য দৃঢ়ভাবে সংগ্রাম করবে।
 
১৪ পার্টি উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায়, নয়া আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রায়নে এবং প্রতিটি জাতির নিজস্ব পথ বাছাইয়ের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করবে।
১৫ পার্টি পৃথিবীর দেশে দেশে শোষিত-বঞ্চিত মানুষ ও নিপীড়িত জাতিসমূহের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশে দ্বিধাহীন থাকবে এবঙ সাম্রাজ্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ, জায়নবাদ প্রভৃতি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় সংগ্রাম পরিচালনা করবে। পার্টি মানব সভ্যতার অগ্রগতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে সকল অবদান ও সাফল্যকে যথাযথ মূল্য দেবে। পার্টি জাতীয় স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে প্রত্যেক জাতি ও রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব, মৈত্রী ও সহযোগীতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশসমূহের সঙ্গে বিশেষত প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকবে।
 
১৬  পার্টি সর্বহারার আন্তর্জাতিকবাদের সুমহান আদর্শে পরিচালিত হবে। পার্টি প্রতিটি দেশের কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণ স্বাধীনতা, সমমর্যাদা ও মতের বৈচিত্র্যের স্বীকৃতির ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট আন্দোলনের সকল শক্তির ঐক্য-সংহতি জোরদার করার জন্য সচেষ্ট থাকবে। বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্রের শক্তি ও অবদানকে সংহত করার জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি প্রচেষ্টা চালাবে। পার্টি একই সঙ্গে বিশ্ব পরিসরে মেহনতি মানুষের আন্দোলনের অন্যান্য অংশ এবং প্রগতিশীল ও শান্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের স্বপক্ষের সকল শক্তির ঐক্য ও সংহতি জোরদার করার প্রচেষ্টা চালাবে।
 
১৭ এই পার্টি জনগণের বিশেষত শ্রমিক শ্রণী ও শ্রমজীবী মানুষের সৃজনশীল শক্তি ও ভূমিকার উপর আস্থাশীল থেকে তার সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। এবং জনগণের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিক্ষাগ্রহণ করে তাদের আস্থাবান পার্টি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করতে সচেষ্ট থাকবে।
১৮ গণতন্ত্র ও কেন্দ্রিকতা এই উভয় উপাদানের সুসমন্বয়ের মাধ্যমে পার্টি তার সাংগঠনিক নীতি পরিচালনা করবে এবং সুশৃঙ্খল, সচেতন, বিপ্লবী রাজনৈতিক দল হিসেবে তার কার্যাবলী পরিচালনা করবে। এই পার্টির কাজকর্ম - একাধারে একক কেন্দ্র ও একক সাধারণ লাইনের স্বীকৃতি এবং অন্যদিকে পার্টির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক বিধিবিধানের প্রয়োগ- এই নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। সংগঠনের অভ্যন্তরে পার্টি যেমন গঠনতন্ত্রের নির্দিষ্টকৃত বিধি-বিধান অনুসারে গণতন্ত্রের চর্চা ও প্রয়োগ, চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং শ্রেণী ও আদর্শগত ভিত্তি অক্ষুন্ন রেখে পার্টির অভ্যন্তরে মতবৈচিত্র্যেরের সুযোগ এবং পার্টির নীতি প্রণয়ন ও কার্যকলাপ পরিচালনায় সদস্যবৃন্দের ও সকল স্তরের সংগঠনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিকা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হবে, ঠিক তেমনি পার্টিতে কোনো শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ, উপদল, দলাদলির প্রবণতা প্রভৃতির বিরুদ্ধে কঠোর থাকবে। পার্টি নিজেকে আমলাতান্ত্রিকতা, পদমর্যাদাজনিত অহমিকা, স্বেচ্ছাচারী প্রবণতা, সুবিধাবাদ প্রভৃতি হতে মুক্ত রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
 
১৯ গঠনতন্ত্রে ঘোষিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে পার্টির রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও আদর্শগত ঐক্য সুদৃঢ় করার জন্য পার্টি সবসময় সচেতন প্রয়াস চালাবে।
 

গঠনতন্ত্র

ধারা-১ : নাম

এই সংগঠনের নাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

ধারা-২ : প্রতীক

পার্টির প্রতীক হবে আড়াআড়িভাবে বসানো লাল রং-এর হাতুড়ি ও কাস্তে

ধারা-৩ : পতাকা

পার্টি পতাকার রং হবে গাঢ় লাল। এর দৈর্ঘ্য হবে প্রস্থের দেড় গুণ এবং দন্ডের দিকে উপরের কোণে আড়াআড়িভাবে সাদা রংয়ের হাতুড়ি ও কাস্তে থাকবে।

 

ধারা-৪:

পার্টিরসাংগঠনিক নীতি : গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা

 

পার্টি তার মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য গণতন্ত্র ও কেন্দ্রিকতা এই উভয় উপাদানের সুসমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল, সচেতন, বিপ্লবী রাজনৈতিক দল হিসেবে তার সাংগঠনিক নীতি পার্টির অভ্যন্তরে একাধারে একক কেন্দ্র ও একক সাধারণ লাইনের স্বীকৃতি এবং অন্যদিকে সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রয়োগ ও চর্চা সুনিশ্চিত করবে। পার্টির শ্রেণীভিত্তি, চূড়ান্ত লক্ষ্য ও মতাদর্শগত ভিত্তি অক্ষুন্ন রেখে পার্টির অভ্যন্তরে মতামতের বৈচিত্র্য থাকতে পারবে। পার্টির সাংগঠনিক নীতিতে বিশ্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি ও সচেতন বিপ্লবী শৃঙ্খলার যথাযথ প্রতিফলন থাকবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাংগঠনিক নীতিসমুহ নিম্মরূপ:
  সর্বনিম্ম থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পার্টির প্রতিটি কমিটি ও কর্মকর্তা গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হবেন।
  সংখ্যালঘিষ্ঠদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠের এবং নিচের স্তরের কমিটিকে উপরের স্তরের কমিটির সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ পালন করা সকল পার্টি সংগঠন ও পার্টি সদস্যের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।
 
  নিচের স্তরের পার্টি কমিটিসমূহ উপরের স্তরের কমিটিসমূহের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করবে এবং তাদের পরামর্শ ও নির্দেশ গ্রহণ করবে। উপরের স্তরের কমিটিসমূহ নিয়মিত নিচের স্তরের কমিটিসমূহের কাছে সামগ্রিক কাজকর্ম ও চলমান রাজনীতি সম্পর্কে রিপোর্ট করবে।
  উপরের স্তরের কমিটিগুলো পার্টির সকল নীতি, তার প্রয়োগ ও কাজকর্ম সম্পর্কে পার্টির অভ্যন্তরে খোলাখুলি আলোচনায় পার্টি সদস্যদের উৎসাহিত করবে।
  পার্টির সকল স্তরে খোলাখুলি সমালোচনা ও আত্মসমালোচনায় উৎসাহ প্রদান করা হবে।
  পার্টির সকল স্তরে আমলাতান্ত্রিক ঝোঁকের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম পরিচালিত হবে।
  পার্টি সংগঠনে কোনো গুরুতর মতভেদ দেখা দিলে প্রথমে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তার নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা চালানো হবে এবং তা সম্ভব না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
   যে কোনো পার্টি সদস্যকে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুযায়ী তার ভিন্নমত প্রচার করতে দেয়া হবে।
  পার্টির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ উপরের স্তরের যে কোনো কমিটির কাছে নিচের স্তরের যে কোনো কমিটির মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাব পাঠানোর অধিকার থাকবে।
  ১০

 পার্টির অভ্যন্তরে কোনো ধরণের উপদল সৃষ্টি বা দলাদলি গ্রহণযোগ্য হবে না ।

ধারা-৫ : সদস্যপদ

 
  আঠার বছর বা তার অধিক বয়সের জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক পার্টির আদর্শ-উদ্দেশ্য-লক্ষ্য গ্রহণ করে পার্টির গঠনতন্ত্র কর্মসূচি মেনে চলতে রাজি হলে, নিয়মিত পার্টির চাঁদা ও লেভি প্রদানে সম্মত হলে এবং পার্টির কোনো না কোনো সংগঠনে সংগঠিত থেকে কাজ করতে প্রস্তুত থাকলে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্যপদ লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। একমাত্র ব্যক্তিগতভাবেই কেউ পার্টির সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন।
   
  পার্টির সদস্যপদ প্রার্থীকে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য পার্টি শাখার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীকে নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন ও জানেন এমন দু'জন পার্টি সদস্য দায়িত্ব সহকারে আবেদনকারী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ সুপারিশ করলে শাখার সাধারণ সভায় সদস্য পদপ্রার্থীর আবেদন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সকল স্তরের পার্টি কমিটিগুলো অনুরূপ পদ্ধতিতে সদস্যপদ প্রার্থীর দরখাস্ত সরাসরি গ্রহণ ও সদস্যপদ প্রদান করতে পারবে।
   
  শাখার সাধারণ সভায় সদস্যপদ প্রার্থীর আবেদন অনুমোদন লাভ করলে তিনি এই অনুমোদনের তারিখ হতে ছয় মাস পর্যন্ত প্রার্থী সদস্য বলে গণ্য হবেন।
   
   প্রার্থী সদস্যদের পূর্ণ সদস্যদের মতো একই অধিকার ও কর্তব্য থাকবে, তবে তাদের নির্বাচন করার বা নির্বাচিত হওয়ার অথবা কোনো প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির সময় ভোটদানের অধিকার থাকবেনা।
   
  প্রার্থী সদস্যদের আদর্শগত ও রাজনৈতিক শিক্ষা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা ও কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তাদেরকে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত করে তোলার প্রচেষ্টা চালাবে।
   
  প্রার্থী সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হলে শাখার সাধারণ সভা পূর্ণ সদস্যপদ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজনে প্রার্থী সদস্যপদের মেয়াদ অনূর্ধ্ব ছয় মাসের জন্য বাড়ানো যাবে। সংশ্লিষ্ট পার্টি প্রার্থী সদস্য সম্বন্ধে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না থাকলে ছয় মাস পর তিনি আপনা আপনি পূর্ণ সদস্য বলে বিবেচিত হবেন।
 

ধারা-৬: পার্টি শপথ

বিশেষ কারণে পার্টি অন্যরূপ সিদ্ধান্ত না নিয়ে থাকলে পূর্ণ সদস্যপদ অনুমোদনের পর প্রত্যেক সদস্যকে শাখার সাধারণ সভায় অথবা কমিটি সভায় নিম্নোক্ত শপথ গ্রহণ করতে হবে:
  " আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ গ্রহণ করছি যে, আমি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী দ্বারা পরিচালিত হয়ে মানবমুক্তির সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করবো। আমি পার্টির গঠনতন্ত্র, কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত সততার সাথে মেনে চলবো এবং তা বাস্তবায়নে নিষ্ঠাবান থাকবো। আমি পার্টি সদস্যের সম্মান ও পার্টির বিপ্লবী ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় যত্নবান হবো। আমি আমার দেশের শ্রমিক শ্রণী, মেহনতি মানুষ, জনগণ ও দেশের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজ করবো এবং সব সময় পার্টি ও জনগণের স্বার্থকে নিজের স্বার্থের ওপরে স্থান দেবো। সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদের মহান আদর্শে পরিচালিত হয়ে আমি সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও বৈষম্য দূর করে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ-প্রকৃতি-জীববৈচিত্র রক্ষা, শান্তি, স্বাধীনতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও বিপ্লবী মানবিকতার মূল্যবোধ সুরক্ষা ও বিকাশ এবং মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।"

ধারা-৭ :

পার্টি সদস্যের কর্তব্য

পার্টি সদস্যদের নিম্নোক্ত কর্তব্যগুলো পালন করতে হবে:
  যে পার্টি সংগঠনের তিনি সদস্য তার অন্তর্ভূক্ত থেকে পার্টির কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা। পার্টির নীতি ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। সমাজ জীবনে সম্পৃক্ত থেকে জনগণের স্বার্থে কাজ করা এবং তাদের মধ্যে পার্টির ভিত্তি প্রসারিত ও শক্তিশালী করা।
জনগণের মধ্যে থেকে জনগণের স্বার্থে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বহুমুখী ধারার কর্মকান্ড পরিচালনায় উদ্যোগী থাকা। জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণে একনিষ্ঠ থাকা। একই সঙ্গে জনগণকে পার্টির আদর্শ ও রাজনৈতিক লাইনে সচেতন ও সংগঠিত করা।
পার্টির ঐক্য রক্ষা ও শক্তিশালী করা। পার্টির নিয়ম-শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র মেনে চলা এবং নিয়মিত চাঁদা ও লেভি পরিশোধ করা। পার্টির এবং জাতি ও শ্রমজীবী জনগণের শত্রুর গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সব সময়ের জন্য সতর্ক ও সক্রিয় থাকা। নিজের গুণগত মান ও চেতনা এবং রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক জ্ঞান ক্রমে উন্নত করা। পার্টির পত্রিকা ও সাহিত্য পড়া এবং প্রচার করা।
পার্টির সদস্য ও কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করা এবং পার্টির মধ্যে ভ্রাতৃত্বমূলক, কমরেডসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে যৌথভাবে কাজের পদ্ধতি উন্নত করা এবং নিজের ও সকলের কাজের উন্নতি সাধনে সাহায্য করা। যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কাজে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও দায়িত্ব পালন করা।
পার্টির কাছে সরলভাবে সত্য প্রকাশ করা এবং পার্টি আরোপিত কোনো গোপনীয়তা ভঙ্গ না করা।
নিজের পেশাগত কাজের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট থাকা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কাজের উৎকর্ষ দিয়ে অন্যদের কাছে দৃষ্টান্তস্থানীয় হয়ে ওঠা এবং অন্যদের কাজে অনুপ্রাণিত করা।
দেশ, জাতি, জনগণ ও পার্টির স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া।
সততা, নীতিনিষ্ঠা, উচ্চ নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী, সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম করার মানসিকতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন মনেভাব প্রভৃতি গুণাবলী অর্জনে সব সময় যত্নবান থাকা।
১০ কোনো বিশেষ কারণে পার্টি অব্যাহতি না দিলে কোনো না কোনো শাখা বা কমিটিতে সংগঠিত থাকা।

ধারা-৮ :

সদস্যের অধিকার

পার্টি সদস্যের নিম্নোক্ত অধিকারগুলো থাকবে :
  পার্টি সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ও নির্বাচিত হওয়া।
  পার্টির নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করা।
  পার্টি সভায় পার্টির যে কোনো সংগঠন, সদস্য ও নেতৃস্থানীয় সদস্যদের দোষ-গুণ আলোচনা করা।
  কোনো পার্টি শাখা বা কমিটিতে সংগঠিত কোনো সদস্যর বিরুদ্ধে পার্টি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আলোচিত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের উক্ত পার্টি সভায় উপস্থিত থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করা।
 
  কোনো পার্টি সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত পার্টি সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করলে উর্ধ্বতন কমিটি, এমনকি কেন্দ্রীয় কমিটি ও কংগ্রেসের কাছে তার বক্তব্য পেশ করতে পারবেন। তবে ইতোমধ্যে তিনি অবশ্যই সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে যাবেন এবং কাজের অভিজ্ঞতা ও সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তার বক্তব্য-গুলো যাচাই করতে চেষ্টা করবেন।
 
  পার্টি কংগ্রেসসহ যে কোনো উর্ধ্বতন পার্টি সংগঠনের কাছে তার কোনো প্রস্তাব, বক্তব্য ও আবেদন পেশ করা।
  কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হলে কেন্দ্রীয় কমিটি, কন্ট্রোল কমিশন, পার্টি কংগ্রেসসহ সকল উর্ধ্বতন কমিটির কাছে গৃহীত ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা।
 

ধারা-৯ :

সদস্যপদ বাতিল
 

সন্তোষজনক কারণ ছাড়া কো