গঠনতন্ত্র

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

ভূমিকা

যেহেতু আল্লাহ ব্যতীত নিখিল সৃষ্টির কোন ইলাহ নেই এবং নিখিল বিশ্বের সর্বত্র আল্লাহ প্রবর্তিত আইনসমূহ একমাত্র তাঁহারই বিচক্ষণতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের সাক্ষ্য দান করিতেছে;

যেহেতু আল্লাহ মানুষকে খিলাফতের দায়িত্ব সহকারে পৃথিবীতে প্ররণ করায়াছেন এবং মানব রচিত মতবাদের অনুসারণ ও প্রবর্তন না করিয়া একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধানের অনুসরণ ও প্রবর্তন করাকেই মানুষের দায়িত্ব ও কর্তৃব্য নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন,

যেহেতু আল্লাহ তাহার প্রদত্ত জীবন বিধানকে বাস্তব রূপদানের নির্ভুল পদ্ধতি শিক্ষাদান ও উহাকে বিজয়ী আদর্শরূপে প্রতিষ্ঠিত করিবার উদ্দেশ্যে যুগে যুগে নবী-রাসুলদের প্ররণ করিয়াছেন;

যেহেতু বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসূল এবং আল্লাহর প্রেরিত আল-কুরআন ও বিশ্বনবীর সুন্নাহই হইতেছে বিশ্বমানবতার জীবনযাত্রার একমাত্র সঠিক পথ - সিরাতুল মুস্তাকীম;

যেহেতু ইহকালই মানবজীবনের শেষ নয় বরং মৃত্যুর পরও রহিয়াছে মানুষের জন্য এক অনন্ত জীবন যেখানে মানুষকে তাহার পার্থিব জীবনের ভাল ও মন্দ কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হইবে এবং সঠিক বিচারের পর জান্নাত বা জাহান্নামরূপে ইহার যথাযথ ফলাফল ভোগ করিতে হইবে;

যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করিয়া জাহান্নামের আজাব হইতে নাজাত এবং জান্নাতের অনন্ত সুখ ও অনাবিল শান্তি লাভের মধ্যেই মানব জীবনের প্রকৃত সাফল্য নিহিত;

যেহেতু আল্লাহর বিধান ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি দিক ও বিভাগে প্রতিষ্ঠিত করিয়াই মানুষ পার্থিব কল্যাণ ও আখিরাতের সাফল্য অর্জন করিতে পারে;

সেহেতু এই মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইসলামী সমাজ গঠনের মহান উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ- এর এই গঠনতন্ত্র প্রণীত ও প্রবর্তিত হইল।

 

প্রথম অধ্যায়

নাম, মৌলিক আকীদা, উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য,

স্থায়ী কর্মনীতি, দাওয়াত এবং স্থায়ী কর্মসূচী

নাম

ধারা-১

এই সংগঠনের নাম হইবে "জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ"

মৌলিক আকিদা

ধারা-২

এই সংগঠনের মৌলিক আকিদা...

(লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল।

ব্যাখ্যা: (ক) এই আকীদার প্রথমাংশ অর্থাৎ আল্লাহর একমাত্র ইলাহ হওয়া এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাহারও ইলাহ না হওয়ার অর্থ এই যে, আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর মধ্যে যাহা কিছু আছে সেই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, প্রতিপালক, মা'বুদ এবং প্রাকৃতিক ও বিধিগত সার্বভৌম সত্ত্বা হইতেছেন একমাত্র আল্লাহ। এই সবের কোন এক দিক দিয়াও তেহই তাহার সহিত শরিক নাই।

এই মৌলিক সত্য কথাটি জানিয়া ও মানিয়া লইলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনিবার্যরূপে গ্রহণ করিতে হয়:

১। মানুষ আল্লাহ ব্যতীত আর কাহাকেও নিজোর পৃষ্ঠপোষক , কার্য সম্পাদনকারী, প্রয়োজন পূরণকারী, বিপদ দূরকারী, ফরিয়াদ শ্রাণকারী ও গ্রহণকারী এবং সাহায্যদাতা ও রক্ষাকর্তা মনে করিবে না। কেননা তিনি ব্যতীত আর কাহারও নিকট কোন ক্ষমতা নাই।

২। আল্লাহ ব্যতীত আর কাহাকেও কল্যাণকারী মনে করিবে না, কাহারও সম্পর্কে অন্তরে ভীতি অনুভব করিবে না, কাহারও উপর ইনর্ভর করিবে না, কাহারও প্রতি কোন আশা পোষন করিবে না এবং এই কথা বিশ্বাস করিবে না যে, আল্লাহর অনুমোদন ব্যতীত কাহারও উপর কোন বিপদ-মুসীবত আপর্তিত হইতে পারে। কেননা সকল প্রকার ক্ষমতা ও ইখতিয়ার একমাত্র আল্লাহরই।

৩। আল্লাহ ব্যতীত আর কাহারও নিকট দোয়া বা প্রার্থনা করিবে না, কাহারও নিকট আশ্রয় খুঁজিবে না, কাহাকেও সাহায্যের জন্য ডাকিবে না এবং আল্লাহর ব্যবস্থাপনায় কাহাকেও এতখানি প্রভাবশালী বা শক্তিমান মনে করিবে না যে, তাহার সুপারিশে আল্লাহর ফায়সালা পরিবর্তিত হইতে পারে। কেননা তাঁহার রাজ্যে সকলেই ক্ষমতাহীন প্রজা মাত্র।

৪। আল্লাহ ব্যতীত আর কাহারও সম্মুখে মাথা নত করিবে না এবং কাহারও উদ্দেশে মানত করিবে না। কেননা এক আল্লাহ ব্যতীত ইবাদত (দাসত্ব আনুগত্য ও উপাসনা) পাইবার অধিকারী আর কেহই নাই।

৫। আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, কাহাকেও নিজস্বভাবে আদেশ ও নিষেধ করিবার অধিকারী মনে করিবে না, কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইনপ্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে। কেননা স্বীয় সমগ্র রাজ্যের নিরঙ্কুশ মালিকানা ও সৃষ্টিলোকের সার্বভৌমত্বের অধিকার আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহারও আসলেই না।

উপরিউক্ত আকীদা অনুযায়ী নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও মানিয়া লওয়া আবশ্যক:

১। মানুষ স্বীয় স্বাধীন ইচ্ছা ও আযাদী কুরবানী করিবে, নফসের আচ্ছা-বাসনার দাসত্ব পরিত্যাগ করিবে এবং যে আল্লাহকে ইলাহ মানিয়া লইয়াছে একনিষ্ঠভাবে একমাত্র তাঁহারই বান্দাহ ও দাস হইয়া জীবন যাপন করিবে।

২। নিজেকে কোন কিছুরই স্বাধীন ইচ্ছাসম্পন্ন মালিক মনে করিবে না বরং স্বীয় জীবন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, মানসিক ও দৈহিক শক্তি তথা সবকিছুকে আল্লাহর মালিকানাধীন ও তাঁহার নিকট হইতে প্রাপ্ত আমানত মনে করিবে।

৩। নিজেকে আল্লাহর নিকট দায়ী ও জবাবদিহি করিতে বাধ্য মনে করিবে, শক্তি-সামর্থ্যের ব্যবহার এবং স্বীয় আচরণ ও ক্ষমতা প্রয়োগে সবসময় সত্যের প্রতি লক্ষ্য রাখিবে যে, পরকালে আল্লাহ তা'আলার সম্মুখে এইসব বিষয়ের হিসাব অবশ্যই দিতে হইবে।

৪। আল্লাহর যাহা পছন্দ তাহাকেই নিজের পছন্দ এবং যাহা তাঁহার অপছন্দ তাহাকেই নিজের অপছন্দরূপে গ্রহণ করিবে।

৫। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁহার নৈকট্য লাভকেই নিজের যাতীয় চেষ্টা সাধনার চুড়ান্ত লক্ষ্য এবং নিজের সমগ্র তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করিবে।

৬। স্বীয় নৈতিক চরিত্র, আচার-ব্যবহার এং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ঢ, এককথায় জীবনের সর্ববিষয়ে কেবল আল্লাহর বিধানকেই একমাত্র হিদায়াত হিসাবে মানিয়া লইবে এবং আল্লাহর দেয়া শরিয়তের বিপরীত যাবতীয় নিয়ম-নীতি ও পন্থা পদ্ধতিকে প্রত্যাখান করিবে।

ব্যাখ্যা: (খ) এই আকিদার দ্বিতীয় অংশ - হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল হওয়ার অর্থ এই যে, বিশ্বের একমাত্র বাদশাহর (আল্লাহর) পক্ষ হইতে বিশ্বের সকল মানুষের প্রতা সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে একমাত্র নিভুর্ল হিদায়াত ও আইন-বিধান প্রেরিত হইয়াছে এবং এই হিদায়াত ও আইন-বিধান অনুযায়ী কাজ করিয়া পূর্ণাঙ্গ বাস্তব নমুনা কায়েম করিবার জন্যই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেক উহা নিযুক্ত করা হইয়াছে।

যাহারা এই পরম সত্য ও প্রকৃত বিষয়কে জানিয়া ও মানিয়া লইবেন তাহাদের কর্তব্য হইবেঃ

১। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট হইতে যেই হিদায়াত ও আইন-বিধান প্রামাণ্য সূত্রে পাওয়া যাইবে তাহা দ্বিধাহীন ও অকুন্ঠচিত্তে গ্রহণ করা;

২। কোন কাজে উদ্যোগী হওয়া বা কোন নিয়ম পদ্ধতি অনুসরণ হইতে বিরত থাকিবার জন্য আল্লাহর রাসূলের নিকট হইতে প্রাপ্ত আদেশ বা নিষেধকেই যথেষ্ট মনে করা;

৩। আল্লাহর রাসূল ব্যতীত অপর কাহারও স্বয়ংসম্পূর্ণ নেতৃত্ব মানিয়া না লওয়া, কেননা অন্য কাহারও আনুগত্য হইবে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতের অধীন;

৪। জীবনের সকল ব্যাপারেই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতকে অকাট্য প্রমাণ, বিশ্বস্তসূত্র ও নিভুর্ল জ্ঞানের একমাত্র উৎসরূপে গণ্য করা। যেইসব ধারণা, খেয়াল, বিশ্বাস কিংবা নিয়ম-নীতি ও পন্থা উহার (কুরআন ও সুন্নাহর) বিপনীত তাহা পরিত্যাগ করা এবং কোন সমস্যার সমাধান প্রয়োজন হইলে তাহার জন্য হিদায়াত লাভের উদ্দেশ্যেও এই উৎসের দিকেই ধাবিত হওয়া;

৫। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক, বংশীয় ও জাতিগত, দলীয় ও সম্প্রদায়গত, আঞ্চলিক ও ভাষাগত তথা সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদ হইতে মন-মগজকে মুক্ত ও পবিত্র করিয়া লওয়া এবং কাহারও ভাণবাসা বা অন্ধ ভক্তিতে এমনভাবে বন্দী না হওয়া যাহার দরুন রাসূলের উপস্থাপিত সত্যের প্রতি ভালবাসা ও ভক্তির উপর জয়ী কিংবা তাহার প্রতিদন্দ্বি হইয়া দাঁড়াইতে পারে;

৬। মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন চরিত্রকে কুরআনের বাস্বব ব্যাখ্যা এবং উহাকে সকল ব্যাপারে সত্যের একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে মানিয়া লওয়া। আল্লাহর রাসূল ব্যতীত আর কাহাকেও ভুলের ঊর্ধ্বে মনে না করা, কাহারও অন্ধ গোলামীতে নিমিজ্জত না হউয়া বরং প্রত্যেককেই আল্লাহর দেয়া এই মাপকাঠিতে যাচাই ও পরখ করিয়া যাহার যেই মর্যাদা হইবে তাহাকে সই মর্যদা দেয়া;

৭। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এ নবুওয়াতের পরে কোন ব্যক্তির এমন কোন মর্যাদা মানিয়া না লওয়া যাহার আনুগত্য করা বা না করার ভিত্তিতে ঈমান ও কুফর সম্পর্কেফায়সালা হইতে পারে।

উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

 ধারা-৩

বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানব জাতির কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত দ্বীন (ইসলামী জীবন বিধান) কায়েমের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন সাফল্য অর্জন করাই জামায়াতে বাংলাদেশ-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

ব্যাখ্যা: জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর দৃষ্টিতে দ্বীন ও ইসলামী জীবন বিধান একই অর্থবোধক পরিভাষা। তাই ইসলামী জীবন বিধান কায়েম করাই কুরআন মজীদে ব্যবহৃত 'ইকামাতে দ্বীন' পরিভাষাটির সঠিক অর্থ।

আল্লাহর দ্বীন কায়েম করিবার অর্থ উহার অংশবিশেষ কায়েম করা নয়, বরং পরিপূর্ণ দ্বীন কায়েম করা। নামাজ, রোজা, হজ্জ ও ও যাকাত, অর্থনীতি, সমাজনীতি, তামাদ্দুন, রাজনীতি ও আধ্যাত্মিকতা ইত্যাদি সবকিছু লইয়াই পূণৃআঙ্গ ইসলাম। মু'মিন ব্যিক্তর কাজই হইতেছে এই ইসলামকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত অথবা ইহার কেন অংশ বর্জন না করিয়া উহাকে উহাকে সম্পূর্ণরূপে কায়েম করিবার জন্য চেষ্টা ও সাধনা করা।

উপরিউক্ত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিলের জন্য জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম নিম্নরূপ হইবে:

১। ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবন ও ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বপ্রকার আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হুমকি এবং বিশৃং্খলা হইতে রক্ষা করিবার প্রচেষ্টা চালান।

ব্যাখ্যা: এইখানে সার্বভৌমত্ব শব্দটি ভৌগলিক অর্থে ব্যবহার করা হইয়াছে। ইসলামে আইনগত সার্বভৌমত্বের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।

২। দায়িত্বশীল নাগরিক এবং চরিত্রবান ও যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে শোষনহীন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করিয়া জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করা।

৩। ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব গড়িয়া তোলা এবং বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সং্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা।

স্থায়ী কর্মনীতি

ধারা-৪

জামায়াতের স্থায়ী কর্মনীতি নিম্নরূপ হইবে:

১। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা কোনকর্মপন্থা গ্রহণের সময় জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর নির্দেশ ও বিধানের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করিবে।

২। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিলের জন্য জামায়াতে ইসলামী এমন কোন উপায় ও পন্থা অবলম্বন করিবে না যাহা সততা ও বিশ্বাসপরায়নতার পরিপন্থি কিংবা যাহার ফলে দুনিয়ার ফিতনা ও ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি হয়।

৩। জামায়াত উহার বাঞ্চিত সংশোধন বিপ্লব কার্যকর করিবার জন্য নিয়মতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করিবে। অর্থাৎ দাওয়াত সম্প্রসারণ এবং সংগঠন ও প্রশিক্ষনের মাধ্যমে লোকদের মন-মগজ ও চরিত্রের সংশোধন এবং জামায়াতের অনুকূলে জনমত গঠন করিবে।

দাওয়াত

ধারা-৫

জামায়াতের দাওয়াত নিম্নরূপ হইবে:

১। সাধারণভাবে সকল মানুষ ও বিশেষভাবে মুসলিমদের প্রতি আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর আনুগত্য করিবার আহ্বান।

২। ইসলাম গ্রহণকারী ও ঈমানের দাবীদার সকল মানুষের প্রতি বাস্তব জীবনে কথা ও কাজের গরমিল পরিহার করিয়া খাঁটি মুসলিম হওয়ার আহ্বান।

৩। সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষন ও অবিচারের অবসান ঘটানোর আহ্বান।

বি:দ্র: জামায়াতের পক্ষ হইতে যেই দাওয়াত পেশ করা হইবে তাহা জামায়াতের আকীদা এবং উদ্দেশ্য এ লক্ষ্যের দিকে হইবে, আমীরের ব্যিক্তত্ব বা এমারতের (আমীর পদের) দিকে নহে।

স্থায়ী কর্মসূচী

ধারা-৬

জামায়াতের স্থায়ী কর্মসূচী নিম্নরূপ হইবে:

১। সর্বশ্রেণীর মানুষের নিকট ইসলামের প্রকৃত রূপ বিশ্লেষন করিয়া চিন্তার বিশুদ্ধকরণ ও বিকাশ সাধনের মাধ্যমে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের অনুসরণ ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অনুভূতি জাগ্রত করা।

২। ইসলামকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করিবার সংগ্রামে আগ্রহী সৎ ব্যক্তিদিগকে সংগঠিত করা এবং তাহাদিগকে জাহিলিয়াতের যাতীয় চ্যালেঞ্জের মুকাবিলায় ইসলামের শ্রষ্ঠত্ব প্রমাণ ও ইসলাম কায়েম করিবার যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরূপে গড়িয়া তুলিবার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ দান করা।

৩। ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সামাজিহ সংশোধন, নৈতিক পুনর্গঠন ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সাধন এবং দুঃস্থ মানবতার সেবা করা।

৪। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্চিত সংশোধন আনয়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।

দ্বিতীয় অধ্যায়

রুকন (সদস্য) হওয়ার শর্তাবলী, রুকন (সদস্য) হওয়ার নিয়ম, রুকনের (সদস্যর) দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং মহিলা রুকন (সদস্যার) দায়িত্ব ও কর্তব্য

রুকন (সদস্য) হওয়ার শর্তাবলী

 ধারা-৭

যে কোন সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন ও পূর্ণবয়স্ক নর-নারী এই জামায়াতের রুকন (সদস্য) হইতে পারিবেন যদি তিনি-

১। জামায়াতের মৌলিক আকিদা উহার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণসহ বুঝিয়া লওয়ার পর এই স্বাক্ষ্য দেন যে, ইহাই তাহার জীবনের আকিদা;

২। জামায়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য উহার ব্যাখ্যা সহকারে বুঝিয়া লওয়ার পর স্বীকার করেন যে, ইহাই তাহার জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য;

৩। এই গঠনতন্ত্র পাঠ করিবার পর এই ওয়াদা করেন যে, তিনি ইহার অনুসরণে জামায়াতের নিয়ম-শৃঙ্খলা মানিয়া চলিবেন;

৪। শরিয়তের নির্ধারিত ফরম ও ওয়াজিবসমূহ রীতিমত আদায় করেন এবং কবীরা গুণাহ হইতে বিরত থাকেন;

৫। আল্লাহর না-ফরমানীর পর্যায়ে পড়ে উপার্জনের এমন কোন উপায় গ্রহণ না করেন;

৬। হারাম পথে অর্জিত কিংবা হকদারের হক নষ্ট করা কোন সম্পদ বা সম্পত্তি তাহার দখলে থাকিলে তাহা পরিত্যাগ করেন বা হকদারের হক ফেরত দেন।

(ব্যাখ্যা: হক ফেরত দেওয়ার কাজ কেবল তখনই করিতে হইবে যখন হকদার পরিচিত এবং যে হক নষ্ট হইয়াছে তাহও নির্ধারিত হইবে। অন্যথায়, তওবা করিয়া ভবিষ্যতের জন্য কর্মনীতি পরিবর্তন ও সংশোধন করিয়া লইতে হইবে।)

৭। এমন কোন পার্টি বা প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পক্য না রাখেন যাহার মূলনীতি, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জামায়াতে ইসলামীর আকীদা, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং কর্মনীতির পরিপন্থি এবং

৮। জামায়াতের সাংগঠনিক দায়িত্বশীলগণের দৃষ্টিতে রুকন (সদস্য০ হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন।

রুকন(সদস্য) হওয়ার নিয়ম

ধারা-৮

৭ নং ধারা অনুসারে রুকনিয়াত (সদস্যপদ) লাভের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি রুকন (সদস্য) হইবার অভিপ্রায় জানাইলে আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কর্তৃক নির্ধারিত পন্থা অনুসারে উক্ত ব্যক্তির রুকনিয়াত (সদস্যপদ) মঞ্জুর করিবেন। রুকনিয়াত (সদস্যপদ) মঞ্জুরীপ্রাপ্ত ব্যক্তি আমীরে জামায়াত বা তাহার কোন প্রতিনিধির সামনে রুকনিয়াতের (সদস্যপদের) শপথ গ্রহণ করিবেন এবং শপথ গ্রহনের দিন হইতেই তিনি রুকন (সদস্য) গণ্য হইবেন। 

রুকনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

ধারা-৯

(ক) জামায়াতে শামিল হওয়ার পর প্রত্যেক রুকন (সদস্য) নিজের জীবনে নিম্নরূপ পরিবর্তন আনিতে সর্বদা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাইবেনঃ

১। দ্বীন সম্পর্কে অন্ততঃ এতটুকু জ্ঞান অর্জন করিতে হইবে যাহাতে তিনি ইসলাম ও জাহিলিয়াত (ইসলামের বিপরীতে মতবাদ ও চিন্তাধারা) এর পার্থক্য বুঝিতে পারিবেন এবং আল্লাহর নির্ধারিত শরিয়তের সীমা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হইবেন।

২। নিজের আকীদা-বিশ্বাস, চিন্তা-ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজ-কর্মকে কুরআন ও সুন্নাহ মুতাবিক গড়িয়া লইবেন। নিজ জীবনের উদ্দেশ্য, মূল্যমান, পছন্দ অপছন্দ এবং আনুগত্যের কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করিয়া এই সবকিছুকে আল্লাহর সন্তোষের অনুকূলে আনয়ন করিবেন। আর স্বেচ্ছাচারিতা ও আত্মপূজা পরিহার করিয়া নিজেকে সম্পূণূরূপে আল্লাহর বিধানের একান্ত অনুসারী ও অধীন বানাইয়া লইবেন।

৩। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতের বিপরীত সকল প্রকার জাহিলী নিয়ম-প্রথা ও রসম-রেওয়াজ হইতে নিজের জীবনকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র করিবেন এবং ভিতর ও বাহিরকে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী গড়িয়া তুলিতে অধিকতর প্রচেষ্টা চালাইবেন।

৪। আত্মম্ভরিতা ও পার্থিব স্বার্থের ভিত্তিতে যেসব হিংসা-বিদ্বেষ, ঝোঁক-প্রবনতা, ঝগড়া-ঝাটি ও বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হইয়া থাকে এবং দ্বীন ইসলামে যেসব বিষয়ের কোনই গুরুত্ব নাই তাহা হইতে নিজের অন্তর ও জীবনকে পবিত্র রাখিবেন।

৫। ফাসিক ও খোদাবিমুখ লোকদের সহিত দ্বীনের প্রয়োজন ব্যতীত সকল বন্ধুত্ব-ভালবাসা পরিহার করিয়া চলিবেন এবং নেক লোকদের সহিত দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করিবেন।

৬। নিজের সকল কাজ-কর্ম আল্লাহ-ভীতি, আল্লাহর একনিষ্ঠ আনুগত্য, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করিবেন।

৭। নিজ পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পারিপার্শ্বিক এলাকার লোকদের মধ্যে দ্বীনী ভাবধারা প্রচার ও প্রসার এবং দ্বীনের সাক্ষ্য দানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিবেন।

৮। আল্লাহর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করিয়া নিজের সকল চেষ্টা-সাধনা নিয়ন্ত্রিত করিবেন এবং জীবন ধারণের প্রকৃত প্রয়োজন ব্যতীত এই উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করে না এমন সকল প্রকার তৎপরতা হইতে নিজেকে মুক্ত রাখিবেন।

বি:দ্র: এইসব পরিবর্তন সকল রুকনের (সদস্যের) মধ্যে পূর্ণমাত্রায়, সমভাবে ও একযোগে সাধিত হওয়া সম্ভব নয় বটে, তবে প্রত্যেক রুকনকেই (সদস্যকেই) এইসব ক্ষেত্রে পূর্ণত্ব লাভের জন্য অবিরাম চেষ্টা করিতে হইবে। কেননা এইসব পরিবর্তনের মান অনুসারেই "জামায়াতে ইসলামীর" মধ্যে প্রত্যেক রুকনের (সদস্যের) মর্যাদা নির্ধারিত হইবে।

(খ) জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যেক রুকন (সদস্য) পরিচিত লোকদের মধ্যে এবং উহার বাহিরে যেখানে তিনি পৌঁছিতে পারেন, আল্লাহর বান্দাদের সম্মুখে সাধারণভাবে জামায়াতের আকীদা, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য (২ ও ৩ ধারায় প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুসারে) সিবস্তারে পেশ করিবেন। যাহারা এই আকীদা এবং উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে গ্রহণ করিবেন, তাহাদিগকে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাইবার জন্য উদ্বুদ্ধ করিবেন। আর যাহারা এই প্রচেষ্টা চালাইবার জন্য প্রস্তুত হইবেন, তাহাদিগকে জামায়াতে ইসলামীর রুকন (সদস্য) হওয়ার আহ্বান জানাইবেন।

মহিলা রুকনের (সদস্যার) দায়িত্ব ও কর্তব্য

ধারা-১০

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা রুকনগণকে (সদস্যাগণকে) তাহাদের নিজস্ব কর্মক্ষেত গঠনতন্ত্রের ৯ ধারায় উল্লিখিত সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিতে হইবে। অবশ্য তাহাদিগকে নিম্নলিখিত কর্তব্যের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখিতে হইবেঃ

১। নিজের স্বামী, পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং পরিচিত ও অপরিচিত অন্যান্য মহিলাদের মধ্যে জামায়াতের আকীদা এবং উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পেশ করিয়া তাহা কবুল করিবার জন্য আহবান জানাইবেন।

২। নিজের সন্তান-সন্ততির অন্তরে ঈমানের আলো সৃষ্টি করিতে এবং তাহাদিগকে ইসলামের অনুসারী বানাইতে চেষ্টা করিবেন।

৩। তাহার স্বামী, পুত্র, পিতা ও ভাই যদি জামায়াতে শামিল হইয়া থাকেন, আন্তরিকতার সহিত তাহাদিগকে সাহসী ও আশাবাদী করিয়া তুলিবেন। জামায়াতের কাজে যথাসম্ভব তাহাদিগকে সহযোগীতা করিবেন এবং এই পথে কোন বিপদ আসিয়া পড়িলে ধৈর্য ও দৃঢ়তা অবলম্বন করিবেন।

৪। তাহার স্বামী ও মুরব্বী যদি জাহিলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত থাকে, হারাম পথে রোজগার করে কিংবা গুণাহের কাজে লিপ্ত থাকে, তবে ধৈর্য সহকারে তাহাদের সংশোধনের জন্য চেষ্টা করিবেন। তাহাদের হারাম উপার্জন ও গোমরাহী হইতে নিজেকে দূরে রাখিতে চেষ্টা করিবেন আর তাহারা আল্লাহ ও রাসূলের নাফরমানি হয় এমন কোন কাজের আদেশ করিলে তাহা মানিতে অস্বীকার করিবেন এবং আখিরাতের শাস্তির ভয়েই মানিতে অক্ষম বলিয়া শান্তভাবে বুঝাইবেন।

ধারা-১১

কোন ব্যক্তি যদি এই গঠনতন্ত্রে বর্ণিত আকিদা, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, কর্মনীতি, কর্মসূচী এবং সংগঠন পদ্ধতির সহিত ঐক্যমত পোষন করা সত্বেও রুকন (সদস্য) হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে সক্ষম না হন, তবে তিনি দ্বীন ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টায় শরীক হওয়ার উদ্দেশ্যে জামায়াতের সহযোগী সদস্যরূপে কাজ করিতে পারিবেন।

তৃতীয় অধ্যায়

জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো

সাংগঠনিক স্তর

ধারা-১২

জামায়াতের সাংগঠনিক ম্তর নিম্নরূপ:

কেন্দ্রিয় সংগঠন, জিলা সংগঠন, থানা সংগঠন ও ইউনিঙন/ পৌরসভা সংগঠন।

কেন্দ্রীয় সংগঠন

ধারা-১৩

জামায়াতে ইসলামী বাঙলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সংগঠন নিম্নলিখিত সংস্থা ও পদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে:

১। কেন্দ্রীয় রুকন (সদস্য) সম্মেলন,

২। আমীরে জামায়াত,

৩। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা;

৪। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং

৫। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।

কেন্দ্রীয় রুকন (সদস্য) সম্মেলন

ধারা-১৪

১। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ- এর সকল বিষয়ে রুকন (সদস্য) সম্মেলনই চুড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হইবে।

২। আমীরে জামায়াত কিংবা মজলিসে শুরা যখন প্রয়োজন মনে করিবেন রুকন (সদস্য) সম্মেলন আহবান করিতে পারিবেন।

আমীরে জামায়াত

ধারা-১৫

১। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর একজন আমীর থাকিবেন।

২। রুকনগণের (সদস্যগণের) সরাসরি গোপন ভোটে আমীরে জামায়াত তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হইবেন।

৩। আমীরে জামায়াতের নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যগণ তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করিবেন। তবে আমীর নির্বাচনে প্যানেল বহির্ভূত যে কোন রুকনকে (সদস্যকে) ভোট দেয়ার অধিকার ভোটারগণের থাকিবে।

৪। নির্বাচিত হওয়ার পর আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূলার নির্বাচিত সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন পরিচালকের সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন।

৫। সকল মা'রুফ কাজে রুকনগণ (সদস্যগণ) আমীরে জামায়াতের আনুগত্য করিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন।

৬। আমীরে জামায়াত যদি অনুর্ধ্ব ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহা হইলে তিনি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পরামর্শক্রমে নায়েবে আমীরগণের মধ্য হইতে েকান একজনকে উক্ত সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত আমীর নিয়োগ করিবেন। কান্তু আমীরের অক্ষমতাকাল ছয় মাসের বেশী হইলে অথবা আকস্মিকভাবে আমীরের পদ শূণ্য হইলে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অনুমোদন সাপেক্ষে নায়েবে আমীরগণের মধ্য হইতে কোন একজনকে অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত আমীর নিযুক্ত করিবে। এইরূপ নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত আমীর অনূর্ধ্ব ছয় মাসের মধ্যে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নতুন আমীর  নির্বাচেনর ব্যবস্থা করিবেন। কিন্তু বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা যুক্তিযুক্ত করিলে এইরূপ নির্বাচন যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা পর্যন্ত স্থগিত করিয়া অস্থায়ী ভারপ্রাপ্ত আমীরের কার্যক্রম বর্ধিত করিতে পারিবে, তবে এইরূপ স্থগিতকরণ ও কার্যকাল বর্ধিতকরণ গঠনতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠিতব্য আমীরের জামায়াত নির্বাচনের সময়সীমা অতিক্রম করিতে পারিবে না।

৭। আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করিবেন। কিন্তু দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত নাই এমন কোন বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পরবর্তী প্রথম অধিবেশেনর অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পরামর্শক্রমে জরুরী ও সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

আমীরে জামায়াতের দায়িত্ব, কর্তব্য, ক্ষমতা ও অধিকার

ধারা -১৬

১। দায়িত্ব

(ক) জামায়াতের সংগঠন ও আন্দোলন চালাইয়া যাওয়ার প্রধান দায়িত্ব আমীরে জামায়াতের উপর অর্পিত থাকিবে। আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা বো রুকন (সদস্য) সম্মেলনের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(খ) আমীরে জামায়াতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া জামায়াতের নীতি-নির্ধারণ ও সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফায়সালা করিবেন।

২। কর্তব্য

(ক) আমীরে জামায়াত আল্লাহ ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহু ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করাকেই সব কিছুর উপর অগ্রাধিকার দান করিবেন।

(খ) জামায়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনে জান-মাল দিয়া চেষ্টা করাকেই নিজের প্রধানতম কর্তব্য বলিয়া করিবেন।

(গ) নিজের কাজ ও স্বার্থের উপর জামায়াতের কাজ ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দান করিবেন।

(ঘ) জামায়াতের রুকনগনের (সদস্যগণের) মধ্যে সব সময়েই নিরপেক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে ফায়সালাপ করিবেন।

(ঙ) জামায়াতের আমানতসমূহের পূর্ণ হিফাজত করিবেন।

(চ) নিজে জামায়াতের গঠনতন্ত্র মানিয়া চলিবেন এবং তদনুযায়ী জামায়াতের সংগঠন ও শৃঙ্খলা কায়েম করা ও কায়েম রাখিবার জন্য পূর্ণমাত্রায় চেষ্টা করিবেন।

(ছ) জামায়াতের সকল সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকী করিবেন।

৩। ক্ষমতা ও অধিকার

(ক) আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় রুকন (সদস্য) সম্মেলন,কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন,কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক আহ্বান করিবেন।

(খ) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন করিবেন।

(গ) যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জরুরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হয় এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কিংবা কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের বৈঠক আহ্বান করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কিংবা কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এয সকল সদস্যের সহিত যোগাযোগ করা সম্ভব তাঁহাদের সহিত পরামর্শ করিয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

(ঘ) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পরামর্শক্রমে নায়েবে আমীর, সেক্রেটারী জেনারেল, বিভাগীয় সেক্রেটারী ও কর্মপরিষদের অন্যান্য সদস্য নিয়োগ ও অপসারণ করিবেন।।

(ঙ) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার আরোপিত বাধ্যবাধকতার অধীনে জামায়াতের সম্পদ ও সম্পত্তি ব্যয়-ব্যবহার করিবেন।

(চ) জামায়াতের রুকনিয়াত (সদস্যপদ) মঞ্জুর ও বাতিল করিবেন।

(ছ) অধস্তন জামায়াত সাসপেণ্ড করিতে কিংবা ভাঙ্গিয়া দিতে পারিবেন।

(জ) অধসবতন জামায়াত সমূহের আমীর নিয়োগ ও অপসারণ করিবেন।

(ঝ) জামায়াতের বায়তুলমাল হইতে জামায়াতের কাজে অর্থ ব্যয় করিবেন।

(ঞ) প্রয়োজনবোধে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সময়কাল অনূর্ধ্ব তিনমাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(ট) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য নন এমন রুকনকেও (সদস্যকেও) মজলিসের বৈঠকে শরীক করিতে পারিবেন।

(ঠ) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বৈঠকে মজলিসের সদস্য নন এমন রুকনের (সদস্যের) শরীক হওয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করিতে পারিবেন।

(ড) নিজের ক্ষমতা ও অধিকারার কোন অংশ অপর কাহাকেও অর্পন করিতে পারিবেন।

আমীরে জামায়াতের অপসারণ

ধারা-১৭

১। আমীরে জামায়াত যদি রুকনিয়াতের (সদস্যগণের) যোগ্যতা হারাইয়া ফেলেন অথবা কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যগণের বিবেচনায় অধিকাংশ রুকনের (সদস্যের) আস্থা হারাইয়া ফেলেন, তাহা হইলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা নিম্ন উপধারা অনুযায়ী তাহাকে অপসারণ করিতে পারিবে।

২। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক-তৃতীয়াংশ  সদস্য কর্তৃক আমীরে জামায়াতের নিকট লিখিতভাবে তাঁহার প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ প্রদানের এক মাসের মধ্যে আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন আহ্বান করিয়া উক্ত প্রস্তাব বিবেচনার জন্য পেশ করিবেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে এবং আমীরে জামায়াত তাহা মানিয়া লইলে আমীর পদ তৎক্ষণাৎ শূণ্য হইবে। কিন্তু আমীরে জামায়াত মজলিসের সিদ্ধান্ত মানিতে না পারিলে অনধিক তিন মাসের মধ্যে রুকন (সদস্য) সম্মেলেন বিষয়টি মীমাংসিত হইবে।

তবে রুকনগণের (সদস্যগণের) এভাটে আমীর জামায়াত যদি নিজ পদে বহাল থাকেন, তাহা হইলে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণকারী মজলিসে শূরা বাতিল গণ্য হইবে এবং অনধিক তিন মাসের মধ্যে নূতন মজলিশ নির্বাচিত করিতে হইবে। ইহার পূর্ব পর্যন্ত কর্মপরিষদ কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার কাজ চালাইয়া যাইবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা

ধারা-১৮

১। আমীরে জামায়াতকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দানের জন্য একটি মজলিসে শূরা থাকিবে। এই মজলিসের নাম হইবে 'কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা' অথবা মজলিসে শূরা, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।

২। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার কার্যকাল হইবে তিন বৎসর।

৩। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা প্রত্যেক নির্বাচনের পূর্বে পরবর্তী মজলিসে শূরায় জামায়াত রুকনগণের (সদস্যগণের) প্রতিনিধিত্বের আনুপাতিক হার নির্ধারণ করিবে।

৪। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা নিম্নরূপে গঠতি হইবে:

(ক) বিদায়ী মজলিস কর্তৃক নির্ধারেত জামায়াত রুকনগণের (সদস্যগণের) প্রতিনিধিত্বের আনুপাতিক হার মুতাবিক মজলিস সদস্য নির্বাচন করিতে হইবে, কিন্তু কোন সাংগঠনিক জিলা প্রতিনিধিত্ব হইতে বঞ্চিত হইবে না।

(খ) বিদায়ী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কর্তৃক নির্ধারিত হারে কেন্দ্রীয় ইউনিটের প্রতিনিধিত্ব থাকিবে।

(গ) ৪ নং উপধারার ক ও খ অনুযায়ী নির্বাচিত মজলিস সদস্যগণ দ্বিতীয় পর্যায়ে সারা দেশের রুকনগণের (সদস্যগণের) মধ্য হইতে ত্রিশ জন মজলিস সদস্য নির্বাচিত করিবেন।

(ঘ) মজলিসের সদস্য নন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এমন সদস্যগণ পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার  সদস্য হইবেন।

(ঙ) আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক রুকনকে (সদস্যগণকে) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মনোনীত করিতে পারিবেন যাহাদের মোট সংখ্যা কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার নির্বাচিত সদস্যগণের ১৫% এর অধিক হইবে না।

৫। (ক) আমীরে জামায়াত পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সভাপতি হইবেন।

(খ) সেক্রেটারী জেনারেল (যদি মজলিসে শূরার সদস্য না হইয়া থাকেন) পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সভাপতি হইবেন।

৬। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার কোন আসন শূণ্য হইলে তিন মাসের মধ্যে উহা পূরণ করিতে হইবে।

৭। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এক মাসের মধ্যেই আমীরে জামায়াত নির্বাচিত মজলিসের অধিবেশন আহ্বান করিবেন এবং এই অধিবেশনে মজলিসের প্রত্যেক সদস্য আমীরে জামায়াতের সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন

ধারা-১৯

১। আমীরে জামায়াত যে কোন সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন আহ্বান করিতে পারিবেন।

২। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশন বৎসরে অন্তত দুইটি হইবে।

৩। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াঙশের উপস্থিতিতে অধিবেশনের কোরাম হইবে।

৪। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের স্বাক্ষরিত রিকুইজিশন নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আমীরে জামায়াত মজলিসের অধিবেশন আহ্বান করিবেন।

৫। রিকুইজিশন নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অধিবেশন আহ্বান করা না হইলে নোটিশদাতা সদস্যগণ ১৫ দিনের নোটিশ দিয়া অধিবেশন আহ্বান করিতে পারিবেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার কর্তব্য ও ক্ষমতা

ধারা-২০

১। কর্তব্য

সামন্ষ্টিকভাবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ব্যক্তিগতভাবে উহার প্রত্যেক সদস্যের কর্তব্য নিম্নরূপ হইবেঃ

(ক) আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর আনুগত্য ও হুকুম পালনকে সবকিছুর উপরে গুরুত্ব প্রদান করা।

(খ) আমীরে জামায়াত, মজলিসে শূরা এবং উহার প্রত্যেক সদস্য এই গঠনতন্ত্রে বর্ণিত আকীদা, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবঙ ইসলামী নীতির অনুসারী আছেন কিনা তাহার পর্যবেক্ষণ করা।

(গ) মজলিসের অধিবেশনসমূহে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া।

(ঘ) প্রত্যেক বিষয়ে নিজের ইলম, ঈমান ও বিবেক-বুদ্ধি অনুযায়ী স্বীয় প্রকৃত মত স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করা।

(ঙ) জামায়াতের ভিতরে আলাদা জামায়াত বা গ্রুপ সৃষ্টির কাজ হইতে বিরত থাকা। মজলিসে শূরা কিংবা জামায়াতের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তিকে এই ধরনের কাজে লিপ্ত দেখা যায়, তবে তাঁহাকে উৎসাহিত কিংবা তাঁহার সম্পর্কে উপেক্ষার নীতি অবলম্বন না করিয়া তাঁহার সংশোধনের জন্য চেষ্টা করা।

(চ) জামায়াত ও উহার কাজে যেখানে যতখানি দোষ-ত্রুটি অনুভূত হইবে তাহা দূর করিবার জন্য চেষ্টা করা।

২। ক্ষমতা

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ক্ষমতা নিম্নরূপ হইবেঃ

(ক) জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যাদান ও উহার সংশোধন।

(খ) কেন্দ্রীয় বাইতুল মালের হিসাব পরীক্ষার জন্য অডিটর নিয়োগ এবং উহার পেশকৃত রিপোর্ট বিবেচনা।

(গ) কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন।

(ঘ) জামায়াতের কেন্দ্রিয় পরিকল্পনা ও বাজেট অনুমোদন।

(ঙ) আমীরে জামায়াত ও তাঁহার অধীন কেন্দ্রীয় বিভাগসমূহের পরিচালকবৃন্দের জিজ্ঞাসাবাদ ও কাজ-কর্মের পর্যালোচনা।

(চ) পার্লামেন্টারী বোর্ড গঠন ও উহার কর্তব্য নির্ধারণ।

(ছ) প্রয়োজন হইলে বিশেষ অবস্থায় রুকন (সদস্য) সম্মেলনে যোগদানের জন্য রুকনগণের (সদস্যগণের) প্রতিনিধি নির্বাচন।

(জ) জামায়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং কর্মসূচি সম্পর্কে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বাহিরে যে সমস্যা দেখা দিবে, সে সম্পর্কে প্রস্তাব গ্রহণ কিংবা অপর কোন সমীচীন উপায়ে স্বীয় মত প্রচার ও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ।

(ঝ) কেন্দীয় রুকন (সদস্য) সম্মেলন ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনসমূহের কাজ-কর্মের নিয়ম প্রণালী প্রণয়ন।

(ঞ) জামায়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিলের জন্য উহার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ।

(ট) মোট সদসে্যর দুই তৃতীয়াংশের মতের ভিত্তিতে আমীরে জামায়াতের অপসারণ।

(ঠ) স্বীয় ক্ষমতাবলী কিংবা উহার কিয়দংশ স্বীয় ইচ্ছানুরূপ শর্ত সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ কিংবা রুকনগণের (সদস্যগণের) সমন্বয়ে গঠিত কোন কমিটি বা বোর্ড আমীর বা সেক্রেটারী জেনারেল বা অপর কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিরর্গের উপর অর্পণ।

ধারা-২১

কোন সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট কোরামসংখ্যক মজলিস সদস্যও যদি কর্তব্য পালনের জন্য অধিবেশনে উপস্থিত হইতে না পারেন, তাহা হইলে সমগ্র দেশের উপজিলা/থানা আমীরগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি মজলিস কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার স্থলাভিষিক্ত হইবে এবং উহা নিজেই কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা গঠন করিবার ব্যবস্থা করিবে অথবা গঠনতন্ত্রের মূল ভাবধারাকে বহাল রাখিয়া আমীরে জামায়াতের সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য কোন উপযুক্ত ও বাস্তব উপায় উদ্ধাবন করিবে।

ধারা-২২

১। আমীরে জামায়াতের পদ শূণ্য হইলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অদিবেশন কিংবা ২১ ধারা অনুযায়ী উপজিলা/ থানা আমীরগণের মজলিসের অধিবেশন আহ্বান করিবার ক্ষমতা যথাক্রমে নায়েবে আমীর, সেক্রেটারী জেনারেল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার প্রত্যেক সদস্য এবং প্রত্যেক উপজিলা/ থানা আমীরের থাকিবে।

২। কোন বিষয়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত আমীরের জামায়াতের মতানৈক্য হইলে উক্ত বিষয়ে জামায়াতের রুকন (সদস্য) সম্মেলনের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ

ধারা-২৩

(ক) কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ

১। আমীরে জামায়াতকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক নায়েবে আমীর, একজন সেক্রেটারী জেনারেল, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, বিভাগীয় সেক্রেটারী ও অন্যান্য সদস্য সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠিত হইবে।

২। আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করিবেন।

৩। আমীরে জামায়াতের আহ্বানে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হইবে।

৪। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার প্রত্যেক নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ নুতন করিয়া গঠন করিতে হইবে।

৫। সামস্টিকভাবে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং ব্যক্তিগতভাবে উহারা সদস্যগণ আমীরে জামায়াতের নিকট দায়ী থাকবেন।

৬। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বৈঠক হইতেছে না বৈঠক আহ্বান করা সম্ভব হইতেছে না, এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় কর্ম র্পরিষদ কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সকল ক্ষমতা ও অধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের কোন পদক্ষেপ কিংবা কোন ফায়সালার অংশবিশেষ বা সম্পূর্ণটাই নামঞ্জুর করিবার অধিকার অবশ্যই কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার থাকিবে।

৭। উক্ত (৬) উপধারায় বর্ণিত অবস্থায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠনতন্ত্র সংশোধন অথবা আমীরে জামায়াতকে অপসারণ করিতে পারিবে না।

(খ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ

১। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য অনধিক পদের জন্য সদস্য সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠিত হইবে

২। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার প্রত্যেক প্রত্যেক নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন করিতে জইবে।

৩) আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরিমর্শ করিয়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন করিবেন।

৪) আমীরে জামায়াতের আহ্বানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিদ হইবে।

৫। সামষ্টিকভাবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং ব্যক্তিগতভাবে উহার সদস্যগণ আমীরে জামায়াতের নিকট দায়ী থাকিবেন।

৬। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের কার্যাবলী অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের নিকপ পেশ করিতে হইবে।

 

নায়েবে আমীর

ধারা-২৪

১। আমীরে জামায়াত মজলিসে শূরার পরামর্শক্রমে উহার সদস্যগণের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নায়েবে আমীর নিয়োগ করিবেন

২। নায়েবে আমীরগণ আমীরে জামায়াতকে সকল কাজে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করিবেন এবং আমীরে জামায়াত যাঁহাকে যে দায়িত্ব অর্পন করিবেন, তিনি তাহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন। ইহা ছাড়া ১৬(৬) ধারা মুতাবিক যদি কখনও কোন নায়েবে আমীরের উপর ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব অর্পিত হয় তাহা হইলে তিনি ঐ দায়িত্ব পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন।

৩। আমীরে জামায়াত যদি কোন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করিবার দায়িত্ব অর্পন করিবেন, তিনি ঐ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করিবেন।

 

সেক্রেটারী জেনারেল

১। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর একজন সেক্রেটারী জেনারেল থাকিবেন।

২। আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া তাঁহাকে নিয়োগ করিবেস।

৩। সেক্রটারী জেনারেল দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে আমীরে জামায়াতের সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন।

৪। আমীরে জামায়াত যতক্ষণ তাঁহার কাজ-কর্ম সন্তোষজনক বলিয়া বিবেচনা করিবেন, ততক্ষণই তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। কিন্তু তাঁহার অপসারণ কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পরামর্শ সহকারে হইতে হইবে।

৫। সেক্রেটারী জেনারেল আমীরে জামায়াতের কার্য সম্পাদনে সর্বতোভাবে সহযোগিতা এবং বিভাগীয় সেক্রেটারীগণের তদারক করিবেন।

৬। সেক্রটারী জেনারেল আমীরে জামায়াতের সোপর্দ করা সকল কতর্ব্য পালন এবং ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

৭। তিনি স্বীয় কাজের জন্য আমীরে জামায়াতের নিকট দায়ী থাকিবেন।

৮। সেক্রেটারী জেনারেল কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার গৃহীত সিদ্ধান্তাবলী বাস্তবায়ন ও বিভাগীয় সেক্রেটারীগণের কাজের সমন্বয় সাধন করিবেন।

৯। কেন্দ্রীয় রুকন (সদস্য) সম্মেলন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অধিবেশন সমূহের কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্তাবলী সংরক্ষণ করিবেন।

১০। জামায়াতের যাবতিয় রেকর্ড ও কাগজপত্র সেক্রেটারী জেনারেল সংরক্ষণ করিবেন।

১১। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে আমীরে জামায়াতের পক্ষ হইতে জামায়াতের বার্ষিক রিপোর্ট ও পরবর্তী বৎসরের খসড়া পরিকল্পনা পেশ করিবেন।

১২। আমীরে জামায়াতের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ ও অপসারণ করিবেন।

 

সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল

ধারা-২৬

১। আমীরে জামায়াত প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল নিয়োগ করিবেন।

২। আমীরে জামায়াত সেক্রেটারী জেনারেলের কর্তব্য ও ক্ষমতার মধ্য হ্ইতে যতখানি প্রয়োজন মনে করিবেন সহকারী সেক্রেটারী জেনারেলগণকে অর্পন করিবেন।

৩। আমীরে জামায়াত যখন সেক্রেটারী জেনারেলের অর্বতমানে কোন একজন সহকারী সেক্রেটারী জেনারেলকে সেক্রেটারী জেনারেলের স্থলাভিষিক্ত করিবেন, তখন তাঁহার মর্যাদা এই গঠনতন্ত্রে সেক্রেটারী জেনারেলকে যাহা দেওয়া হইয়াছে তাহাই হইবে।

বিভাগীয় সেক্রেটারীবৃন্দ

ধারা-২৭

বিভাগয় সেক্রেটারীগণ আমীরে জামায়াত কর্তৃক অর্পিত নিজ নিজ বিভাগের কাজ পরিচালনা করিবেন এবং কাজের ব্যাপারে আমীরে জামায়াতকে পূর্ণ ওয়াকিফহাল রাখিবেন।

জিলা সংগঠন

ধারা-২৮

১। আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সহিত পরামর্ম করিয়া সাংগঠনিক জিলার সীমা নির্ধারণ করিবেন।

২। জিলা রুকন (সদস্য) সম্মেলন, জিলা আমীর, শর্ত পূরণ হইলে

৩। ইজলা জামায়াত কেন্দ্রীয় জামায়াতের অধীন হইবে এবং উহার সহিত সরাসরি সম্পর্ক রক্ষা করিয়া চলিবে।

৪। জিলার সকল রুকনই (সদস্যই) জিলা জামায়াতের আনুগত্য করিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।

জিলা আমীর

১। জিলা আমীর সাংগঠনিক জিলার দয়িত্বশীল হইবেন।

২। জিলা আমীর জিলায় আমীরে জামায়াতের প্রতিনিধি হইবেন।

৩। জিলা আমীর স্বীয় কাজের জন্য আমীরে জামায়াতের নিকট দায়ী থাকিবেন।

জিলা আমীরের নিয়োগ ও অপসারণ

ধারা-৩০

১। আমীরে জামায়াত জিলঅ রুকনগণের (সদস্যগণের) মতামত যাচাই করিয়া জিলা আমীর নিয়োগ করিবেন।

২। জিলা আমীর দুই বৎসেরর জন্য নিযুক্ত হইবেন।

৩। জিলা আমীর স্বীয় পদের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে আমীরে জামায়াত বা তাঁহার প্রতিনিধির সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন।

৪। জিলা আমীর যদি রুকনিয়াতের (সদস্যপদের) যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেন, অথবা সংগঠনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, অথবা জিলার অধিকাংশ রুকনের (সদস্যের) আস্থা হারাইয়া ফেলেন, তাহা হইলে আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পরামর্শক্রমে তাৎহাকে অপসারণ করিতে পারিবেন।

জিলা আমীরের কর্তব্য

ধারা-৩১

জিলা আমীর স্বীয় জিলায় সাংগঠনিক নিয়ম-শৃঙ্ক্ষলার জন্য দায়িত্বশীল হইবেন এবং তাঁহার কর্তব্য নিম্নরূপ হইবে:

১। জামায়াতের দাওয়াত, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং কর্মসূচীকে স্বীয় এলাকায় প্রচার ও তাহা বাস্তবায়িত করিবার জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

২। কেন্দ্রীয় জামায়াতের নির্দেশসমূহ পালন এবং উহার বাজেটে ধার্য অর্থ যথাসময়ে পরিশোধ করিবার ব্যবস্থা করা।

৩। স্বীয় এলাকার অবস্থা অবস্থা ও জামায়াতের কাজ-কর্ম সম্পর্কে কেন্দ্রীয় জামায়াতকে অবহিত রাখা।

৪। স্বীয় এলাকার অধস্তন জামায়াতসমূহ ও বিভিন্ন দায়িত্বশীলগণকে পরিচালনা করা, তদারক করা এবং তাহাদের নিকট হইতে কাজ বুঝিয়া লওয়া।

৫। স্বীয় এলাকার জামায়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য-সংশ্লিষ্ট কিংবা উহার উপর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়াদির যথাসময়ে খবর লওয়া ও সেই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৬। স্বীয় জিলার রুকনগণের (সদস্যগণের) তদারক ও মানোন্নয়নের সার্বিক প্রচেষ্টা চালান।

৭। এতদ্ব্যতীত অতিরিক্ত যেইসব কর্তব্য ও দায়িত্ব কেন্দ্রীয় জামায়াত হইতে অর্পণ করা হইবে তাহা পালন করা।

জিলা আমীরের ক্ষমতা

জিলা আমীরের ক্ষমতা নিম্নরূপ হইবে:

১। জিলা আমীর জিলা মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া আমীরে জামায়াতের সম্মতিক্রমে জিলা নায়েবে আমীর নিয়োগ করিতে পারিবেন।

২। তিনি জিলা মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া জিলার সেক্রেটারী এবং বিভাগীয় সেক্রেটারী নিয়োগ ও অপসারণ করিতে পারিবেন।

৩। জিলঅ দপ্তরে কর্মচারী নিয়োগ ও অপসারণ করিবেন।

৪। জিলা মজলিসে শূরা ও রুকন (সদস্য) বৈঠক আহ্বান করিবেন।

৫। জিলা মজলিসে শূরা কর্তৃক গৃহীত বাজেট অনুযায়ী বাইতুল মাল হইতে অর্থ ব্যয় এবং নিজের কর্তব্য পালনের ব্যাপারে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

৬। এতদ্ব্যতীত আমীরে জামায়াত কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

জিলা মজলিসে শূরা

ধারা-৩৩

জিলা মজলিসে শূরা যেইসব জিলায় গঠন করা যাইবে, এযখানে রুকন (সদস্য) সংখ্যা অন্ততঃ বিশ কিংবা উপজিলা/ থানা জামায়াত সংখ্যা অন্ততঃ পাঁচ হইবে। অবশ্য আমীরে জামায়াতের মতে বিশেষ কোন জিলার অবস্থা এই নিয়মের ব্যতিক্রম দাবী করিলে অনুরূপ করা যাইবে।

ধারা-৩৪

১। জিলঅ মজলিসে শূরা জিলার রুকনগণের (সদস্যগণের) দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত হইবে।

২। জিলা আমীর স্বীয় জিলার রুকনগণের (সদস্যগণের) পরামর্শক্রমে জিলা মজলিসে শূরার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করিবেন।

৩। জিলা মজলিসে শূরার নির্বাচন দুই বৎসরের জন্য হইবে।

৪। জিলা আমীর পদাধিকার বলে জিলা মজলিসে শূরার সভাপতি হইবেন।

৫। জিলা নায়েবে আমীর ও জিলা জিলা সেক্রেটারী (যদি মজলিসে শূরার সদস্য না হইয়া থাকেন)  পদাধিকার বলে জিলা মজলিসে শূরার সদস্য হইবেন।

৬। জিলা আমীর জিলা মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক রুকনকে (সদস্যকে) জিলা মজলিসে শূরার মনোনীত করিতে পারিবেন, যাহাদের মোট সংখ্যা জিলা মজলিসে শূরার নির্বাচিত সদস্যগণের এক-পঞ্চমাংশের অধিক হইবে না।

জিলা মজলিসে শূরার অধিবেশন

ধারা-৩৫

জিলা মজলিসে শূরার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার একমাসের মধ্যেই জিলা আমীর নির্বাচিত মজলিসের উদ্বোধনী অধিবেশন আহ্বান করিবেন এবং এই অধিবেশনে মজলিসের প্রত্যেক সদস্য জিলা আমীরের সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন।

২। জিলঅ মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশন বৎসরে কমপক্ষে তিনটি হইবে।

৩। জিলা মজলিস শূরার জরুরী অধিবেশন নিম্নলিখিত অবস্থায় যে কোন সময় আহ্বান করা যাইবে:

ক) জিরঅ আমীর ইহার প্রয়োজনবোধ করিলে, অথবা

খ) জিলা মজলিসে শূরার এক-তৃতীয়াংশ সদস্য লিখিতভাবে দাবী জানাইলে, অথবা

গ) আমীরে জামায়াত ইহা অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিলে।

৪। জিলা মজলিসে শূরার মোট সদস্য সঙখ্যার এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে অধিবেশনের কোরাম হইবে।

জিলঅ আমীর ও জিলা মজলিসে শূরার সম্পর্ক

ধারা-৩৬

১। জিলা মজলিসে শূরা গঠিত হইলে জিলা আমীর সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিলা মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।

২। দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন এবং মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত নাই এমন কোন বিষয়ে জিলা আমীর জিলা মজলিসে শূরার প্রথম অধিবেশনের অনুমোদন সাপেক্ষে জিলা কর্মপরিষদের সহিত পরামর্শ করিয়া জরুরী ও সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন।

৩। কোন বিষযে জিলা আমীর ও জিলা মজলিসে শূরার মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিলে বিষয়টি জিলা রুকন (সদস্য) সম্মেলনে পেশ করিতে হইবে। সেখানে কোন মীমাংসা না হইলে উহা আমীরে জামায়াতের নিকট পেশ করিতে হইবে।

উপজিলঅ/ থানা সেক্রেটারী

ধারা-৪৬

১। উপজিলা/ থানা আমীর, উপজিলঅ/থানা মজলিসে শূরা অথবা মজলিসে শূরার অবর্তমানে উপজিলঅ/ থানা রুকন(সদস্য) সম্মেলনের সহিত পরামর্শ করিয়া উপজিলঅ থানা সেক্রেটারী নিয়োগ করিতে পারিবেন।

২। উপজিলা/ থানা সেক্রেটারী স্বীয় পদের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে উপজিলা থানা আমীরের সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন।

৩। উপজিলা/ থানা সেক্রটারী ততক্ষণ পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন যতক্ষণ পর্যন্ত উপজিলঅ/ থানা আমীর তাঁহার কাজ-কর্ম সন্তোষজনক বলিয়া বিবেচনা করিবেন।

ইউনিয়ন/ পৌরসভা সংগঠন

ধারা-৪৭

১। যে ইউনিয়ন/ পৌরসভা অন্ততঃ তিনজন রুকন (সদস্য) হইলেন সেইখানে ইউনিয়ন/ পৌরসভা শাখা গঠন করা হইবে।

২। ইউনিয়ন/ পৌরসভা এলাকায় বসবাসকারী রুকনগণ (সদস্যগণ) ইউনিয়ন/পৌরসভা শাখার নিয়ম-শৃঙ্ক্ষলা মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন।

৩। ইউনিয়ন/ পৌরসভা শাখা সংশ্লিষ্ট উপজিলা/ থানা ও জিলা আমীরগণের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংগঠনের সহিত সম্পর্ক রক্ষা করিবে।

৪। কোন স্থানে তিনজনের কম সংখ্যক রুকন (সদস্য) থাকিলে তিনি বা তাঁহারা উপজিলা/ থানা আমীর বা জিলা আমীরের সহিত সম্পর্ক রক্ষা করিবেন।

ইউনিয়ন/ পৌরসভা

ধারা-৪৮

১। আমীরে জামায়াত রুকনগণের (সদস্যগণের) মত যাচাই করিয়া উপজিলা/ থানা আমীর ও জিলা আমীরের সুপারিশক্রমে এক বৎসরের জন্য ইউনিয়ন/ পৌরসভা আমীর নিয়োগ করিবেন।

২। ইউনিয়ন/ পৌরসভা আমীর নিয়োগ প্রাপ্তির পর এই গঠনতন্ত্রের ২ নং পরিশিষ্টে প্রদত্ত শপথনামা অনুসারে জিলা আমীর বা তাঁহার প্রতিনিধির সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন এবং জিলা আমীর আমীরে জামায়াতকে এই বিষয়ে অবহিত করবেন।

৩। ইউনিয়ন/ পৌরসভা আমীর যদি রুকনিয়াতের (সদস্যগণের) যোগ্যতা হারাইয়া ফেলেন, অথবা সংগঠনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, অথবা ইউনিয়ন/ পৌরসভার অধিকাংশ রুকনের (সদস্যের) আস্থা হারাইয়া ফেলেন, তাহা হইলে আমীরে জামায়াত তাঁহাকে অপসারণ করিতে পারিবেন।

ধারা-৪৯

ইউনিয়ন/ পৌরসভা আমীর নিজ স্থানে আমীরে জামায়াতের প্রতিনিধি হইবেন এবং উপজিলা/ থানা আমীর ও আমীরের মাধ্যমে আমীরে জামায়াতের নিকট দায়ী থাকিবেন।

ইউনিয়ন/ পৌরসভা মজলিসে শূরা

ধারা-৫০

পনের বা তদুর্দ্ধ সংখ্যক রুকন (সদস্য) বিশিষ্ট ইউনিয়ন/ পৌরসভা শাখায় আমীর প্রয়োজন বোধ করিলে রুকনগণের (সদস্যগণের) সহিত পরামর্শ করিয়া ইউনিয়ন/ পৌরসভা মজলিসে শূরা করিতে পারিবেন।

চতুর্থ অধ্যায়

মহিলা বিভাগ

কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ

(ক) কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ

১। মহিলা অঙ্গনে আন্দোলনের কাজ পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগ থাকিবে এবং ইহার নাম হইবে মহিলা বিভাগ, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।

২। আমীরে জামায়াতকে সহযোগিতা ও পরামর্শদানের জন্য একটি মজলিসে শূরা থাকিবে যাহার নাম হইবে মহিলা শূরা, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।

৩। আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া মহিলা মজলিসে শূরার আসন সংখ্যা এবং নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করিবেন।

৪। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ- এর মহিলা রুকনগণের (সদস্যগণের) ভোটে মহিলা মজলিসে শূরার সদস্যগণ তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হইবেন।

৫। আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সহিত পরামর্শ করিয়া